শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

একই দিনে ৬ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা ॥ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৫ সপ্তাহে ৩৩ বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। গত শুক্রবার একই দিনে ৬ স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান। শুক্রবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বাল্যবিবাহগুলো বন্ধ করা হয়। প্রথমে দুপুর ২.৩০ টায় সিরাজগঞ্জ সদরের পৌর এলাকার চক কোবদাসপাড়া গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ তানিয়া খাতুন (১৩), বিকাল ৫ টায় কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা গ্রামে দশম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ খাদিজা খাতুন (১৫), রাত ৮ টায় যমুনা নদী বিধৌত চরাঞ্চল কাওয়াখোলা ইউনিয়নের বেড়াবাড়ী গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শিউলি খাতুন (১২), রাত ৯.৩০ টায় কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মিষ্টি খাতুন (১১),রাত ১০.১৫ টায় পৌর এলাকার মালশাপাড়ায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বৃষ্টি খাতুন (১৩) এবং রাত ১১.৩০ টায় সয়দাবাদ ইউনিয়নের হাট সারুটিয়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ রত্না খাতুন (১৩) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ সদরের পৌরসভার চককোবদাসপাড়া গ্রামে সংগীয় ফোর্স নিয়ে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে চককোবদাসপাড়া গ্রামের তাইজুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া খাতুন (১৩) এর সাথে বর একই উপজেলার হরিনা গোপাল আদর্শ গ্রামের আঃ রহমান এর পুত্র লাদেন (২৪) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কাজী পালিয়ে যায়। কনে হৈমবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়ে কনের মায়ের কাছ থেকে মেয়ের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা নেন এবং বর লাদেন শেখ ও কনের মা রুমা খাতুন এর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর বিকাল ৫ টায়  সিরাজগঞ্জ সদরের কালিয়া হরিপুর  ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা এলাকায় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে কাশিয়াহাটা  গ্রামের আঃ আলীমের কন্যা খাদিজা খাতুন (১৫) এর সাথে বর কাদাই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান এর পুত্র রাসেল (২১) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে তেতুলিয়া চুনিয়াহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের  দশম শ্রেণীর ছাত্রী। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেন।
এরপর রাত ৮ টায় সিরাজগঞ্জ সদরের যমুনা নদী বিধৌত চরাঞ্চল কাওয়াখোলা ইউনিয়নের বেড়াবাড়ী গ্রামে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে বেড়াবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে শিউলি খাতুন (১২) এর সাথে বর পৌর এলাকার ঘুড়কা এলাকার উজ্জল হোসেন এর পুত্র মুরলী (১৫) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বর ও কাজী পালিয়ে যায়। কনে গোরী আরবান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। বর ও কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়ে কনের বাবা ও বরের বাবার কাছ থেকে বর ও কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা নেন এবং বরের বাবা ও কনের বাবা প্রত্যেককে ৫ হাজার করে জরিমানা করা হয়।
এরপর রাত ৯.৩০ টায় কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া এলাকায় অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে কান্দাপাড়া  গ্রামের মানিক শেখ কন্যা মিষ্টি খাতুন (১১) এর সাথে বর একই গ্রামের ছাইফুল ইসলামের এর পুত্র সিরাজ উদ্দিন (২২) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। এরপর রাত ১০.১৫ টায় পৌর এলাকায় মালশাপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনে মালশাপাড়া গ্রামের আঃ হান্নান এর  কন্যা বৃষ্টি খাতুন (১৩) এর সাথে রানীগ্রামের আঃ সালাম এর পুত্র  শামীম আহমেদ (২৭) এর বিবাহের আয়োজন চলছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষ পালিয়ে যায়। কনে এস.বি রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয় এবং বর ও কনের বাবা প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে রাত ১১.৩০ টায় সয়দাবাদ ইউনিয়নের হাট সারুটিয়া গ্রামে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলামকে সংগে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়।তখন কনের বাড়ীতে কনে হাট সারুটিয়া গ্রামের ইদ্রিস প্রামাণিক এর কন্যা রতœা খাতুন (১৩) এর সাথে বর রতনকান্দি ইউনিয়নের দত্তবাড়ী গ্রামের আঃ খালেক এর পুত্র চান মিয়া (২৭) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রত্যেক ক্ষেত্রে কনের বাবা ও বরের বাবার কাছ থেকে কনে ও বর প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয়। বাল্যবিবাহগুলো বন্ধে সহযোগিতা করেন সয়দাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নবীদুল ইসলাম,কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর শেখ, পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, আনসার ব্যাটালিয়ন পি.সি নুরুল ইসলাম ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ