মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঘূর্ণিঝড় “ফণি” এখনও বঙ্গোপসাগরে

চট্টগ্রাম ব্যুরো : দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় “ফণি” আরও উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৮০ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫১০ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৩৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৫০৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিঃ মিঃ এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিঃ মিঃ যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিঃ মিঃ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরকে ২ (দুই) নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানবে না, ভারতের উপকূলে আঘাত হানবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না।
গরম কমার সুখবর নেই
ফণী যাচ্ছে ভারতের দিকে
স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে টেনে নিচ্ছে মেঘ। ফলে বাংলাদেশে বয়ে যাওয়া মাঝারি তাপপ্রবাহ এখনই অবসানের কোনো সুখবর দিতে পারছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, ফণী আরও শক্তি বাড়িয়ে দক্ষিণ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চেন্নাইয়ের দক্ষিণ-পূর্বে ১ হাজার কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে বঙ্গোপসাগরের ওপর ফণী অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তি নিয়ে যে কোনও সময় অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী এলাকার উপর দিয়ে ১৮৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তামিলনাড়ু, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িষ্যায় জেলেদের ফণীর কারণে উত্তাল সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়া অফিস বলছে, গরম অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বাতাসের গতি ও গতির দিকের। মূলত, শরীর থেকে ঘাম শুকাতে না পারলে গরম অনুভূতি বেশি হয়। ঢাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বাতাস এ কয়দিন তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু সোমবার বাতাসের গতি বেশি হওয়ায় শরীরের ঘাম জমছে কম ও গরম অনুভূতিও হচ্ছে কম। তাপপ্রবাহ ও বায়ুর প্রবাহের এ অবস্থা দেশজুড়ে আরও দু’দিন থাকবে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে তাপপ্রবাহের তেমন একটা হেরফের হবে না। দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে বা বাড়তে পারে। এদিক থেকে রাজশাহী অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।  সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলিসিয়াস।
তিনি বলেন, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলে কালবৈশাখীর আভাস রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলে আপাতত বৃষ্টির কোনো আভাস নেই।  ঘূর্ণিঝড় ফণি সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস বলছে, এটি ধীরে ধীরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে এটি আরও কাছাকাছি এলে বোঝা যাবে, এর গতি বাংলাদেশের উপকূলের দিকে কিনা। তখনই বলা যাবে, এটি আমাদের জন্য কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ।
আব্দুল মান্নান বলেন, ফণি নিয়ে আপাতত শঙ্কার কিছু নেই। এর গতিমুখ এখনো ভারতের উপকূলের দিকে। তবে গভীর সমুদ্রে আমাদের জন্য চিন্তার বিষয় আছে। এজন্য দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ একেএম রুহুল কুদ্দুছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- সোমবার দুপুর ১২টায় ফণি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ হাজার ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ঝড়োহাওয়ার শঙ্কায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী সংকেতও বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত শনিবার ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী এর নাম দেওয়া হয় ‘ফণী’। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলে এ নামটি প্রস্তাব করে বাংলাদেশ। ফণী অর্থ সাপ।
ফণীর মতিগতি বিশ্লেষণ করে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত এ ঝড় অন্ধ্র উপকূলের দিয়ে অগ্রসর হয়ে তারপর উত্তর দিকে বাঁক নেবে। ৩ মে দক্ষিণ ভারতের বিশাখাপত্তম উপকূলে পৌঁছে ফণা নুয়ে পড়তে পারে ফণীর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ