মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঘৃণার আদর্শ আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারেনি-------প্রিন্স উইলিয়াম

৩০ এপ্রিল, পিপল ডট কম : যুক্তরাজ্যের রাজ পরিবারের জনপ্রিয় ব্যক্তি প্রিন্স উইলিয়াম বলেছেন, ‘ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদ থেকে লিনউড মসজিদ আমাদের এ বার্তা দিয়েছে যে, ঘৃণার বৈশ্বিক আদর্শ আমাদের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারে নি।’

নিউজিল্যান্ডের আল-নূর মসজিদে উপস্থিত জনতার সামনে এক বক্তৃতা দেয়া কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হামলায় নিহতদের স্মরণ করতে গিয়ে প্রিন্স উইলিয়াম আল-নূর মসজিদ এবং লিনউড মসজিদে হামলায় প্রিয়জন হারানোদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

গত মাসের ১৫ তারিখে আল-নূর মসজিদে হামলা চালিয়ে ৪০ জন মুসলিম কে হত্যা করা হয় আর প্রিন্স উইলিয়াম এধরনের ন্যক্কারজনক কাজ কে ‘ভাষায় প্রকাশ অযোগ্য ঘৃণ্য কাজ যা নিউজিল্যান্ডের মত শান্তিপূর্ণ দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছে’ বলে অভিহিত করেন।

প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, ‘আমি দৃঢ় পদক্ষেপে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং আমি বিশ্বাস করি যে ভালোবাসার শক্তি সবসময় ঘৃণার শক্তির উপরে জয়ী হয়।’

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ‘ভয় এবং অবিশ্বাসের জন্ম’ দিতে চেয়েছিল কিন্তু ‘নিউজিল্যান্ডের জনগণের অন্য পরিকল্পনা ছিল। আল-নূর মসজিদ এবং লিনউড মসজিদে প্রার্থনার জন্য আসা মানুষদের ভিন্ন পরিকল্পনা ছিল। এরকম যন্ত্রণাদায়ক সময়ে আপনারা একসাথে পাশাপাশি সুদৃঢ় ভাবে একে অপরের জন্য দাঁড়িয়েছেন।’

প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, ‘এই হৃদয় বিদারক ঘটনার সম্পর্কে আপনারা যে ভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাতে আপনারা স্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’ ৩৬ বছর বয়সী প্রিন্স উইলিয়াম তার ১৫ বছর বয়সের সময় তার মা প্রিন্সেস ডায়ানা কে হারান এবং তিনি আল-নূর মসজিদে সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সামনে বলেন, ‘আপনাদের এই হৃদয় বিদারক ঘটনার সাথে সমবেদনা জানানোর আমার নিজের ও কিছু কারণ রয়েছে। আমি আজ আপনাদের চোখে প্রিয়জন হারানোর মত বিয়োগান্তক ঘটনা দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি যা বুঝতে পেরেছি তা হচ্ছে এই যে, অবশ্যই শোক দুঃখ আপনাদের আপনাদের বাহ্যিক দিকের পরিবর্তন করে দিয়েছে। আপনারা কোনোভাবেই এই দুঃখ, বেদনা ভুলতে পারবেন না।’

প্রিন্স উইলিয়াম আরো বলেন, ‘কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এই শোক আপনারা পূর্বে যেমন ছিলেন তার পরিবর্তন ঘটাতে পারে নি। আপনার যদি শোক দুঃখ কে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন তবে আপনারা যা তাই উদ্ভাসিত হবে। এটি আপনাদের ভেতরকার কোমল দিক উদ্ভাসিত করবে যা আপনি নিজেও জানতেন না যে, আপনি এমন কোমল হৃদয়ের অধিকারী।’

‘Child Bereavement UK’ নামের দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সমর্থক প্রিন্স উইলিয়াম আরো যুক্ত করে বলেন, ‘শোক আপনাদের মনের ভেতরকার এমন বিস্ময়কর দিকের উন্মোচন করবে যা আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না এবং এটি আপনাকে আপনার মূল্যবোধের সাথে জীবন যাপন করতে উৎসাহ দিবে।’ এর পূর্বে প্রিন্স উইলিয়াম ক্রাইস্টচার্চে হামলায় আহতদের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে সফর করেন।

তিনি একই সাথে হামলায় গুরতর আহত একটি মেয়ে শিশু কে দেখতে হাসপাতালে যান এবং তাকে দেখে তিনি নিজের কন্যা চার্লত এর কথা স্মরণ করেন।

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পরে যেভাবে নিউজিল্যান্ডের জনগণ এগিয়ে এসেছিল এবং মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে তার প্রশংসা করে উইলিয়াম বলেন, ‘এই জাতি এটি উদ্ভাসিত করেছে যে, আপনাদের সহানুভূতি, ধৈর্য, উষ্ণ আলিঙ্গন এবং ভালোবাসার শক্তি কতটা গভীর হতে পারে।’

প্রিন্স উইলিয়াম আরো বলেন, ‘আপনারা দেখিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড কি করতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছেন। দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি সমূহ আক্রান্তদের যেভাবে হাসপাতালে নিয়ে ছুটেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় এমনকি তারা জানতো না যে এটি তাদের জন্য নিরাপদ হবে কিনা।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতিবেশীরা সংঘাতের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য ঘরের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।’

বক্তব্যের শেষে প্রিন্স উইলিয়াম আবারো তার কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘ক্রাইস্টচার্চ এবং আল-নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদ যে বার্তা দিয়েছে তা পরিষ্কার- বৈশ্বিক ঘৃণার আদর্শ আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ