ঢাকা, মঙ্গলবার 29 September 2020, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ১১ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ভারতে আঘাত হানা শুরু, ধেয়ে আসছে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ফণী

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: তীব্র প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ভারতের উড়িশ্যায় আঘাত হানতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সেখানকার সংবাদ মাধ্যম সমূহ।আজ ভোরে ১৭৫ থেকে ২শ কিলো মিটার বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ফণী।এর আগে রাতে দেশটির অন্ধ প্রদেশে আঘাত হানে ১১০ কিলোমিটার বেগে।

প্রচণ্ড গতির এই ঘূর্ণিঝড় আর ঘন্টা তিনেকের মধ্যেই আঘাত হানবে পশ্চিম বাংলায় এরপর সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশে।  সরাসরি আঘাত হানতে পারে কূলবর্তী ১৯'টি জেলা এবং সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোত।এজন্য উপকূলীয় ১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এছাড়া

শুক্রবার সকাল ১০'টার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৯ জেলার লক্ষ লক্ষ লোককে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেয়া হয়।এছাড়া বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকেও। আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছে, ‘ফণী' হল অতি শক্তিশালী একটি সাইক্লোন। 

ধেয়ে আসা ফনির কারণে দেশের ১৯ জেলার মানুষ সবচেয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ওইসব এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি।

আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০-১১০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার সকাল ১০'টার মধ্যে ১৯'টি উপকূলবর্তী জেলা এবং সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বহু মানুষকে অবিলম্বে সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। এই ১৯'টি জেলায় সাইক্লোন সেন্টার মোট সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। স্থানীয় স্কুলগুলিকেও অস্থায়ী শিবির হিসাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ব্যবস্থা হয়েছে খাদ্য ও পানীয়েরও।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ  মন্ত্রী এনামুর রহমান বললেন, “আমরা ‘ফণী'র সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গিয়েছি। আশা করি, এই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী সাইক্লোনের ফলে কারও প্রাণসংশয় হবে না। তেমন সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে”।

এনামুর বলেন, উপকূলীয় ১৯টি জেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা ছাড়াও উপকূলীয় সেনা ক্যাম্পগুলিতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারাও প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫৬,০০০ স্বেচ্ছাসেবককেও তৈরি রাখা হয়েছে। 

৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার গতির ঝড় হলে তা শক্তিশালী ঝড় এবং ২২১ কিলোমিটার গতির হলে সেই বিশেষ ধরনের ঝড়কে ‘সুপার সাইক্লোনিক স্টর্ম' বলে। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতও চলবে এই ফণীর কারণে। 

ফণী আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ