সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনা উপকূলের ৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

খুলনা অফিস : উপকূলবর্তী উপজেলা খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ ও রূপসা উপজেলায় ৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাতে আট কিলোমিটার বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। দাকোপের বানিশান্তা ও বটিয়াঘাটার আমিরপুর ইউনিয়নে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের প্রতিবেদন রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর সূত্র জানান, এসব উপজেলায় ৮০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে- পাইকগাছা উপজেলায় ৯, ১০/১২, ১৬, ১৮/১৯, ২০, ২০/১, ২১, ২২, ২৩, ৩০, ৩১/ একাংশ, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ৩৪/২, দাকোপ উপজেলায় ৩১, ৩২, ৩৩, রূপসা উপজেলার ভৈরব ও রূপসা নদীর তীর। এ ছাড়া সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলায় ১২ কিলোমিটার, আশাশুনি উপজেলায় ১৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফণির আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য উপকূল এলাকার ১০ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (অ.দা.) পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
গত মাসে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ৩২ ও ৩৩নং পোল্ডারের বাঁধ সমূহের নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে চলছে। উপজেলায় বাঁধের ২৭টি পয়েন্ট খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ সভায় উল্লেখ করেন উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নের বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ উপজেলার শাকবাড়িয়ায় কপোতক্ষ নদের ভাঙনে এলাকাবাসী আতঙ্কগ্রস্ত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, তেরখাদা উপজেলার পারহাজী গ্রাম এলাকায় আত্রাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। রূপসা ও ভৈরব নদের ভাঙন থেকে খুলনা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষায় একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় ৫৫ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনে দাবি তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালে আইলা নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়রা উপজেলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত এক সপ্তাহে দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা বাজারে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। গত রোববার পশুর নদীর পানির চাপে বেড়িবাঁধের চারটি স্থান বিধ্বস্ত হয়েছে। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ৫শ’ পরিবারের প্রত্যেককে পাঁচ কেজি করে চাল, ডাল, লবণ, চিনি ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ