বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের কেনাকাটায় ২১ কোটি টাকার দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার : কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের আসবাবপত্র কেনাকাটায় প্রায় ২১ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার  রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের। দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাস তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
অন্য যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন, অধিদফতরের চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর আবদুর রশীদ, কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মো. ইউনুস, উপ-কর্মসূচী ব্যবস্থাপক কামরুল কিবরিয়া ও প্রধান সহকারী আবদুল মালেক। দুদকের পক্ষ থেকে উচ্চমান সহকারী খায়রুল আলমকেও জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। অফিস ও বাসা কোথাও তার সন্ধান পায়নি দুদক।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের আসবাবপত্র কেনাকাটার দুর্নীতির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।’ তবে আবদুর রশীদসহ বাকিরা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ কারণেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নথিপত্রও তলব করা হয়েছে।’ এর আগে এ ঘটনায় গত ১, ২, ৩ ও  ৪ এপ্রিল চার দফায় ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
দুদক জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে আসবাবপত্র কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ চান কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না পেয়েও প্রশাসনিক অনুমোদন না নিয়েই দরপত্র আহ্বান করেন তিনি। এতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আরও কারও অংশগ্রহণ ছিল না। কাজ পান মিয়া ছাদুল্লাহ বিন হাসানের মালিকাধীন এস এল ট্রেডার্স।
দুদক সূত্র জানায়, দুর্নীতি ধরা পড়ার পরও ভাগবাটোয়ারা করে আসবাবপত্র সরবরাহের বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অর্থ বরাদ্দ না থাকলেও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দের সরকারি আদেশও (জিও) জারি করেছিল দুর্নীতিবাজরা। গত বছরের ১৩ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্মসচিব ড.  আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিও এ ঘটনার তদন্ত করে। ওই বছরেরই ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে, অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ