বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শ্রীলঙ্কায় হামলার হোতা জাহরান নিহত

২৬ এপ্রিল, এনডিটিভি, বিবিসি. রয়টার্স : শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডের দিন আত্মঘাতী বোমা হামলার ‘হোতা’ জাহরান হাশিম নিহত হয়েছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।

সিরিসেনা গতকাল শুক্রবার সংবাদিকদের বলেন, “গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাকে শাংরি লা হোটেলে হামলার সময় জাহরান নিহত হওয়ার খবর দেওয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে শাংরি লা হোটেলে আত্মঘাতী হামলাকারী দ্বিতীয় ব্যক্তির নাম ইলহাম।

“গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি জানা গেছে।” 

গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের সকালে তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলে একযোগে আত্মঘাতী হামলার পর শ্রীলঙ্কায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। পুরো দেশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার সেনা। 

ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশে এক দশকের মধ্যে ভয়ঙ্করতম ওই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

শ্রীলঙ্কা সরকার বলেছে, হামলায় এক নারীসহ মোট নয়জনের অংশ নেওয়ার তথ্য রয়েছে তাদের কাছে, তাদের সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

জাহরান হাশিম এনটিজে নামে স্থানীয় একটি উগ্রপন্থি ইসলামিক দলের নেতা বলে ধারণা পুলিশের।

হামলার পর গত মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি দল আইএস হামলার দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। যেখানে সংগঠনের কালো পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির নামে শপথ নিতে দেখা যায় আটজনকে।

 আইএসের দাবি, ওই আটজনই ইস্টার সানডের দিন আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেয়। ওই আট জনের মধ্যে সাত জনের মুখ ছিল ঢাকা। একমাত্র যে ব্যক্তির মুখ সেখানে দেখা গেছে, তিনি জাহরান হাশিম।

আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন ১৩০ জন এখনো শ্রীলঙ্কায় আছেন বলে বিশ্বাস দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, পুলিশ এখনো ৭০ জনকে খুঁজছে বলে জানান সিরিসেনা।

কে এই জাহরান:

জাহরানের পরিবারের দাবি, তারা তার হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি আঁচ করতে পারেনি।

তার বোন হাশিম মাদানিয়া বলেছেন, ইস্টার সানডের হামলা আর তাতে জাহরানের ভূমিকা নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা তিনি গণমাধ্যমের খবর থেকেই ‘প্রথম জানতে পেরেছেন’। জাহারান এরকম কিছু করতে পারেন, তা তিনি কখনও ‘কল্পনাও করেননি’।  “সে আমার ভাই, কিন্তু সে যা করেছে এটা আমি কোনোভাবেই মানতে পারছি না। তাকে নিয়ে আমি আর ভাবতে চাই না।”

তামিলভাষী জাহরান গত বছর তিনেক ধরে কট্টর শরিয়া আইনের প্রচার করে আসছিলেন। নিজের ফেইসবুক ও ইউটিউব অ্যাকাউন্টে ধর্মীয় উসকানিমূলক বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে আসছিলেন তিনি।

ওই প্রচারের মাধ্যমেই নিজের অনুসারীদের মধ্যে রীতিমত তারকায় পরিণত হন জাহরান। তবে শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলমানদের অনেক সংগঠনই তার কর্মকা- নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ওঠে।

শ্রীলঙ্কার তিনজন মুসলিম নেতা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা গত তিন বছরে কয়েকবার জাহরানের বিষয়ে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, নিজেদের উদ্বেগের কথা বলেছেন। কিন্তু তাতে সাড়া মেলেনি।

ক্ষমা চাইল পুলিশ

ইস্টার সানডের পরবের দিন শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনদের তালিকায় ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীর ছবি প্রকাশ করে ফেলায় ‘ক্ষমা চেয়েছে’ শ্রীলঙ্কা পুলিশ।

লেখক ও সমাজকর্মী ওই নারীর নাম আমারা মজিদ। তিনি ‘দ্য ফরেইনারস’ নামে একটি বই লিখেছেন, যেটিতে ইসলাম সম্পর্কে চলমান ভ্রান্ত ধারণার বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেছেন।

শ্রীলঙ্কা পুলিশ বৃহস্পতিবার হামলা পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহভাজন ছয় ব্যক্তির ছবি ও নাম প্রকাশ করে।

সেখানে নিজের ছবি দেখে ওই দিনই এক টুইটে আমারা বলেন, “আজ সকালে শ্রীলঙ্কা সরকার ভুলে আমাকে ইস্টার হামলাকারী আইএসআইএসর একজন বলে চিহ্নিত করেছে।”

সন্দেহভাজনদের তালিকায় আমারার ছবি দিয়ে তার নাম ফাতিমা খাদিজা বলা হয় বলে জানায় বিবিসি।

বাল্টিমোরে জন্ম নেয়া আমারার বাবা-মা শ্রীলঙ্কার নাগরিক।

আমারা লেখেন, “এটা নিশ্চিতভাবেই ভুল এবং সত্যি বলতে, হামলা নিয়ে নজরদারিতে এরই মধ্যে আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন নানা ভাবে নিপীড়নের শিকার। আর ভুল অভিযোগ বা তদন্তের প্রয়োজন আমার নেই।

“দয়া করে আমাকে ভয়াবহ ওই হামলার সঙ্গে জড়ানো এবং আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা বন্ধ করুন।”

পরে এক টুইটে তিনি জানান, ভুলে তার ছবি ব্যবহার করায় শ্রীলঙ্কা পুলিশ ক্ষমা চেয়েছে।

আমারা ১৬ বছর বয়সে অনলাইনে ‘হিজাব প্রোজেক্ট’ নামে একটি আন্দোলন শুরু খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন।

ওই আন্দোলনে তিনি সব ধর্মের নারীদের হিজাব পরার চেষ্টা করার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি ২০১৫ সালে বিবিসির ১০০ অনুপ্রেরণাদায়ী এবং ব্যাতিক্রমী নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক খোলা চিঠিতে তার বিরুদ্ধে ‘আমেরিকার জনগণের আতঙ্ক ও পাগলামীকে পুঁজি করে রাজনীতি করার’ অভিযোগ তুলেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ