শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

শ্রীলঙ্কায় জঙ্গী হামলার উদ্দেশ্য

২১ এপ্রিল খৃস্টান ধর্মালম্বীদের ইস্টার সানডের উপাসনার সময় দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কার কয়েকটি গির্জা এবং আবাসিক হোটেলে একযোগে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাদ যায়নি মসজিদও। তবে মসজিদে হামলার খবর চাপা দেয়া হয়েছে। নিহত হয়েছেন ৩৫৯ জন। এ সংখ্যা ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে। আহত ৫ শতাধিক। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৩৫ জনের মতো বিদেশি পর্যটকও। উল্লেখ্য, পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশের সরকার দলীয় নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ে-জামাইসহ ২ নাতিও ছিলেন। এদের মধ্যে এক নাতি দুর্ভাগ্যক্রমে নিহত এবং জামাই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আমরা সকল নিহতের জন্য শোক জ্ঞাপন করছি। দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি চিকিৎসাধীন আহতদেরও।
শ্রীলঙ্কা একটি রাজনৈতিকভাবে সংঘাতময় দেশ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে দেশটিতে তামিল টাইগারদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের লড়াই চলেছে। কয়েক বছর আগে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে এদের দমন করতে গিয়ে। সম্প্রতি তামিল গেরিলাদের প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা না গেলেও তাদের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের বিরোধ মিটে গেছে তা বলা মুশকিল বৈকি। এছাড়া সম্প্রতি ক্ষমতার হাতবদল নিয়েও যথেষ্ট ঝামেলা রয়েছে দ্বীপদেশটিতে। কাজেই কোন্্ পক্ষ এ রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত করলো তা এখনও আলো-আঁধারিতে।
ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ‘নেশনাল জামাত আত তওহিদ’ বলে যে গোষ্ঠী এ আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানানো হয় তারা কারা এবং কেন এটা ঘটিয়েছে তা এখনও সুস্পষ্ট নয়। শেষমেশ আইএস রক্তক্ষয়ী এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে এক প্রেসনোটে। কিন্তু কোনও প্রমাণ তারা দেয়নি। এছাড়া অবয়ব ও পোশাকে মুসলিমের মতো হলেই যে সবাই মুসলিম হবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? আমেরিকা বলেছে, হামলাকারীরা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী দ্বারা প্রভাবিত। সরকার বলেছে হামলাকারীরা সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
অপরদিকে ঘটনার দিনেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক নির্বাচনী র‌্যালির বক্তৃতায় এ ঘটনার জন্য শ্রীলঙ্কান সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি আঙ্গুল উঁচু করেছেন। শ্রীলঙ্কার সরকারও হামলাকারী বলে উল্লেখিত গোষ্ঠীসহ আরও কয়েক জঙ্গিগোষ্ঠীর কথা জানিয়েছে। ভারতের মিডিয়া সেলগুলোও মোদিজির সুরে সুর মিলিয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন শ্রীলংকার আগে আগে হাঁটছে। কেউ কেউ আগবাড়িয়ে বলেছেন, এটা নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার প্রতিশোধ। কিন্তু সেখানকার প্রতিশোধ এখানে কারা এবং কেন নিতে যাবে? তাছাড়া নিউজিল্যান্ডের সরকারপ্রধান বিষয়টি যেভাবে সমাধানের পথে নিয়েছেন তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছ। নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় মুসলমানরা অনেক বেশি লাইম লাইটে এসেছে। সহানুভূতি পেয়েছে ব্যাপক। এটা অনেক পক্ষই ভালো চোখে দেখেনি। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চের হামলার সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলার কোনও তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তবে কি ধরে নিতে হবে যে, শ্রীলঙ্কার দীর্ঘদিনের সহাবস্থানকারী মুসলিম ও খৃস্টান এ দুটো শান্তিপ্রিয় সম্প্রদায়কে মুখোমুখি দাঁড় করাতেই এমন রক্তক্ষয়ী কা- ঘটালো কোনও পক্ষ? কারণ দেশটিতে মুসলিমরা দীর্ঘদিন থেকে সবার সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছেন। এছাড়া মুসলিমরা জঙ্গি, সন্ত্রাসী এমনটা প্রমাণ করতেই কোনও শক্তি এমন নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নিলো কিনা, তাও তলিয়ে দেখা জরুরি।
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের নাম কিংবা তাদের চেহারাসুরত মুসলিমদের মতো হলেই তারা মুসলিম হবে এমনও নয়। ইতোমধ্যে জঙ্গি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মুসলিম পরিচয়ে অমুসলিম রয়েছে এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে। তাই সাম্প্রতিককালের নিষ্ঠুরতম এ হত্যাযজ্ঞের মূল উদ্দেশ্য কী এবং কারা ঘটালো তা নিশ্চিত হতে হয়তো সময় লাগবে। একজন বোরকা পরিহিত বৌদ্ধ শ্রীলঙ্কান পুলিশের  হাতে গ্রেফতার হয়েছেন, যিনি চার্চে বোমা হামলা চালান বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ