মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারতের ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত

১২ মে, এনডিটিভি : সাত ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের সাধারণ নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপে দেশটির ৬টি রাজ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী দিল্লিসহ এসব রাজ্যের ৫৯টি আসনের প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করে ভোটাররা। এই ধাপের ভোটগ্রহণ ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য বড় পরীক্ষা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে ২০১৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে এই ৫৯টি আসনের মধ্যে ৪৫টিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি। স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলে।

গত ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ভারতের নির্বাচনে সাত ধাপের ভোটগ্রহণ। ১৯ মে পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে ২৩ মে ফল ঘোষণা করা হবে। এবারের নির্বাচনে ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দুই হাজার রাজনৈতিক দলের প্রায় আট হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে ৫৪১ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন তারা।

গতকাল রবিবার উত্তর প্রদেশের ১৪টি, হরিয়ানার ১০টি, দিল্লির ৭টি, ঝাড়খন্ডের ৪টি এবং বিহার, মধ্য প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের ৮টি করে আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব আসনে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ১৭ লাখ। মোট এক লাখ ১৩ হাজার পোলিং বুথে তাদের ভোট নেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে আসনগুলোতে প্রায় ৬০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের তামলুক, কান্তি, ঘাটাল, বাকুড়া, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া এবং ঝারগ্রাম আসনে ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব আসনে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের মধ্যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করা হয়।

৫৯টি আসনে ভোটগ্রহণ ছাড়াও ত্রিপুরার ২৬টি আসনের ১৬৮টি পোলিং স্টেশনে রবিবার পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। গত ১১ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে অনিয়মের কারণে এসব কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা

ভারতে লোকসভার ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত সহিংস ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল মানুষজনের উদ্দেশ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দিল্লির উন্নয়নে বাধা সৃষ্টিকারীদের ভোট দেবেন না। মানুষের ভোটে দেশে পরিবর্তন সৃষ্টি হতে পারে।

 কেজরিওয়াল বলেন, ‘দিল্লিকে যারা পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেবে তাদেরকে আমরা সমর্থন করতে প্রস্তুত। আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য মোদি-শাহ (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ) জুটিকে ক্ষমতায় ফেরা বন্ধ করা। বিজেপি বাদে কেন্দ্রীয় সরকারে যেই ক্ষমতায় আসুক তাতে কোনও সমস্যা নেই।’

এদিকে, আজ ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে দলীয় এজেন্ট ঢোকাতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের সঙ্গে তৃণমূলের নারী সমর্থকের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। কেশপুরে তৃণমূলের নারী কর্মীরা মারমুখী হয়ে উঠলে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। যদিও তাতেও শেষরক্ষা হয়নি ভারতী ঘোষের। তিনি এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে উদ্ধার করে দাঁড় করালেও পায়ে আঘাত পেয়ে কেঁদে ফেলেন বিজেপি’র প্রভাবশালী প্রার্থী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ভারতী দেবী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ