রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনীতির ‘চমক’ এবং ‘ইউটার্ণ’ হিসেবে দেখছে বিএনপি

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়াজ এর উদ্যোগে উন্নয়নের মৃত্যুকূপে জনজীবন নুসরাত একটি প্রতিবাদ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

# সমঝোতা হয়ে থাকলে খোলাখুলি বলেন কী হয়েছে -মান্না
স্টাফ রিপোর্টার : দলীয় সদস্যদের সংসদে শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনীতির ‘চমক’ এবং ‘ইউটার্ণ’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল (সোমবার) থেকে রাজনীতি খুব গরম হয়ে উঠেছে। গরম হয়ে উঠেছে যে, বিএনপির নির্বাচিত বলে ঘোষিত যে সমস্ত সংসদ সদস্য তারা সংসদে শপথ নিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে একটা চমক। চমকের মতো একটা সংবাদ। ইউটার্ণ এর মতো।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মানবাধিকার সংগঠন আওয়াজের উদ্যোগে ‘উন্নয়নের মৃত্যুকূপে জনজীবন: নুসরাত একটি প্রতিবাদ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বেগম সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এই আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এছাড়া আওয়াজের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপিকা শাহিদা রফিকসহ নারী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
শপথ নেয়ার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলীয় যে সিদ্ধান্ত ছিলো, সেই সিদ্ধান্ত ছিলো, ৩০ ডিসেম্বরের যে নির্বাচন সেই নির্বাচন মনে করেছি যে, এটা কোনো নির্বাচনই ছিলো না। ২৯ তারিখ রাতেই ভোট চুরি হয়ে গেছে এবং এটা পুরোপুরিভাবে জনগণের সাথে প্রতারণা করে তাদেরকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সেই নির্বাচন ক্ষমতাসীন শাসক দল তাদের দিকে নিয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন সবাই ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থেকে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। জনগণের ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা শপথ গ্রহণ করব না।
সিদ্ধান্ত পাল্টানোর কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, যেটা আমরা বিশ্বাস করি, কোনো সিদ্ধান্তই পার্মানেন্ট বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকবে, স্থবির হয়ে থাকবে, এটা সব সময় সঠিক নয়। বিশেষ করে বর্তমানে সারা বিশ্বে যে রাজনীতি চলছে এবং সারা বিশ্বের রাজনীতির যে প্রেক্ষাপট সব কিছুকে প্রেক্ষিতে নিয়ে আমরা আমাদের বক্তব্যে খুব স্পষ্ট করে বলেছি যে, আমরা ন্যূনতম যে সুযোগটুকু আছে সংসদের ভেতরে গিয়ে কথা বলার সেই সুযোগটিকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা বিশ্বাস করি এবং আমার মনে হয়, দেশের চিন্তাবিদরাও এই সিদ্ধান্তটা আমাদের জন্য খুব খারাপ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যে শপথ নিয়েছি, এর জন্য অনেকে অনেক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু সময়ই প্রমাণ করবে, শপথ নেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত কি না। আগে আমরা শপথ নিইনি, তার মানে এখন নেব না, তা তো হতে পারে না। ‘ভয়াবহ দানব’-কে পরাজিত করার জন্যই শপথ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সবাই শপথ নিয়েছে, কিন্তু আমি শপথ নিইনি। এটা আমাদের দলের সিদ্ধান্ত। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু হয়নি। এটা কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, স্পিকারের কাছে কোনো সময় চাইনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, কিছু কিছু পত্রিকা লিখেছে, আমি শপথের জন্য সময় চেয়েছি। একটি পত্রিকা লিখেছে, আমি আজ শপথ গ্রহণ করব। এটি সাংবাদিকতার এথিক্সের (নীতি) মধ্যে পড়ে না।
সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না করার দাবি করে ফখরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া সমঝোতা করলে অনেক আগেই তিনি এ দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকতেন। আমরা কোনো বিদেশির পরামর্শে কিছু করিনি। আমরা চলমান রাজনীতি দেখছি। এগুলো বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সংসদে যাওয়ার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের গণতন্ত্র চর্চার যে জায়গাটুকু, প্রতিবাদ করার যে জায়গাটুকু, তা একেবারে সংকীর্ণ হয়ে আসছে। তাই আমরা সেই জায়গা থেকে ন্যূনতম কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। সময় প্রমাণ করবে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হলো কিনা। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই সিদ্ধান্তটি সঠিক সিদ্ধান্ত। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জানি এই রকম নিষ্ঠুর সরকার ক্ষমতায় আসেনি। বেগম জিয়া বলে গিয়েছিলেন, লেডি হিটলার অতীতে ক্ষমতায় এসেছে। আমি মনে করি উনি খুব ফিল করেন। আমি বেগম জিয়া, আবদুস সালামসহ যারা জেলে আছেন সবার মুক্তি দাবি করছি। আমি সবার কাছে আবেদন করে বলতে চাই, আমাদের লড়াই ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ নেই। আপোষকামীতায়-সহযোগিতা-সহমর্মিতায়-সমঝোতায় আপনি জিততে পারবেন না। যদি সমঝোতা হয় তাহলে সেই সমঝোতাটা খোলাখুলি বলেন কী সমঝোতা হয়েছে? আগেই তো আপনারা কাজ সেরে ফেলেছেন তারপরেও সমঝোতার গুটি আপনার কাছে আছে ? খেলতে বসে দাবার চাল দিয়ে দিয়েছেন এবার ওই পক্ষ চাল দেবে। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ