বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রূপসায় বোরো চাষে খরচ বাড়ায় বাম্পার ফলনেও হতাশায় কৃষক

খুলনা অফিস :  খুলনার রূপসায় বোরো চাষে খরচ বাড়ায় ,বাম্পার ফলনেও হতাশায় ভুগছে কৃষক। দুই মণ ধানের দামেও ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ একজন শ্রমিক মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়িতে বয়ে নিয়ে মাড়াই করে গৃহস্থকে এক দিনে এক মণের বেশি ধান দিতে পারেন না। আর্থিকভাবে এই ক্ষতি মেনে নিয়েই গৃহস্থরা বহিরাগত শ্রমিক চড়া দাম দিয়ে মাঠের ধান কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় ‘মড়ার ওপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘ফণী’। গত কয়েক দিনের ঝোড়ো হাওয়ায় মাঠের বেশির ভাগ ধান মাটিতে পড়েছে। জমেছে পানিও। ফলে ধান কাটায় অনীহা দেখা দিয়েছে কিষানদের মধ্যে। এ সুযোগে আরো বেশি মজুরি বাগিয়ে নিতে চাইছে তারা। ফলে রূপসায় কৃষকদের মধ্যে এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামের কৃষক মুনসুর শেখ বলেন, ‘ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে এলাকায় শ্রমিকের অভাব। দেশের উত্তর অঞ্চল থেকে আগত (জোন) কিষানরা চড়া দামে ধান কাটছেন। তবে ধানের বাজার মূল্য এরকম থাকলে আগামীতে অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারাবে। প্রতিদিন একজন কিষানকে তিনবেলা খাবারসহ ৬০০/৮০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০০-৪৫০ টাকা দরে। ফলে কিষানের দাম চুকিয়ে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষক পরিবারের।’

ঘাটভোগ ইউনিয়নের ঘাটভোগ গ্রামের বাসিন্দা চালের ডিলার মহিতোষ বলেন, ‘বহিরাগত কিষানের পাওনা পরিশোধ করতে কৃষক অল্প দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। একই গ্রামের রিপন মোল্লা বলেন, ‘অনেক চাষি সুদে বা ধারে টাকা নিয়ে চাষাবাদ করেন। এ বছর ধানের দাম না হওয়ায় অনেকেই দেনার দায়ে পথে বসবেন। খাজাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কুতুব বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অর্ধেকেরও কম দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। কারণ সরকার নির্ধারিত দাম পেতে কৃষকদের ধান নিয়ে যেতে হয় ১৫/২০ কিলোমিটার দূরের কিংবা বিভিন্ন উপজেলায়। তাতে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি! তাই ক্ষতি স্বীকার করেই স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।’ প্রতিবিঘা জমি চাষ করতে যে টাকা খরচ হয়। তার অর্ধেক টাকা লোকসান হবে। বিঘা প্রতি জমিতে ৫ হাজার টাকা দেনা হবে বর্তমান মূল্য হিসেবে।

আলাইপুর বাজারের পাইকারি ধান ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ধানের দাম অনেক কম। এবার ৪০০-৫০০ টাকা দরে ধান কেনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো। কিন্তু কৃষক সঠিক মূল্য না পাওয়া চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে ধান কাটা শ্রমিকের কিছু সংকট রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ