শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ॥ আটক ২

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শনিবার সকালে হাত পা বাধা অবস্থায় স্থানীয়রা একটি ধান ক্ষেতের মধ্যে থেকে ওই ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। ধর্ষক খালকুলা গ্রামের আব্দুর রউফের পুত্র আলামীন পলাতক রয়েছে। রোববার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার কোলা দাসপাড়ায় গ্রামের মাঠে এ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী মাগুরার শালিখা উপজেলার কোটবাগ দাকিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। এ ঘটনার পর ধর্ষিতার বাবা মা শনিবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে কালীগঞ্জ থনাতে এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এদিকে আরো এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে থানা পুলিশ শনিবার সকালে ২ ধর্ষককে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো শহরের বলিদাপাড়া গ্রামের বদর উদ্দিনের পুত্র খায়রুল (২২) ও রবিউল ইসলামের পুত্র মোর্তজা বাপ্পী (২৩)। ধর্ষিতা শহরের আড়পাড়া আয়েশা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। গত মাসের ২৫ তারিখে ধর্ষণ ঘটনার ১৫ দিন পর শনিবার সকালে ধর্ষিতার পিতা কালীগঞ্জ থানাতে ৩ জন ধর্ষকের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করায় পুলিশ ওই দুইজনকে আটক করে।
ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর পরিবার ও থানা পুলিশ জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা দাসপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী শুক্রবার রাতে পাশের বাড়িতে মোবাইলে চার্জ দেবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতের অন্ধকারে লম্পট ধর্ষক খালকুলা গ্রামের আলামীন স্কুলছাত্রীর মুখ চেপে ধরে পাশের্^র একটি ফাকা মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর রাতভর তাকে ধর্ষণ শেষে হাত পা বেধে ফেলে রেখে যায়। সকালে তার পরিবার ও স্থানীয়রা ফাকা মাঠের মধ্যে থেকে তাকে উদ্ধার করে। দুপুরে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে নিয়ে তার পিতা কালীগঞ্জ থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছে। এদিকে প্রেমজ সম্পর্কের সূত্র ধরে শহরের আয়েশা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ৩ যুবক কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর বাবার দেওয়া কালীগঞ্জ থানায় এক লিখিত অভিযোগে জানায়, বলিদাপাড় গ্রামের যুবক খায়রুল গত ৩ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই তার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিত। এক পর্ষায়ে তার মেয়েকে ফুসলিয়ে খায়রুল প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এঘটনা জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার খায়রুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু খায়রুল বিয়ে করতে অস্বিকার করে। এক পর্ষায়ে খায়রুল তার বন্ধুদের সহযোগিতায় গত মাসের ২৫ তারিখে স্কুলছাত্রীকে রাব্বীর বাসাতে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর মেয়েটি বাড়িতে এসে তার পরিবারের নিকট ধর্ষণের ঘটনাটি খুলে বলে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে সামাজিক ভাবে ঘটনাটি নিরসন করতে ব্যার্থ হওয়ায় অবশেষে ১৫ দিন পর ৩ যুবকের নামে থানাতে একটি মামলা করে। থানা পুলিশ ওইদিনই অভিযুক্ত ৩ জনের মধ্যে দু’জনকে আটক করলেও অপরজন পলাতক রয়েছে।
পৃথক পৃথক সংঘঠিত এ দুটি ধর্ষণের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচাজ ইউনুচ আলী বলেন, থানাতে পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে দুই ধর্ষককে আটক করেছে। বাকী আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে। ধর্ষিতাদের ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য ঝিনাইদহে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ