শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

কোর’আন ও হাদীসের দৃষ্টিতে রোজার গুরুত্ব, ফজিলত, শারীরিক, মানসিক উপকারিতা

মোঃ জাহিদ : রোজা কী বা রোজা বলতে কি বুঝায়?
রোজা ফারসি শব্দ যার আরবি অভিধানিক অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সিয়ামের বাংলা অর্থ হচ্ছে বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।
# কোর’আনের দৃষ্টিতে রোজার গুরত্ব : ২য় হিজরী শাবান মাসে মদীনায় রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয় “হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের  পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী  হও। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)
সূরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে। পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসের কিতাবগুলোতে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
# হাদিসের দৃষ্টিতে রোজার গুরত্ব :  প্রিয় নবীজী (সা:) এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা:) বলেছেন রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলীম)
অপর হাদিসে এসেছে, হযরত শাহ্ ইবনে স্দা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা:) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরাজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতীত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা। (বুখারী, মুসলীম)
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত শাহ্ ইবনে সাদ  (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)
হাদিসে  আরো এসেছে, রাসুল (সা:) বলেন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেনে, হুজুর (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বে সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বে সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলীম)
হাদিসে আরো এসেছে, রাসুল (সা:) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, হুজুর (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বে সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রাতে ইবাদত করে তার পূবের্র সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলীম)
হাদিসে আরো এসেছে, রাসূল (সা:) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে তার রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরষ্কার দেব। রোজা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরূপ।
তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথা র্বার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়। কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার ।
# হাদীসের দৃষ্টিতে রমজানের ফজিলত : রমজানের ফজিলত নিয়ে আরো অনেক হাদিস বিভিন্ন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। হযরত সালমান ফারসী (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসূল (সা:) আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানব মন্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোজাগুলোকে করেছেন (তোমাদের উপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল।
এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে ১টি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো  যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।
এটা ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যর সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার ছওয়াব  হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান। অথচ, রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবেনা।এসব শুনে সাহাবীরা বললেন,  হে আল্লাহর রসুল (সা:) আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ রাখেনা যে রোজাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার করাবে? রাসুল (সা:) বললেন, আল্লাহ পাক এই ছওয়াব দান করবেন যে রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দিয়ে, অথবা একটি খেজুর দিয়ে অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন যার পর সে পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবেনা জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত। এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্ত দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী) 
# রোজার শারীরিক ও মানসিক উপকারীতা : রোজার নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক উপকারীতা রয়েছে।
১। ফ্যাট কমায় : দেহে রোজার প্রথম প্রভাবই হলো গ্লুকোজের আধিক্য কমানো। আর গ্লুকোজ যখন কমে যায় তখন কেটসিস নামে দেহের একধরনের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয় যা ফ্যাট কমায় এবং শরীরে শক্তি যোগায়। এমনকি কিডনি বা পেশীতে যে ফ্যাট জমে তাও ক্ষয় হয়ে শরীরে শক্তি উৎপাদিত হয়।
২। রক্তচাপ কমায় : ওষুধ ছাড়া রক্ত চাপ কমাবার এক আদর্শ পদ্ধতি রোজা। কারণ রোজা রাখলে প্রথমে গ্লুকোজ, পরে চর্বিকণা গুলো ক্ষয় হয়ে শক্তি উৎপাদন করে। রোজা রাখলে মেটাবলিক রেটও কমে। এড্রিনালিন এবং নরএড্রিনালির মতো স্ট্রেস হরমোন উৎপাদন কমে। আর এতে করে মেটাবলিক হার একটি স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে। ফলে ব্লাড প্রেশার কমে। আর  এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এথেরেসক্লেরোসিস বা ধমনীতে চর্বি জমার প্রক্রিয়ার ওপর যা হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমায়।
৩। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি : রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে দেহ ও মনে নিঃসন্দেহে একধরণের ইতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। আমেরিকার  একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখেছেন যে, রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে নতুন নতুন কোষের জন্ম হয়। ফলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বেড়ে যায়। অন্যদিকে কোটিসল নামক একধরণের হরমোন রয়েছে য আর্ডনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হয় তার পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে পুরো রমজান মাসে এবং রমজানের পরেও মানসিক চাপ বেশ কম থাকে।
৪। হজমক্রিয়ার বিশ্রাম : দেহের যে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খাবার হজমের কাজ করে, রোজার সময় তারা কিছুটা বিরতি পায়। হজমের রস নিঃসরণ তখন ধীর হয়। খাবারগুলো ভাঙ্গে ধীরে ধীরে। দেহের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটা খুব সহায়ক। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও তখন নিঃসরণ ধীরে হয়। তবে রোজা রাখলেও পাকস্থলীর অ্যাসিড নিঃসরণ বন্ধ হয়না। এই জন্যই পেপটিক রোগীদের রোজা রাখার ক্ষেত্রে ডাক্তাররা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।
৫। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে : রোজা রাখাকালীন একজন মানুষের দেহের গ্লুকোজগুলো দ্রুত ভাঙ্গতে থাকে এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে। ফলে তখন ইনসুলিনের উৎপাদন কমে যায় যা প্যানক্রিয়াসকে তৈরি হয়। এর ফলে দেহে ব্লাড সুগারের পরিমাণ কমে তা ডায়াবেটিস প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
# রোজা নিয়ে বিভিন্ন মনীষীদের মন্তব্য : আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট বলেন, আমার জীবনে অনেক ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতার এবং ঘটনা দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যায় দু’বেলা আহার করে সে রোগ মুক্ত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারে। আমি ভারতে এরকম প্রচন্ড উষ্ণ এলাকা দেখেছি, যেখানে সবুজ গাছপালা খড়তাপে পুড়ে গেছে, কিন্তু সেই তীব্র গরমের মধ্যে ও আমি সকালে এবং বিকেলে দু’বেলা খেয়েছি। সারাদিন কোনো প্রকার পানাহার করিনি। এর ফলে আমি নিজের ভেতর অনুভব করেছি এক ধরনের নতুন সজীবতা এবং অফুরন্ত প্রাণশক্তি।  (আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট- মাহফুজুর রহমান আখতারী, দিল্লী)
রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উজির চাণক্য অর্থশাস্ত্র নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন : এ গ্রন্থে তিনি  লিখেছেন, আমি উপোস থেকে বাচঁতে শিখেছি এবং উপোস থেকে উড়তে শিখেছি। আমি ক্ষুধার্ত পেটে শত্রুর চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছি।
মহাত্মা গান্ধীর উপোস থাকার ঘটনা সর্বজনবিদিত। ফিরোজ রাজ লিখিত গান্ধী জীবনের একথা লেখা রয়েছে যে, তিনি রোযা রাখা পছন্দ করতেন। তিনি বলতে, মানুষ খাবার খেয়ে নিজের দেহ ভারী করে ফেলে। এরকম ভারী অলস দেহ দুনিয়ার কোন কাজে লাগেনা। যদি তোমরা তোমাদের দেহ সরল এবং কর্মক্ষম রাখতে চাও তবে দেহকে কম খাবার দাও। তোমরা উপোস থাকো। সারাদিন জপতপ করো আর সন্ধ্যায় বকরির দুধ দিয়ে উপবাস ভঙ্গ কর। (দাস্তানে গান্ধী)
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র প্রফেসর মোরপান্ড বলেছেন, আমি ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি লেখাপড়া করার চেষ্টা করেছি। রোযা অধ্যায়ে লেখাপড়া করার সময়ে আমি খুবই মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছি। চিন্তা করেছি, ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য এক মহান ফর্মূলা দিয়েছে। ইসলাম যদি তার অনুসারীদের অন্য কোন বিধান না দিয়ে শুধু এ রোযাই দিতো তবু এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কিছু হতে পারতো না।
ক্যামব্রিজের ডাক্তার লোথার জিম সবকিছু গভীরভাবে দেখে এবং পর্যালোচনা করে বলেন - রোজা হচ্ছে দেহের অসুস্থতায় বিশেষত পাকস্থলীর রোগে স্বাস্থ্যের গ্যারান্টি।
সিগমন্ড নারায়েড যাকে বিশিষ্ট মনস্তত্ত্ববিশারদ হিসেবে মনে করা হয়। তিনি বলেন -রোজার মাধ্যমে মস্তিষ্কের এবং মনের যাবতীয় রোগ ভালো হয়ে যায়। মানুষ শারীরিকভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কিন্তু, রোজাদার ব্যক্তির দেহ ক্রমাগত বাইরের চাপ সহ্য করার যোগ্যতা অর্জন করে। সে খিচুনি রোগ এবং মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি লাভ করে। এমনকি সে এ দুটি রোগের সম্মুখীন আর কখনো হয়নি।
প্যারা সাইকোলজির গবেষণায় দেখা যায়- মানুষ বস্তুবাদী জীবন ও সম্পর্কের কারণে মানসিক শান্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে শান্তির সন্ধানে ছুটে চলেছে। এ শান্তির উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্যারা সাহেকোলজি। মূলত, বস্তুবাদী সভ্যতার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে আত্মহত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, ট্রাফিক দুর্ঘটনা, সতীত্ব হরণ, সমকামীতা, অপহরণ, হত্যা, প্রতিশোধ পরায়ণতা, বোমা সন্ত্রাস, সম্মিলিত হত্যাকান্ড, জারজ সন্তান, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি। এরকম ধ্বংসাত্মক ঘটনাবলী গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের অতলে তলিয়ে দিচ্ছে। গোটা ইউরোপ এবং পাশ্চাত্য সমাজ এ সকল ধ্বংসাত্মক তৎপরতায় নিয়োজিত।
রোযা সম্পর্কে ইউরোপীয় গবেষকরা নিয়মিত গবেষণা করেছেন। তারা স্বীকার করেছেন, রোজা একদিকে শারীরিক জীবনকে যেমন নতুন প্রাণশক্তিতে সঞ্জীবিত করে, তেমনি এর মাধ্যমে নানারকম অর্থনৈতিক সমস্যাও দূর হয়। কারণ, যখন রোগ কম হবে তখন স্বাভাবিক ভাবেই হাসপাতালে রোগীদের সংখ্যাও কমে যাবে।
# হজম শক্তির ওপর রোযার প্রভাব : রোজা একমাসের জন্যে হজম প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহের আরামের ব্যবস্থা করে। তবে হজমের ক্ষেত্রে লিভারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। রোযায় লিভারের ওপর সবচেয়ে বেশী প্রভাব পড়ে। কারণ, লিভার খাদ্য হজম করা ছাড়াও আরো পনেরটি অতিরিক্ত কাজ সম্পন্ন করে। ফলে লিভার ক্লান্ত হয়ে পড়ে। রোযার মাধ্যমে এই হজম প্রক্রিয়া চার থেকে ছয় ঘন্টা বিশ্রাম লাভ করে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দাবী করা হয় বছরে কমপক্ষে লিভারের জন্য বিশ্রামের সময়কাল একমাস রাখা উচিৎ। কিছু কিছু চিকিৎসকরা বলেন, লিভার যদি কথা বলতে পারতো তাহলে মানুষকে বলতো , তোমরা একমাত্র রোযা রাখার মাধ্যমে আমার ওপর বড়ো রকমের দয়া করতে পারো। কারণ, লিভার তার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যে সময়টা দরকার তা  নিহিত রয়েছ রমজান মাসে।
# পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞদের সার্ভে রিপোর্ট : মোতাবেক রমজান মাসে নাক, কান এবং গলার অসুখ কম হয়। জার্মানী, ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টীম এ সম্পর্কে গবেষণা করার জন্যে এক রমজান মাসে পাকিস্তানে আসে। গবেষণা কর্মের জন্য তারা পাকিস্তানের করাচী, লাহোর এবং ফয়সালাবাদ শহরকে মনোনীত করে। সার্ভে করার পর তারা যে রিপোর্ট প্রণয়ন করে তার মূল কথা ছিল। ‘মুসলমানরা যেহেতু নামায আদায় করে, বিশেষত রমযান মাসে অধিক পাবন্দীর সাথে নামায আদায় করে থাকে, এ কারণে ওযু করে। ওযু করার কারণে তাদের নাক, কান, গলার অসুখ কম হয়। খাদ্য কম খাওয়ার কারণে পাকস্থলী এবং লিভারের অসুখ কম হয়। রোজার মাধ্যমে এ ডায়েটিং করার কারণে তারা মস্তিষ্ক এবং হৃদরোগে কম আক্রান্ত হয়।
# রোজা স্বাস্থ্য রক্ষার এক অতুলনীয় পদ্ধতি : রুশ শরীর বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ভি এন নিকটন দীর্ঘায়ু লাভের উপায় সম্পর্কে লন্ডনে ১৯৬০ সালের ২২ শে মার্চ একটি বক্তৃতা দেন তিনি তার বক্তৃতায় তিনটি কথা বলেন। তার মধ্যে একটি কথা যে খাদ্য পছন্দ করবেন তাই খাবেন তবে প্রতিমাসে কমপক্ষে একদিন উপবাস থাকবে।
# রোজার সামাজিক প্রভাব :  ইসলাম ন্যায় নীতি, সুবিচার এবং গরীবের প্রতি ভালবাসা শিক্ষা দেয়। পেট যখন ভরা থাকে তখন অন্যর ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করা যায়না। জিহবা যখন পানিতে ভেজা থাকে তখন অন্যের পিপাসার কষ্ট অনুভব হয়না। রোজা মুসলমান দের সহমর্মিতা, করুনা এবং গরীবের প্রতি সমবেদনা শিক্ষা দেয়। আর এর প্রত্যেকটিই ইসলামী সমাজের অংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ