সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলী জমি ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

পাবনা সংবাদদাতা : পাবনার সুজানগর উপজেলা এবং রাজবাড়ী জেলার পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। ফলে পদ্মা নদীভাঙ্গনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে নদীপাড়ের হাজারো পরিবার এবং নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে শত শত বিঘা ফসলী জমি। অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সরকারিভাবে এসব বালু উত্তোলন নিষেধ থাকলেও একশ্রেণীর অসাধু বালু ব্যবসায়ী সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাবনা জেলার সুজানগর  উপজেলা এবং রাজবাড়ী জেলার ধাওয়াপাড়া ও কালুখালী সহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নদী পাড়ের মানুষেরা।
জানা যায়, সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, সাতবাড়ীয়া, ভায়না ইউনিয়নের ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী এবং রাজবাড়ী জেলার জৌকুড়া, ধাওয়াপাড়া, কালুখালী ও প্রস্তাবিত সেনানিবাস এলাকার পদ্মা নদী হতে নিয়মিতভাবে একশ্রেণীর অসৎ বালু ব্যবসায়ীরা  অবাধে বালু উত্তোলণ করছে।
স্থানীয়রা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি, কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা আমাদের কথা শোনেননি। এদিকে গত সোমবার সাতবাড়ীয়া নদীপাড়ের মানুষেরা একত্রিত হয়ে নদীতে বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ধাওয়া দিলে তারা বালু উত্তোলনকাজে ব্যবহিত ড্রেজার মেশিন সহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে রাজবাড়ী অভিমুখে চলে যায় বলেও জানা গেছে।
এদিকে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।  এ কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কোথাও বালুর ইজারা নেই। কিন্ত আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলণ করছে এবং রাস্তার পাশে স্টেক দিয়ে বালু বিক্রি করছে। এতে করে যে কোন সময় দুর্ঘটনার মতো বিপদজনক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের নাজিরগঞ্জ বাজারের আশপাশে এলাকাসহ বরখাপুর, বুলচন্দ্রপুর, সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া বাজার হতে শ্যমনগর ও ভাটপাড়া রাস্তার পাশে এবং রাজবাড়ী জেলার জৌকুড়া, ধাওয়াপাড়া, কালুখালী ও প্রস্তাবিত সেনানিবাস এলাকার বিভিন্ন স্থানে বালু স্তুপাকারে রাখার কারণে যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আর এ সকল সড়ক দিয়ে ভোর রাত হতে ট্রাক, ট্যাক্টর, দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালু পৌছে দেয়া হয়। এতে করে ভারী যানচলাচলে রাস্তার অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে।
বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাগুলো চলাফেরার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয় জনগণ বালু উত্তোলণকারীদের বাধা দিলে তারা মিথ্যা মামলা দায়ের সহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বালু তোলা বন্ধ করে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।
উল্লেখ্য, বালু মহাল এবং মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না। ওই আইনের (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লেখ রয়েছে ড্রেজিং কার্যক্রমে বাল্কহেড বা প্রচলিু বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করা যাইবে না। এবং সর্বোপরি এভাবে বালু উত্তোলন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে।
এছাড়া নদী থেকে এভাবে অবৈধপন্থায় বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্য করলে সেই ব্যক্তি বা তাদের সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তির অনূর্ধ্ব ২ বৎসর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা হতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ জানান, যেখানে যেখানে বালু উত্তোলন করা হয় খবর পেলে আমরা সেখানে অভিযানে যাই। এবং ইতোমধ্যে কয়েকবার মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা অনেক সময় আমাদের আসার খবর শুনে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ