বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

উন্নয়নের আড়ালে রক্তোৎসব চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন আ’লীগ

গতকাল রোববার বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে উন্নয়নের আড়ালে রক্তোৎসব চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, জনগণের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া রাজনৈতিক দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। এটি এখন মাফিয়াদের দলে পরিণত হয়েছে। গুম-খুন-অপহরণই হচ্ছে এদের বাণিজ্য।
গতকাল রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, মানুষের চোখের পানিতে বাংলাদেশের মাটি আজ কর্দমাক্ত, আর সেই কাদামাটিতে শেখ হাসিনার উন্নয়নের রথ আটকে গেছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী উন্নয়নের জিকিরে জনমনকে বিভ্রান্ত করা যায়নি। কারণ আওয়ামী উন্নয়নের আড়ালে যে রক্তোৎসব চলছে, তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিকে ঘৃণা করে। এ কারণেই নুসরাত, শাহীনুর, তনু, মিতুর মতো অসংখ্য নারী-কিশোরী প্রতিনিয়ত হত্যার বলি হচ্ছে। এ ম্যান্ডেটহীন সরকারের কারণেই অসংখ্য মানুষের কান্না ও দীর্ঘশ্বাসে বাংলাদেশের বাতাস ভারী হয়ে আছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, দেশের একজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী বলেছেন- দেশজুড়ে উন্নতির অন্তরালে আর্তনাদ চলছে। তিনি বলেছেন, এ রকম দুরাবস্থা বাংলাদেশে আর কখনও দেখা যায়নি। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, এ দলটি এমনই পাপহারা দল, যেখানে নিজেদের লোকেরা পাপ করার পরেও তা মোচন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ কখনই গণতন্ত্রের অনুশীলনের কোনো ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে দেয়নি। তারা একদলীয় মানসিকতা থেকে কখনও বের হতে পারেনি।
দেশে আইনের শাসন নেই অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আইনের শাসনের মূল কথা, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকার আইনানুযায়ী কার্যক্রম চালাবে। যাতে রাষ্ট্রের যেকোন নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে সে তার প্রতিকার পাবে। মোট কথা, যেখানে সরকারের সকল কাজ আইনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং যেখানে আইনের জায়গা সবকিছুর উর্ধ্বে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদেরকে জনগণ কি মনে করছে সেই তোয়াক্কা না করে সরকারের লোকেরা প্রায় প্রতিদিনই তারস্বরে বলে বেড়াচ্ছে দেশে গণতন্ত্র আছে। সরকার কোথাও হস্তক্ষেপ করছে না। এটা তাদের গায়ের জোরের কথা, প্রকৃত ঘটনা মানুষ প্রতিদিন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। এদেশে আইনের ঊধ্বের্  উঠে ব্যক্তির হুকুমই শেষ কথা। তবে হ্যাঁ, আইন আছে, প্রশাসন আছে, আদালত আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আছে, কিন্তু সবই প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠবস করে। এখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা অপরাধ করার পরেও কখনো কখনো আদালত কর্তৃক শাস্তি পেলেও নির্বিঘেœ মন্ত্রীত্ব করতে পারে। বিরোধী দলের লোকদের হত্যা করার পরেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়ে যায়। অথচ দেশের জনপ্রিয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকিয়ে রেখে জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন দলের হুমকি ধামকি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আওয়ামী নেতারা বলে বেড়ান বিএনপিকে নাকি উপড়ে ফেলা হবে। গণতন্ত্র হত্যা করে রাজনীতিকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন আওয়ামী নেতারা। আমরা সেই কথারই বাস্তবায়ন সর্বক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি। তবে অতীতে এই হুমকিদাতারা নিজেরা হারিয়ে গেছে। সাংবাদিক দম্পতি হত্যায় প্রভাবশালীদের জড়িতের আভাস ভেসে আসার কারণে সেই হত্যা মামলার আর অগ্রগতি হয় না। দেশব্যাপী নারী-শিশু-কিশোরী নির্যাতনসহ অন্যের সম্পত্তি দখলের পরেও কেবলমাত্র ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ার কারণে তাদের টিকিটি ছুঁতে ভয় পায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা, অথবা তাদের দুস্কর্মের সঙ্গী হয়। আওয়ামী লীগ এমনই পাপহরা দল, যেখানে নিজেদের লোকেরা পাপ করার পরেও তা মোচন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্রের অনুশীলনের কোন ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগ একদলীয় মানসিকতা থেকে কখনো বের হতে পারেনি। সেইজন্য এদের হাতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় বিচার বারবার ধ্বংস হয়েছে। সুযোগ ও মর্যাদার সমতা, চিন্তা, মত প্রকাশ, সংগঠন ও আন্দোলন করার ক্ষমতা, জীবন-যাপনের অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম্পদের মালিকানা রক্ষার স্বাধীনতা-অর্থাৎ নাগরিক স্বাধীনতাসহ সব স্বাধীনতাই বারবার বিপজ্জনক হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী একনায়করা ক্ষমতা ধরে রাখার সাথে নিবৃত্তিমূলক আটকাদেশের বিধান তৈরী করে তা নিষ্ঠুরভাবে প্রয়োগ করার ঘটনা দেশে দেশে আমরা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু নাৎসীবাদী শক্তির বিরোধী দল দমনের চিত্র আরও ভয়াবহ। নাৎসী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীর রহস্যজনক অন্তর্ধান ঘটে। গুম হয় জাতীয় জীবনের নিত্যদিনের অনুষঙ্গ।  মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে আটক থাকার পর সব মামলায় জামিন লাভ করা সত্ত্বেও জেলগেট থেকে বেরুনোর সময় আবারও নূতন মামলা দিয়ে গ্রেফতার আওয়ামী লীগের এক মহা আবিস্কার, বিএনপিসহ বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দিয়ে পূণ:গ্রেফতার বর্তমান আওয়ামী নাৎসীবাদী সরকারের বিরোধী দল দমনের আরেকটি পৈশাচিক দৃষ্টান্ত। এটি একটি চরম বেআইনী পন্থা, এই পন্থা অবলম্বন করা হয় শুধুমাত্র বিরোধী দলকে পর্যুদস্ত করার জন্য। এটি প্রধানমন্ত্রীর সৃষ্ট সর্বব্যাপী ঘৃনা ও বিভাজনের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। সকল মামলা থেকে জামিন লাভের পর রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি না দিয়ে পূণরায় মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলগেট থেকে আটক অবশ্যই একটি অপরাধ। বর্তমানে বাংলাদেশের কারাগারগুলো আওয়ামী দু:শাসন ও জুলুমের পীঠস্থান।
দলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন চলছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে গত বছর গ্রেফতারের পর তাকে বেশ কিছু সময় গুম করে রাখা হয়। গ্রেফতারের পর গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরেও অসংখ্যবার রিমান্ডে নেয়া হয়। এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের মাধ্যমে দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়। যেমনভাবে করা হচ্ছে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে। টুকুর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয় চরম হয়রানী এবং শরীর ও মনকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর স্ত্রী ছোট শিশুদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। উচ্চ আদালত কর্তৃক পূণরায় গ্রেফতার ও হয়রানী না করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে দুটি মামলা দেয়া আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সকল মামলায় জামিন পাওয়ার পরেও ঈদের প্রাক্কালে পুনরায় নতুন করে মামলা দেয়াতে পরিবারের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।  বাংলাদেশের জেলখানাগুলি অসুস্থ জীবন ও অকাল মৃত্যুর সহাবস্থান। আমি গুরুতর অসুস্থ সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে এই মূহুর্তে নি:শর্ত মুক্তি চাই। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন জোটে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ একে অপরের সাথে হাত মিলিয়েছে বলেই আজকে যুবনেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মতো যুবকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
 ভোটারবিহীন এই মধ্যরাতের সরকারের কাছ থেকে কল্যাণকর কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই মন্তব্য করে রিজভী বলেন, এই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতাকে ঘৃনা করে। এই কারণেই নুসরাত, শাহীনুর, তনু, মিতুর মতো অসংখ্য নারী-কিশোরী প্রতিনিয়ত হত্যার বলি হচ্ছে। এত হত্যা, নারী নির্যাতন-শিশু নির্যাতনের খবরে সংবাদপত্রের পাতা ভরে থাকে। এই ম্যান্ডেটহীন সরকারের কারণেই অসংখ্য মানুষের কান্না ও দীর্ঘশ্বাসে বাংলাদেশের বাতাস ভারী হয়ে আছে। দেশের একজন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি বলেছেন-দেশজুড়ে উন্নতির অন্তরালে আর্তনাদ চলছে। তিনি বলেছেন-এরকম দুরাবস্থা বাংলাদেশে আর কখনো দেখা যায়নি।   মানুষের চোখের পানিতে বাংলাদেশের মাটি কর্দমাক্ত, সেই কাদামাটিতে শেখ হাসিনার উন্নয়নের রথ আটকে গেছে। আওয়ামী উন্নয়নের জিকিরে জনমনকে বিভ্রান্ত করা যায়নি। কারণ আওয়ামী উন্নয়নের আড়ালে যে রক্তউৎসব চলছে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। তাই এদেশে যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে-ততদিন ভোট ডাকাতি ও সমাজে অবিচার-অনাচারের বাড়বাড়ন্ত থাকবেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নষ্ট প্রতীকে পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ