বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শ্রীলঙ্কায় তলোয়ার ও ছুরি জমা দেওয়ার নির্দেশ

৫ মে, বিবিসি, নিউজ ফাস্ট ডট লঙ্কা : শ্রীলঙ্কায় নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার সতর্কতার মধ্যে নাগরিকদের হাতে থাকা সব তলোয়ার এবং বড় আকারের ছুরি জমা দিতে বলেছে দেশটির সরকার।

পুলিশের মুখপাত্র রাবন গুনাসেকারার বরাত দিয়ে নিউজ ফার্স্ট ডট লংকা জানিয়েছে, রোববারের মধ্যে এসব ধারালো অস্ত্র কাছের থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে নাগরিকদের।  

তবে দৈনন্দিন গৃহস্থালীর কাছে ব্যবহৃত ছুরি বা যেসব ধারালো অস্ত্র রাখতে লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, সেগুলো জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ইস্টার সানডের ভয়াবহ হামলার পর শ্রীলঙ্কাজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে নাগরিকদের কাছ থেকে।

গত ২১ এপ্রিল কলম্বোসহ তিন শহরের তিনটি গির্জা ও চারটি পাঁচতারা হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় আড়াইশর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি দল আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। আর শ্রীলঙ্কা সরকারের ধারণা, স্থানীয় দুটি জঙ্গি দল কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সহযোগিতায় ওই হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, আরও সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে শ্রীলঙ্কার সামনে। জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর ছদ্মবেশে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে বলেও গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

রাবন গুনাসেকারা জানান, ধারালো অস্ত্রের পাশাপাশি কারও কাছে পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর পোশাকের মত দেখতে কোনো ক্যামোফ্লাজড পোশাক থেকে থাকলে তাও জমা দিতে বলা হয়েছে।

তবে লাইসেন্সবিহীন ধারালো অস্ত্র বা সামরিক পোশাক জমা দিলে দায়মুক্তি দেওয়া হবে কি না- সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি শ্রীলঙ্কার পুলিশ।   

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা শনিবার রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইস্টার সানডের হামলায় সম্পৃক্ততা ছিল- এরকম ২৫ থেকে ৩০ জন এখনও পলাতক বলে তাদের ধারণা।

“যারা ওই ঘটনায় জড়িত ছিল তাদের সবাইকেই আমরা চিহ্নিত করেছি। এখন কাজ হল তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা।”

সিরিসেনা জানিয়েছেন, মোট আটটি দেশের গোয়েন্দারা ওই হামলার তদন্তে শ্রীলঙ্কাকে সহায়তা করছে।

এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা বাহিনী দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ