রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

নুসরাত হত্যাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন এসপি

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় জেলার পুলিশ সুপার, সোনাগাজী থানার ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল। নুসরাত হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তদন্তে গঠিত পাঁচ সদস্যের ওই তদন্ত দলের প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন বলেন, “চাপমুক্ত থেকে কাজ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তদন্তে যা যা পেয়েছি এবং যাদের গাফিলতি পেয়েছি তাদের নাম উল্লেখ করেছি।” দুই দফা ফেনী গিয়ে ঘটানস্থল ঘুরে দেখে মোট ৪১ জনের বক্তব্য শুনে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সোনাগাজী থানার তখনকার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন,উপপরিদর্শক মো. ইকবালের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পিকেএম এনামুল করিমেরও গাফিলতি ছিল বলে মনে করছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এস এম রুহুল আমিনকে বদলি করা হয়েছে। তিনি ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটির প্রধান ছিলেন।

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতের গায়ে। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয় সেখানে। কিন্তু অনেকেই এ ঘটনায় সোনাগাজীর পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতি  এবং আসামি ধরতে গড়িমসির অভিযোগ করেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশ ছিল, তারপরও এ রকম ঘটনা কীভাবে ঘটল, দোষীরা কীভাবে পালিয়ে গেল এবং ওই ঘটনার পর আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের কেন তিন দিন সময় লাগল- সেই প্রশ্নও ওঠে। এই পরিস্থিতিতে ১০ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার দায়িত্ব সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইয়ের হাতে। ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। তার ভাইয়ের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি রূপান্তরিত হয় হত্যা মামলায়।

তখন অভিযোগ ওঠে, ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাতের মৃত্যুর বিষয়টি ‘আত্মহত্যা’ বলার চেষ্টা করেন। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ওই ঘটনা সারা দেশে ক্ষোভের সৃষ্টি করলেও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর ঘটনার তদন্তে যাথাযথ গুরুত্ব দেননি বলেও অভিযোগ ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে অবহেলার পাশাপাশি সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে ১৩ এপ্রিল পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। ওই তদন্ত দলের সদস্যরা ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল দুই দফর ফেনী গিয়ে তদন্ত করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, দুইজন শিক্ষার্থী এবং ৪/৫ জন সাংবাদিকদেরও বক্তব্য শোনেন তারা।

এদিকে নুসরাতের মৃত্যুর পরদিন ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানায় ওসির সামনে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরতে গিয়ে অঝোরে কাঁদছেন ওই তরুণী। নিজের মুখ তিনি দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। সে সময় ওসি মোয়াজ্জেম ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে’। ওই ভিডিও ধারণ এবং তা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলাও দায়ের করেন সৈয়দ সায়েদুল হক নামের এক আইনজীবী। ওই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পুলিশকে ২৭ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছে বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল।

পুলিশের ভূমিকা যাচাই কমিটির প্রধানকে বদলি

পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এস এম রুহুল আমিনকে বদলি করা হয়েছে। তিনি ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটির প্রধান ছিলেন।

গত ৩০ এপ্রিল ওই কমিটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছিল।

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা গতকাল বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে এক ক্ষুদে বার্তায় বলেন, এস এম রুহুল আমিনের বদলি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। তিনি ২৫ এপ্রিল উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে মানবসম্পদ বিভাগে বদলি হয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে ৩০ এপ্রিল।

এসপিও নুসরাত হত্যাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন  

 সোনাগাজী থানার ওসিকে বাঁচাতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি ‘আত্মহত্যা’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপারও । শুরু থেকেই এ ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল ফেনীর পুলিশ। মামলার এজাহার নিয়েও কূটচাল চালিয়েছিল। ঘটনার দিন (৬ এপ্রিল) পুলিশ সদর দফতরে মৌখিক মেসেজে এসপি এটাকে আত্মহত্যা বলে মেসেজ দিয়েছিলেন। লিখিত রিপোর্টেও তিনি একই কথা জানিয়েছিলেন। পুলিশ সদর দফতরের তদন্তে তার গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।

২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির ঘটনাকে সোনাগাজীর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন সাজানো নাটক। ৬ এপ্রিল যখন নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়, ওই একই ওসি এটাকে বলেন আত্মহত্যার চেষ্টা। আর ফেনীর এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার নুসরাতকে রক্ষায় সময় না পেলেও ওসির পক্ষে সাফাই গাইতে সময়ের অভাব হয়নি। তিনি আর ওসি মিলেই হয়তো নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার এজাহারে নানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। অধ্যক্ষের নাম বাদ দেওয়ারও চেষ্টা ছিল। ওসিকে বাঁচাতে এসপি ছিলেন মরিয়া। ওসিকে প্রত্যাহার করা হলেও এসপি তাতে নারাজ ছিলেন। তিনি বলেন,‘ প্রত্যাহার নয়, বদলি।’

সূত্র জানায়, নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ফেনীর এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ১১ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতর, বিশেষ শাখা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির দফতরে একটি চিঠি পাঠান। তিনি জানান, ঘটনার দিন নুসরাত মাদ্রাসায় যান। এরপর পরীক্ষা হলে তার আসনে ফাইলপত্র রেখে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদের ওপরে বাথরুমের কাছে যান। কিছুক্ষণ পর গায়ে আগুন লাগা অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে চিৎকার করতে করতে নেমে আসেন। তখন কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসার কর্মচারীরা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা মামলা করতে কালক্ষেপণ করেন। পুলিশ নুসরাতের চাচাকে বাদী করে মামলা করতে চায়। তাতে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান আপত্তি জানিয়েছিল। তারা দুইবার এজাহার বদল করেন।

নুসরাতের ভাইয়ের কথা

এই প্রসঙ্গে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘এসপি চিঠিতে ঘটনাটি যেভাবে বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে, নুসরাত নিজের ইচ্ছাতেই ভবনের ওপরে গেছে। অথচ তাকে পরিকল্পনা করে ডেকে নেওয়া হয়। এছাড়া হাত-পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনও কথাই উল্লেখ করা হয়নি।’

মূলত সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে রক্ষায় এসপি চিঠি দিয়েছেন অভিযোগ করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান তদন্ত কমিটির কাছে বলেছেন, ‘২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার পর থেকে ওসি বলে আসছেন, শ্লীলতাহানির অভিযোগ সাজানো। এমনকি ৬ এপ্রিল তার বোনকে হত্যাচেষ্টার ঘণ্টা দেড়েক আগেও মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক আফছারউদ্দীন মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। হত্যাচেষ্টার ৩০ ঘণ্টা পর ওসি বলেছেন, এটা হত্যাচেষ্টা না আত্মহত্যার চেষ্টা, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। ৮ এপ্রিল ওসি যে মামলা সাজিয়ে ঢামেকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, সেখানেও তথ্য গোপনের চেষ্টা করেছেন। পরিবারের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত মামলার এজাহার বদল করেছে।’

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘৬ এপ্রিল রাতে সোনাগাজীর পুলিশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাতের সাক্ষাৎকার নিয়ে পরিবারকে পড়ে শোনায়। কিন্তু, এজাহারে দেখা যায় ঘটনাস্থল লেখা হয়েছে ভুলভাবে। নুসরাতকে হাত-পা বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ আসেনি। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামীর নামও বাদ দেওয়া হয়।’

জনপ্রতিনিধিরা যা বলছেন

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘নৃশংস হত্যাকান্ডে (নুসরাত হত্যা) সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা ও যোগসাজশের যে প্রমাণ পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনে থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ফেনীর এসপি নুসরাতের অভিযোগ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আমলে তো নেয়নি, বরং অভিযোগটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি নুসরাতকে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা একে আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মামলা নেওয়ার পরও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।’

 সোনাগাজী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জেডএম কামরুল আনম বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী নিজেদের কতটা জনবান্ধব ও জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে, সেটা তারা নিজেরাই ভেবে দেখতে পারে। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে, অথচ এরইমধ্যে ফেনীর পুলিশ সুপার লিখিতভাবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের পক্ষ নিয়েছেন। সুতরাং পুলিশের এই তদন্ত কতটা কার্যকরী হবে, সে ব্যাপারে আমরা একেবারেই আশ্বস্ত হতে পারছি না।’

 ফেনী আইনজীবী সমিতি সভাপতি মো. আলী বলেন, ‘শুধু সংশ্লিষ্ট জেলা বা থানা থেকে পুলিশের এসব কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়াটা কোনও শাস্তি হতে পারে না। এজন্য অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিতে হবে।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার কোনও কথা বলতে রাজি হননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ