মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় সিন্ডিকেট

স্টাফ রিপোর্টার : চাহিদার তুলনায় আমদানি কমিয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে স্বক্রিয় সিন্ডিকেট। রমজান মাস সামনে রেখে প্রতিবছর খেজুর ও চিনির দাম বৃদ্ধির খেলা চলে দেশের বাজারে। এ বছরও রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তে শুরু করেছে এদুই পণ্যের দাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আমদানি কমেছে পণ্য দু’টির। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে কিছু অসাধু সিন্ডিকেট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার রোজার আগে মোট ৫০ লাখ ৫১ হাজার ৬১০ টন পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এলসি নিষ্পত্তি হয়ে দেশে পণ্য ঢুকেছে ৪৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৭ টন। যা আগের বছর ছিল যথাক্রমে ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ২২৫ এবং ৪৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩২ টন। সে হিসাবে এবারের রমজানে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮৫ টন ও ৭ হাজার ৯৪৫ টন। এর মধ্যে ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, ছোলা ও মসুর ডালের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বাড়লেও কমেছে চিনি ও খেজুরের।
সূত্র জানায়, রমজানে দুই ভোগ্যপণ্য চিনি এবং খেজুর নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কারণ এবার এই দুই পণ্যের আমদানি কম হয়েছে। গত বছর রোজা সামনে রেখে চিনি ও খেজুর আমদানি হয় ১৯ লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ টন। এবার এসেছে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৬ টন। অর্থাৎ গত রোজার তুলনায় এবার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৮ টন কম আমদানি হয়েছে। তবে অন্য চার পণ্য চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট মজুদ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু এ দুই পণ্য নয়, মজুদ থাকা পণ্যেরও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসা উচিত। এ ক্ষেত্রে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চিনির লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টন। এ সময় ১৪ লাখ ২৩ হাজার ৯৭ টন চিনির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে চিনির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৩ এবং ১৯ লাখ ২ হাজার ৭৮৭ টন। সে হিসেবে চিনির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭৭ ও ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯০ টন।
একইভাবে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে ২৪ হাজার ৯২২ টন। এ সময় ১৬ হাজার ৫৪৯ টন খেজুরের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে খেজুরের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ৩০ হাজার ৭২৬ ও ২৬ হাজার ৪০৭ টন। সে হিসাবে খেজুরের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে ৫ হাজার ৮০৪ ও ৯ হাজার ৮৫৮ টন।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রোজার মাসেই এ চাহিদা ৩ লাখ টন। একইভাবে দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার টন। এর মধ্যে শুধু রোজার মাসে চাহিদার পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার টন। এখন পর্যন্ত দেশে উভয় পণ্য আমদানিতে যে পরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
আগামী ৭ মে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাসটি ঘিরে ইতিমধ্যে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে রমজানে অত্যাবশ্যকীয় ৬টি পণ্যের আমদানিকে প্রাধান্য দেয়া হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা। এক মাস আগে বিক্রি হচ্ছিল ৫২-৫৩ টাকা। অন্যদিকে কিছুটা বেড়ে তিউনিশিয়ার প্যাকেটজাত এক ধরনের খেজুর আছে, যা ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সৌদি আরবের কেস খেজুর মানভেদে পাইকারি দাম ১২০-২২০ টাকা, কিন্তু খুচরা বিক্রি হয় ১৫০-২৫০ টাকায়, আরব আমিরাতের বারাকা খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-২২০ টাকায়। ছোট খেজুর (ডাবাস) মানভেদে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা এবং ১০ কেজি কার্টনের রেজিস খেজুর পাইকারি দাম ১২০০-১৪০০ টাকা, কিন্তু খুচরা ১৫০০-১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ