শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

শালীন পোশাকের গুরুত্ব

পোশাক সভ্যতার প্রতীক। আদিম যুগে পোশাক আবিষ্কার হয়নি। তাই গাছের পাতা, ছাল-বাকল, পশুর চামড়া ইত্যাদি দিয়ে আদিম যুগের মানুষ লজ্জানিবারণের চেষ্টা করেছে। বুদ্ধিবিবেকসম্পন্ন মানুষ নিজের লজ্জাস্থান অন্যের কাছে উন্মুক্ত করে না। করতে চায়ও না। জীবনসঙ্গী ব্যতীত অন্যের কাছে নিজেকে উন্মুক্ত করা সচেতন মানুষের দ্বারা সম্ভবপর নয়। তবে যারা মানুষ নয়, আর হলেও স্বাভাবিক জ্ঞানচেতনার ঊর্ধ্বে তারা সবই পারে। আমরা যাদের পাগল বলি, তাদের কথা ভিন্ন। যার হিতাহিত জ্ঞান নেই, বোধবুদ্ধি নেই তার দ্বারা সবই সম্ভব।
 পোশাক মানুষের সৌন্দর্য বাড়ায়। মর্যাদা বৃদ্ধি করে। নিরাপত্তা দেয়। তবে সে পোশাক হতে হবে সুন্দর, রুচিশীল এবং শালীনতাসম্পন্ন। সুন্দর পোশাক যেমন সৌন্দর্য বাড়ায়, মর্যাদা বৃদ্ধি করে; তেমনই অসুন্দর, অশালীন ও বেঢপ পোশাক মানুষকে করে অসুন্দর, রুচিহীন এবং অসামাজিকও। কথায় বলে, আহার নিজের রুচিমতো। আর পোশাক অন্যের রুচিমতো। মানুষ খায় নিজের রুচি ও ইচ্ছে মাফিক। অন্যের ইচ্ছেমতো খেতে গেলে যেকোনও সময় স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে। বিঘœ ঘটাতে পারে জীবনের। তেমনই পোশাক নিজের ইচ্ছেমতো যাচ্ছেতাই হলেই হয় না। অন্যের দৃষ্টিতে যাতে খারাপ বা বিসদৃশ মনে না হয়, পোশাকপরিচ্ছদ দেখে কাউকে মানুষ যেন পাগল, জঙলি বা জঙ্গি না ভেবে বসে। এমন দৃষ্টিনন্দন, শালীন এবং শোভন পোশাকই রুচিশীল মানুষ পরিধান করে। অবশ্য স্থান-কাল-পাত্রভেদে পোশাকের তারতম্য বা ফারাক কিছু হতেই পারে। তবে তা যাতে সীমালংঘনের পর্যায়ে না চলে যায় সেদিকেও খেয়াল রাখা খুব জরুরি।
আমাদের সমাজে পোশাক-পরিচ্ছদে উচ্ছৃঙ্খলতা লক্ষ্মণীয়। বিশেষত উঠতি বয়সী মেয়েদের পোশাকে উচ্ছৃঙ্খলতা মহামারী আকার ধারণ করেছে বলা যায়। কেউ কেউ অবশ্য শরিয়াভিত্তিক পোশাক পরিধান করে। তবে অনেকের বেলায় সেটাও যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। সোনাগাজির নুসরাত জাহান রাফির কথাই ধরা যাক। তার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এখনও তোলপাড় চলছে দেশে। হয়তো চলবে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া অবধি। হ্যাঁ, নুসরাত শরিয়া মোতাবেক হিজাব পরিধান করতো ঠিকই। কিন্তু তার অধরে টকটকে লাল যে রঙ দেখা যেতো তা কি খুব জরুরি ছিল? নিশ্চয়ই না। বোরকাপরিহিতা অবস্থায়ও অধরযুগলে এমন উজ্জ্বল লিপস্টিকের ব্যবহার খুব সঙ্গত মনে হয়নি। এতে সহপাঠী তরুণ বয়সীরা ছাড়া আরও কেউ কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে অঘটনে আগ্রহী হতে পারেন। বিশেষত দুশ্চরিত্রের সিরাজরাতো বটেই। কারণ তরুণীদের অধরের উজ্জ্বল লিপস্টিকও অনেক মাস্তান অথবা উঠতি বয়সী তারুণ্যকে বিভ্রান্ত ও ভ্রষ্ট করতে পারে। কখনও কখনও শরিয়াভিত্তিক অতিরিক্ত উজ্জ্বল পোশাকও অঘটন ঘটাতে ভূমিকা রাখে। কাজেই নারীদের সবসময়ই শালীন এবং মার্জিত পোশাকের প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিত। নৈতিকতার অধঃপতনের যুগে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা মহামারী আকার ধারণ করেছে বলা যায়। এমন অসামাজিকতার প্রবল প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে অপরাধীদের যেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, তেমন শালীন পোশাকের প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দেয়াও জরুরি  বৈকি। বিষয়টি সমাজচিন্তকরা ভেবে দেখতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ