রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা: মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজংয়ের খিদির পাড়া ইউনিয়নের বাসুদিয়া গ্রামের গৃহবধূ  জাফরিন (১৯) কে গলায় ফাঁস দিয়ে  হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।  জাফরিনের শরীরের ধারালো ছুরির আঘাত সহ মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে যন্ত্রনায় ছটপট করছে  লৌহজং সদর হাসপাতালে। জাফরিনের শাশুড়ী সীমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত ১টার সময় প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে  জাফরিন ঘরের বাইরে গেলে আগে থেকে  ওৎ পেতে থাকা তিন জন দুর্বৃত্ত জাফরিন কে পিছন দিক থেকে আটকে ফেলে, তার শরীরের ওড়না দিয়ে প্রথমে তার মুখ ও গলায় পেঁচিয়ে ধরে। এরপর তাকে বাড়ি পিছনে বাগানে নিয়ে  যায় টেনে হিচরে। এ সময় জাফরিন নিজেকে বাঁচাতে ঘরের বেড়া ঝাপটে ধরলে ধারালো ছুরি দিয়ে দুর্বৃত্তরা তার দুই হাতের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তার মাথায় প্রচন্ড আঘাত করে। পাশের ঘর থেকে জাফরিনের এক চাচা শ্বশুর ফোনে কথা বলার জন্য  বাইরে বের হলে লোকের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হাত-পা ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। বাড়ির পাশে পালানে (বাগানে) গুংরানোর শব্দ পেয়ে শাশুড়ী পুত্রবধূ জাফরিন কে খুঁজতে থাকে। ঘরে জাফরিনের কোন সারা শব্দ না পাওয়ায় এবং ঘরের দরজা খোলা দেখে শাশুড়ীর ডাক চিৎকারে বাড়ির অন্যসব লোকজন ছুটে আসে এবং তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ির পাশে বাগান থেকে। বর্তমানে সে লৌহজং সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এই বিষয়ে লৌহজং থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনির হোসেন জানান, আমরা অভিযোগ পেয়ে ঘটনা স্থলে ও হাসপাতালে  সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগটি  খতিয়ে দেখা হচ্ছে  এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, গত দুই বছর আগে পাশের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীরের মেয়ে জাফরিনের সাথে লৌহজংয়ের বাসুদিয়া গ্রামের  জুয়েল খানের ছেলে শাকিলের বিয়ে হয়। বাবা ও ছেলে দুজনেই বর্তমানে প্রবাসে রয়েছে সে সুবোদে জাফরিন তার শাশুড়ী ও ছোট একটি দেবর বাড়িতে থাকত।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মেধাবী ছাত্রী সেতু মন্ডল (১৫) এর অপহরণ, ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী মূল আসামী হযরত আলী ওরফে সজল (২৭)কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেছে পুলিশ। গত শনিবার ভোরে উপজেলার কুচিয়ামোড়া থেকে এস আই হাসান আক্তার তাকে গ্রেফতার করেন। শনিবার রাতেই তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। সজল বরিশালের মেহেদীগঞ্জ উপজেরার উনানিয়া গ্রামের আঃ মজিদ সরদারের ছেলে। হযরত আলী ওরফে সজল বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায়  সেতু মন্ডলের  অপহরণ, ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন ১০ এপ্রিল সেতু মন্ডল স্কুলে যাওয়ার আগে হযরত আলীর সাথে কয়েক বার ফোনে কথা হয়। পরে গোয়ালখালী এলাকা  থেকে তুলে নিয়ে শাখারী বাজার এলাকায় যায় । পরে একটি  মন্দিরে গিয়ে সজলের ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল কেটে সেতুর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেয় এবং তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। এ ছাড়া তাকে অনেক রকম প্রতিশ্রুতিও দেয়। পরে লঞ্চের কেবিন নিয়ে সজলের গ্রামের বাড়ির দিকে যায়। লঞ্চের সেই রাতে সেতুকে কয়েক দফা ধর্ষণ করে এবং বরিশাল পৌছানোর পর আবার পুনরায় ভোর রাতে ঢাকা চলে আসে। পরের দিন ১১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার গোলামবাজার পুলিশ ক্যাম্পের কাছাকাছি  ফেলে পালিয়ে যায় সজল। গোলামবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সেতুকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে খবর দিলে সেখান থেকে সেতুকে নিয়ে আসে তার পরিবার। ১৭ এপ্রিল গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যার করার সময় স্বজনরা দেখে তাকে  মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা যায়। সেতুর মা প্রধান আসামী হিসেবে  সোহেলের নাম বলেছিল কারন তাকেই ভেবেছিল তার নাম সজল। কিন্তু পরে তা ভুল প্রমানিত হয়। হযরত আলী ওরফে সজল আদালতে তার দোষ স্বীকার করে। হযরত আলি নাম পাল্টিয়ে সজল রাখে সেতু এবং তার মায়ের কাছে সেই নামটিই বলেছিল।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামীর পরিবারের দাবীকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূর উপর নির্যাতন। আহত গৃহবধূকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত গৃহবধূ ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর গ্রামের তাওহীদ কাজীর সাথে গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকার প্রবাসী রিপন সরদারের মেয়ে সাথী বেগমের (১৮) সাথে নয় মাস পূর্বে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। সাথীর বিয়ের পর থেকে কারনে অকারনে স্বামী ও তার পরিবার যৌতুক দাবী করে আসছিল। দাবীকৃত যৌতুকের টাকা গৃহবধূ সাথী দিতে অস্বীকৃতি জানালে দফায় দফায় চলে বিভিন্ন সময় নির্যাতন। এ নিয়ে গত শুক্রবার আবারও স্বামী তাওহীদ কাজী দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। যৌতুকের টাকা দিতে পারবেনা বললে গৃহবধূ সাথীর সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায় সাথীকে মারধর করে তার স্বামী তাওহীদ কাজী ও শ্বাশুড়ী হেনেরা বেগম। পরে সাথীর পরিবার খবর পেয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
আমতলী (বরগুনা)
গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা লাভলী আক্তার নামের এক গৃহবধুকে স্বামী মাসুম শরীফ মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত গৃহবধূকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনা ঘটেছে সোমবার সকালে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার কলারং গ্রামের দেলোয়ার গাজীর কন্যা লাভলী আক্তারকে ২০১৭ সালে পার্শ্ববর্তী কড়াইতলা গ্রামের ইসমাইল শরীফের ছেলে মাসুম শরীফের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের সময় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিলেও সন্তুষ্ট হয়নি মাসুম। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবীতে লাভলীকে নির্যাতন করে আসছে সে। বর্তমানে লাভলী আক্তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান  সে। স্ত্রীর অন্তঃসত্ত্বার খবরে বে-সামাল হয় মাসুম। গত এক সপ্তাহ ধরে লাভলীকে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট ও বাবার বাড়ী থেকে মোটর সাইকেল কেনার জন্য এক লক্ষ টাকা এনে দিয়ে বলে। এতে রাজি হয়নি লাভলী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত তিন দিন ধরে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে স্ত্রী লাভলীকে নির্যাতন চালায় সে। সোমবার সকালে ঘুম থেকে তুলে লাঠি দিয়ে পুনরায় বেধরক মারধর করে। এতে লাভলী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে স্বজনরা ওই বাড়ী থেকে লাভলীকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
সোমবার দুপুরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখাগেছে, বিষম যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন লাভলী। লাভলীর মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিখিল চন্দ্র জানান, তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা লাভলীর মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহৃ রয়েছে। আহত অন্তঃসত্ত্বা লাভলী কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, বিয়ের দেড় বছরে বিভিন্ন অযুহাতে অর্ধশত বার মারধর করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আমার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট ও মোটর সাইকেল কেনার জন্য এক লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। আমি তার কথা মত গর্ভের বাচ্চা নষ্ট ও টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে তিন দিন ধরে ঘরের মধ্যে আটকে নির্যাতন করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। তালতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী ধর্ষিতা শিশুটিকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। গত শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরটেক এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানান, ধর্ষক আলাউদ্দিন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবার জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরটেক এলাকায় ১০ বছরের শিশু স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ডিম কেনার জন্য একই এলাকার শেরন মিয়ার ছেলে মুদি দোকানি আলাউদ্দিন(৩৫) এর দোকানে যায়। আলাউদ্দিন শিশুটিকে একা পেয়ে জোর করে তার দোকানের ভেতরে নিয়ে সাটার বন্ধ করে দেয়। পরে আলাউদ্দিন শিশুটিকে তার দোকানের ভেতরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস মিয়া রেকশনাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। উল্টো স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছে। পুলিশ হাসপাতালে রেকশনাকে দেখতে গিয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের আবু বকর মিয়ার স্ত্রী রেকশনা বেগমকে পিতার বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন স্বামীর পরিবারের লোকজন। রেকশনা যৌতুকের টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী রেকশনাকে শারীরিক নির্যাতন করে আটক রাখে স্বামীর পরিবার। এ ঘটনা স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস মিয়া জানতে পেরে রেকশনাকে উদ্ধার ওই রাতেই উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। একই গ্রামের দরিদ্র ছিদ্দিক মিয়ার মেয়ে রেকশনা। স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের পরে ওই রাতেই স্বামী আবু বকর উল্টো স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে। এর পূর্বে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে দুটি যৌতুক মামলা করেছিল রেকশনা বেগম। গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ হাসপাতালে নির্যাতিতা গৃহবধূ রেকশনাকে দেখতে যায়। এ ঘটনায় গৃহবধূর পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীর শ্রীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৫এপ্রিল রাত দশটায় জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবেদ আলীর নেতৃত্বে ওই বখাটেকে  গ্রেফতার করা হয়। বখাটে কামরুল ইসলাম (২৫) জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার সামশুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জোরারগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে (নাম উল্লেখ করা হলোনা) স্কুলে আসা যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো কামরুলের নেতৃত্বে একদল বখাটে। প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্তের শিকার ওই স্কুলছাত্রী এক পর্যায়ে স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। মেয়েটির বাবা স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৈঠক করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে কামরুল, পংকজ সহ অন্য বখাটেরা বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও নিষেধ অমান্য করে উত্ত্যক্তের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ