মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার মতো অগ্রগতি নেই

৩০ এপ্রিল, এপি, আনাদুলো এজেন্সি : জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান বলেছেন, রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারে কেন ফিরে যাবে, সে ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই।

সদ্য বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক বলেন, মিয়ানমার আত্মবিশ্বাস যোগাতে ব্যর্থ হয়েছে, যাতে করে তারা (রোহিঙ্গা) সেখানে ফেরার ব্যাপারে নিরাপদ বোধ ভাবতে পারে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে এটা ‘অত্যন্ত উদ্বেগের’ বিষয় যে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের ভুক্তভোগী জনসংখ্যার জন্য ৯৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আবেদন করা হলেও চলতি বছরে মাত্র ১৭ শতাংশ অর্থায়ন করা হয়েছে।

 ‘আমার মনে হয় এ ব্যাপারে বিশ্ব তার আগ্রহ হারাচ্ছে। গত বছরে যা চেয়েছি (অর্থ), তার ৭০ শতাংশ পেয়েছি। আমরা এখন পেছন ফিরে যাচ্ছি, যোগ করেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক এ প্রধান ব্যক্তি মনে করেন, পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া না গেলে এর পরিনতি খুব খারাপ হতে পারে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হবে

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হবে বলে মনে করে রাশিয়া। গত সোমবার মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের তাগিদ দিয়েছে ল্যাভরভ। তিনি বলেন, এ সংকটের একটি যথার্থ সমাধান পেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দুই দেশকে সহায়তা করা।

 সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, আমি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার বাইরে অন্য কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পথ দেখি না।

মিয়ানমারের পরিকল্পিত রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো সোচ্চার হলেও এ ইস্যুতে বরাবরই মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে চীন ও রাশিয়া। এমনকি রোহিঙ্গাদের ওপর বর্মি বর্বরতাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় যুক্তরাষ্ট্রেরও সমালোচনা করেছে দেশটি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে কোনও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাবে বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে চীন-রাশিয়া।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরুর পর জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ