মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

মুরাদনগরে জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পে  ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

 

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’ এর আওতায় “জমি আছে ঘর নাই” প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে যাদের জমি আছে ঘর নাই, এমন অসহায় দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তালিকা করে  ৩৭৬টি পরিবারকে সরকারি ভাবে বিনামূল্যে ঘর দেওয়ার কথা থাকলেও উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে সরকারি এ ঘর দেওয়া হয়েছে বিত্তশালীদের। অপর দিকে নিম্ম মানের সামগ্রী দিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ঘরগুলো। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঘর বন্টন করায় এ আশ্রয়ন প্রকল্পের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হতদরিদ্ররা। তবে অর্থের বিনিময়ের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্টি লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় আশ্রয়হীন দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঘর প্রদান প্রকল্পে অর্থের বিনিময়ে ঘর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর থেকে গড়ে ২০ থেকে ৫০ হাজার করে নেওয়া টাকা পকেটে ভরেছে স্ব স্ব স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা। আর যারা টাকা দিতে পেরেছে তাদের নামের তালিকা নিয়েছে জনপ্রতিনিধিরা। অপর দিকে ঘর তৈরীর মালামাল উপকারভোগীদের বাড়ি নেওয়ার জন্য পরিবহন ভাড়া বাবদ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া আগামী প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম ১০ হাজার করে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ ওঠেছে। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের মোতাহার হোসেন কালা মিয়া ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকের দোকান বাকীর ২০ হাজার ও নগদ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এ ঘর পেয়েছে। কাজিয়াতল গ্রামের ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামের ভাই ও মৃত সামছুল হকের ছেলে সুমন ঢাকায় নিজ মালিকানাধীন বাড়িতে বসবাস করলেও তিনি ঘর পেয়েছে। একই এলাকার মৃত মজলু মিয়ার স্ত্রী নূরজাহান বেগমের বরাদ্ধ ঘর স্থানীয় মহিলা মেম্বার শাহানাজ বেগমের বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বধইর পূব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদের ভাই ও দৈলবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ইউছুফের নামে ঘর নেওয়া হয়েছে। আকুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মেটংঘর গ্রামের জুয়েল রানা কোটিপতি হয়েও ঘর পেয়েছে। পূর্বধইর গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে রশিদ মিয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেনকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘর পেয়েছে। পরে আরো ২০ হাজার টাকা মেম্বারকে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, রামচন্দ্রপুর দক্ষিন ইউনিয়নের হারপাকনা গ্রামের মুনতাজ মিয়ার ছেলে ইদন মিয়ার একটি নতুন ঘর থেকেও সরকারি ঘর পেয়েছে। মোস্তফাপুর গ্রামের জাফর আলীর ছেলে মঙ্গল মিয়া, র্মীজাপুর গ্রামের মৃত মঙ্গল মিয়ার ছেলে খোরশেদ মিয়ার পুরাতন ঘরটি স্থানীয় মেম্বারকে দিয়ে পেয়েছে নতুন ঘর। মীর্জাপুর গ্রামের পুকুর পাড় এলাকার মৃত সুন্দর আলীর ছেলে রবিউল ও রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামের মৃত কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে শাহ আলম চট্টগ্রামে বসবাস করলেও ছোট ভাই উমরের বাড়িতে ঘর নির্মাণ করে বিক্রি করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক একজন উপকারভোগী বলেন, আমাকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দামের একটি ঘর দেওয়ার কথা বলে দুই বারে বিশ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে মেম্বার। পরে আরো ১০ হাজার টাকা চাইলে ৮ হাজার টাকা দেই। যাচাই করার জন্য স্যারেরা আসলে তাদেরকে খানা খাইয়ে আরো এক হাজার টাকাও দিতে হয়েছে। আর ঘর নির্মাণের মালামাল চার ধাপে আমাদের বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রতিবার এক হাজার টাকা করে চার হাজার টাকা নেয়।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অব্দুল হাই খান অভিযোগ পাওয়া ঘর গুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে শিকার করে জানান, মেম্বারের আত্মীয় স্বজন গরীব হলে কী তারা ঘর পাবে না! ইউপি সদস্যদের সাথে স্থানীয় ভাবে মত-বিরোধ থাকায় এমন অভিযোগ উঠেছে।                                                                                                                                        

উক্ত বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিতু মরিয়ম জানান, সরকার আমাদেরকে বিশ^াস করেনা। মেম্বার চেয়ারম্যানকে বিশ^াস করে। মেম্বার চেয়ারম্যানদের দাখিলকৃত তালিকা অনুযায়ী ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু অভিযোগ আসছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘন নির্মাণে নি¤œ মানের সামগ্রী ব্যবহার করার বিষয়টি সঠিক নয়।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ