বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মহিলা লীগ নেত্রী রেখা হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা কামালসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা 

খুলনা অফিস : খুলনার রূপসা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমদাবাদ গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের স্ত্রী রেখা পারভীনকে হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাতদিন পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় গত ৪ মে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলায় নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফা কামালকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল (৪৫), তার সহযোগী আদম আলী (৩০), সাগর (৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন আমদাবাদ গ্রামে মাতৃছায়া বাড়িতে বসবাসরত রেখা পারভীনের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রেখা পারভীনকে লোহার রড এবং হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া আসামীরা রেখা পারভীনের বাড়ি থেকে স্বর্ণের চুড়ি, নেকলেস, কানের দুলসহ ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৫টি আইফোন, নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘবদ্ধ চক্র বাড়ি থেকে চলে গেলে তার নিকট আত্মীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু ঘটনার সাতদিন অতিবাহিত হলেও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় অবশেষে গত ৪ মে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান বাদি হয়ে মামলা (যার নং-৫) করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত আসামীসহ সন্দেহভাজন আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।  

অপরদিকে রূপসা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেখা পারভীনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ সমাবেশ করেছে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহানারা শহীদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হোসনেয়ারা চম্পার পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. শেখ বাহারুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির ববি, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদ সদস্য জয়ন্তী রানী সরদার, রূপসা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা আক্তার লিপি। সমাবেশে বক্তরা রূপসায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রেখা পারভীনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু সুদৃষ্টিও কামনা করেন।

কয়রায় হরিণের গোশতসহ দুইজন গ্রেফতার

খুলনার কয়রা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি হরিণের গোশতসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে কয়রা থানার এস আই নিমাই চন্দ্র কুন্ডুর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাটকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিণের গোশতসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো-জালাল গাজী (৫০) ও  ওমর ফারুক (৩৫)। 

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ তারক বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় কয়রা থানায় বন্যপ্রানী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন

হাই কোর্ট বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী দ-িত

স্টাফ রিপোর্টার : জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা দখলে রাখার অভিযোগে দুদকের করা মামলায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে সাজা দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

দন্ডিত মো. গোলাম ফারুক হাই কোর্টের কোর্ট কিপার শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাকে ও তার স্ত্রী সৈয়দা মমতাজকে তিন বছর করে কারাদন্ডের পাশাপাশি অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। এ আদালতের পেশকার মো. মোকারম হোসেন রায় সম্পর্কে জানান। গোলাম ফারুককে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ৭০ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬ টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।

স্বামীর অর্জিত সম্পদ বেনামদার হিসেবে দখলে রেখে স্বামীকে অপরাধে সহযোগিতা করার অপরাধে সৈয়দা মমতাজকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২)/ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় তিন বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া গোলাম ফারুককে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ নিজ দখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় তাকে আরও তিন বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুজনের অর্থদন্ডের টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোলাম ফারুকের দখলে থাকা অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তার দন্ড একটির পর অপরটি কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। দন্ডিত এই দম্পতি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ