সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

শিরোপার লড়াইয়ে আজ লাওসের মুখোমুখি আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার: বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলের শিরোপার লড়াইয়ে আজ শুক্রবার লাওসের বিপক্ষে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।ফাইনালের প্রতিপক্ষ লাওস এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ভালো ফুটবল খেললেও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। দুটি দলই এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে। তবে স্বাগতিকদের চেয়ে লাওস প্রতিটি ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। তারা তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়েছে ১৮টি। আর বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়েছে ৭টি।গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে হারায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারিয়েছে ২-১ গোলে। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মঙ্গোলিয়া। লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা ৩-০ গোলে জিতে উঠেছে ফাইনালে।অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ লাওস তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে চুরমার করেছে। প্রথম ম্যাচে তারা ৫-০ গোলে হারিয়েছে মঙ্গোলিয়াকে। দ্বিতীয় ম্যাচে লাওস ৬-০ গোলে হারিয়েছে তাজিকিস্তানকে। সেমিফাইনালে লাওস ৭-১ গোলে কিরগিজস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে।

ফাইনাল সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের কোচ ও অধিনায়কই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন। দুই দলের কোচই বলেছেন, ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াই হবে। লাওসের কোচ ভংমিসে সোবোখাম দুই দলের সম্ভাবনা দেখছেন ফিফটি ফিফটি। আর বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন নিজ দলকেই এগিয়ে রাখছেন ফেবারিট হিসেবে।প্রতিযোগিতাটিকে স্মরণীয় করে রাখার প্রতিশ্রুতি সেই শুরুতেই দিয়েছিলেন রব্বানী। লাওসকে শক্তিশালী মেনে নিয়ে একই কথা আবারও বললেন বাংলাদেশ কোচ।“ফাইনালে ওঠার প্রথম লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। এবার শিরোপা জিতে বঙ্গমাতা ফুটবলের প্রথম আসরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।”গত তিন ম্যাচে লাওস দিয়েছে ১৮ গোল; খেয়েছে মাত্র একটি। বাংলাদেশ ৭ গোল দিয়ে খেয়েছে একটি। সর্বোচ্চ গোলদাতা লাওসের ফরোয়ার্ড পি কেওতা একাই করেছেন ৮টি, যা বাংলাদেশ দলের দেওয়া মোট গোলের চেয়েও একটি বেশি। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাও লাওসের ডিফেন্ডার সেসামোন ইনথাফোন (৪টি)।

শিউলি আজিম-আঁখি খাতুন-শামসুন্নাহার (সিনিয়র)-নার্গিস খাতুনে সাঁজানো রক্ষণভাগকে গত তিন ম্যাচে তেমন কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। রুপনা চাকমাকেও গোলপোস্টের নিচে পার করতে হয়েছে অলস সময়। আঁখি-রুপনাদের জন্য ফাইনাল কঠিন পরীক্ষা হবে বলেই মনে করেন রব্বানী। প্রতিপক্ষের দুই ফরোয়ার্ড পি এবং আফাতসালা চ্যানথিথংয়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি।“আগের তিন ম্যাচে আমাদের ডিফেন্ডারদের তেমন পরীক্ষা দিতে হয়নি। তাদের আসল পরীক্ষা হবে ফাইনালে। কেননা, লাওসের আক্রমণভাগ খুবই শক্তিশালী। তবে আশা করছি আমাদের ডিফেন্ডাররা তাল মিলিয়ে খেলতে সক্ষম হবে।”

“আমাদের মেয়েরা একই গতিতে ৯০ মিনিট খেলতে পারে; এটা তাদের বড় শক্তি। লাওসের পি ও আফাতসালা দুজনেই গোলমেশিন এবং বিপদজ্জনক খেলোয়াড়। তাদের আটকানোর জন্য বিশেষ পররিকল্পনা আছে আমাদের।”গ্রুপ পর্বে কিরগিজস্তান ম্যাচে চোট পাওয়া দুই ফরোয়ার্ডের মধ্যে সিরাত জাহান স্বপ্নাকে পাচ্ছে না দল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ দুই গোল করা কৃষ্ণা রানী সরকারের চোট সেরে ওঠায় তার শুরু একাদশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ। লাওসকে আটকাতে মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্ডার দিকেও বিশেষভাবে তাকিয়ে আছেন তিনি।“স্বপ্নার ইনজুরি ভালো হয়নি। সে ফাইনালে খেলবে না। কৃষ্ণা সেরে উঠেছে। তার খেলার সম্ভাবনা আছে। মাঝমাঠে আমাদের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে মনিকা ও মারিয়া। ফাইনালে দুজন যদি একসঙ্গে জ্বলে ওঠে, তাহলে দল অবশ্যই জিতবে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ