রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ 

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের দেওয়া তালা খুলতে গেলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে এক পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়েছে।  এসময় ডিবি পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় ছাত্রলীগের একাংশ অবরোধের ডাক দিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রক্টর মো. আলী আজগর চৌধুরী। 

সংঘর্ষে পুলিশের কনস্টেবল ফরিদ, ছাত্রলীগ কর্মী আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের সাদি মুর্শেদ, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের মোখলেছ, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের একই সেশনের রমজান আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও একজন ছাত্রলীগ কর্মী ও দুইজন পথচারীও আহত হন। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তৈয়ব বলেন, সংঘর্ষে আহত সাতজন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।

চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমেদ জানান, অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। অবরোধ ও সংঘর্ষের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন ও শিক্ষকদের বাস আসেনি। শিক্ষার্থী না আসায় পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া বিভাগ ও ইনস্টিটিউটেও ক্লাস হয়নি।

এর আগে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তারা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার (সিএফসি) ও বিজয় গ্রুপের কর্মী।

রোববার সকালে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় এবং শাটল ট্রেনের লোকোমাস্টারকে তুলে নিয়ে যায়। অবরোধের কারণে সকাল থেকে কোনো শাটল ট্রেন চলাচল করতে পারেনি। ফলে দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে তারা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যবস্থাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, ষোলশহরে স্টেশন থেকে অবরোধকারীরা শাটল ট্রেনের লোকোমাস্টারকে অপহরণ করার পর ছেড়ে দেয়। এর আগে তারা ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দেয়।

হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বারবার সংঘর্ষের কারণে জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ঘটনায় তারা অবরোধের ডাক দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি দেখবেন বলেছেন। এরপরও তারা অবরোধ করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সংঘর্ষে একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় অবরোধ : চবি প্রক্টর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় ছাত্রলীগের একাংশ অবরোধের ডাক দিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রক্টর মো. আলী আজগর চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে। বহিষ্কৃত কিছু ছাত্র শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে। রোববার বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী আজগর চৌধুরী বলেন, গত একমাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে বারবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা। হলে এক গ্রুপ অপর গ্রুপের কক্ষ ভাঙচুর, সংঘর্ষে আহত ছাত্র মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও মারধরের মতো ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। আজকেও (৭ এপ্রিল)  মহিলা সমিতি, টিচার্স ক্লাবের গার্ডরুম, শিক্ষক বাসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালিয়েছে।

তিনি বলেন, তাদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ থামাতে একাধিকবার বৈঠকও করা হয়েছে। সংঘাতে জড়াবে না বলে জানিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা। যখন তাদের সংঘর্ষ থামাতে আমরা হলে তল্লাশি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি, তখন বহিষ্কৃত কিছু ছাত্রের নির্দেশে এই অবরোধের ডাক দেয় তারা।

আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন বন্ধ করে, প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা কোনো ছাত্রের প্রতিবাদ-আন্দোলন হতে পারে না। গুটিকয়েকের জন্য কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ক্ষতি হবে-সেটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

পান দোকানি যুবক খুন : চট্টগ্রামে লোকমান হোসেন জনি (৩৫) নামে পান দোকারি এক যুবক খুন হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানাধীন খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সিএমসি হাসপাতাল পু্লশি ফাঁড়ির নায়েক মো. হামিদুর রহমান জানান, নিহতের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, লোকমান হোসেন জনির শরীরে গুলির চিহ্ন ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তিনি বলেন, লোকমান হোসেন নগরের গোলপাহাড় এলাকায় পানের দোকান করতেন। কি কারণে এ হত্যাকান্ড বা কারা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ