বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে ‘মারাত্মক প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় ফণী

২ মে, এনডিটিভি/আনন্দবাজার : ‘মারাত্মক প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় ফণী এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের উপকূলের দিকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে ঘূর্ণিঝড়টি ওই উপকূল থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল বলে এক টুইটে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

এর আগে ছয় ঘণ্টা ধরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার করে এগিয়েছে এবং আজ শুক্রবার বিকালের পরে কোনো একসময় ওড়িশার পুরী শহরের দক্ষিণ উপকূল দিয়ে স্থলে উঠে আসতে পারে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের একটানা গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বলা হয়েছে। 

ভারতের স্থানীয় সময় সকালের দিকে ফণী উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে বিশাখাপাটনাম উপকূলের সমান্তরালে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। এর আগে ঘর্ণিঝড়টি উত্তরপশ্চিম দিক ধরে অগ্রসর হচ্ছিল। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপাটনাম থেকে ২২০ কিলোমিটার দূর এবং ওড়িশার পুরী থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দূরে ছিল। 

বুধবার সন্ধ্যায় ফণী কলকাতা থেকে ১০০০ কিলোমিটার ও দিঘা থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

ওড়িশার ঊনিশটি জেলা, পশ্চিম বঙ্গ ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় তিনটি জেলায় ফণী আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বুধবার ভারতের ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে ২২টি ট্রেনের সূচী বাতিল করায় মোট বাতিল করা ট্রেনসূচি ১০৩টিতে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ওড়িশায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছে। পশ্চিম বঙ্গ ও অন্ধ্র প্রদেশের তিনটি জেলায়ও একই সতর্র্কতা জারি করা হয়েছে। ইস্যু করা এক বিশেষ বার্তা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছে তারা।

ওই উপকূলীয় এলাকার জেলেদের ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

ভূবনেশ্বর আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক এইচ আর বিশ্বাস গতকাল বৃহস্পতিবার, “ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের অধিকাংশ এলাকায় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ভারি থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। আজ ইঙ্গিত দেন। ওড়িশার ১১টি উপকূলীয় জেলায় ও তৎসংলগ্ন ভিতরের জেলাগুলিতেও ভারি থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের।”

পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ওড়িশার উপকূলীয় গানজাম জেলা থেকে ১৮০ জন গর্ভবতী নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওড়িশার নিচু এলাকার আট লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে ৮৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র নেওয়া হয়েছে।

ওড়িশার উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে বৃহস্পতিবার ২৬ লাখ ৩০ হাজার এসএমএস পাঠানো হয়েছে এবং এ পর্যন্ত মোট ৯৭ লাখ ৪০ হাজার ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। 

ঝড়ো হাওয়া থেকে বাঁচনোর জন্য পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ধ্বজা ২১ ফুট থেকে কমিয়ে সাত ফুট করার পরও সেটি রক্ষা করা যায়নি। ঝড়ো হাওয়ায় ওই নিচু ধ্বজাও উড়ে গেছে। ধ্বজা উড়ে যাওয়ার কারণে মন্দিরের পুজা বন্ধ রাখা হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ