বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তারাবি নামাযের জায়গা চাওয়ায় অর্ধশত  শ্রমিককে মারপিট চাকরিচ্যুত

 

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের টঙ্গীর আইএফএল ফ্যাক্টরি লিমিটেডের শ্রমিকরা তারাবি নামাযের জায়গা চাওয়ায় তাদের ছাঁটাই করেছে এবং তাদের ওপর বহিরাগত সন্ত্রাসী ও কারখানার কিছু কতিপয় কর্মকর্তারা নৃশংস হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানার শ্রমিকরা। অর্ধ শতাধিক শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করে চাকরিচ্যুত করা হয়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিকদের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে ও ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা জানান কারখানার কর্মীরা। মানববন্ধনে বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি শামীম খান, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমূল আহসান জুয়েলসহ কারখানাটির আহত শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন থেকে কারখানার কর্মী শম্পা জানান, কারখানাটিতে আমি প্রায় এক বছর যাবত কাজ করছি। বিভিন্ন যুক্তির দাবি আমরা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন যাবত কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি। কিন্তু তারা সেটি কর্ণপাত করছে না। সর্বশেষ রমযানের আগে আমরা বলেছি আমাদের তারাবি নামাজের জায়গা করে দেয়া হোক। সেটিও তারা শুনেনি। এর পেক্ষিতে কারখানাটির জিএম মোশাররফ শুক্রবারে পাঞ্জাবি পড়ে যেতে নিষেধ করেছে। এর আগে এপ্রিল মাসের ১১ তারিখ কোন কারণ ছাড়া কারখানাটি তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে এবং ৬৬ জন শ্রমিক চাকরিচ্যুত করে ছবিসহ একটি তালিকা ঝুলিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কারখানাটি খুললে ৬৬ জন শ্রমিককে কারখানায় ঢুকতে বাধা প্রদান করে এবং কারখানার সামনে থেকে পুলিশ দিয়ে হুমকি দেয়া হয়। ৭ মে অর্থাৎ এক রমযান দুপুর ১২টায় আমাদের সকল দাবিসহ ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে কারখানার সামনে অবস্থান করি। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কারখানাটির মালিক প্রকাশ সিং এবং হেড অফ অপারেশন সিজু জনের নির্দেশে ভাড়া করা বহিরাগতরা মিলে রড দিয়ে ৬৬ জন শ্রমিকের ওপর এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে। এতে অপারেশন সেকশনের রিমা, নিপা, শম্পা গুরুতর আহত অবস্থায় গাজীপুর টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। বর্তমানে দুইজন শ্রমিক ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা নিচ্ছে আর বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাসায় অবস্থান করছে। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, আহত শ্রমিকদের পূর্ণ চিকিৎসা ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক এবং ৬৬ জন শ্রমিককে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ