শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মৃদু দাবদাহ শুরু হতে পারে আজ 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকৃতিতে আগুন লেগেছে। গ্রীষ্মের খরতাপ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসেও। শরীর থেকে ঘাম ঝরছে অবিরাম। খাওয়া দাওয়া, চলাফেলা, কাজেকর্মে এমনকি ঘুমোনোতেই স্বস্তি মিলছে না। এমনই অস্বাভাবিক গরমে শরীরে দেখা দিতে পারে পানি শূন্যতা। যাবে বলা হয় ডি-হাইড্রেশন। আর এই ডি-হাইড্রেশনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা মানুষের মস্তিষ্কে চাপ পড়ে, অচেতন হয়ে যায় মানুষ। যাকে বলা হয় হিটস্ট্রোক। 

প্রতিদিনের বাড়তে থাকা তাপ প্রবাহে গাছপালা নদীনালা মাঠঘাট যখন শুকিয়ে চৌচির তখন এই হিটস্ট্রোকেরও ঝুঁকি বাড়ছে। এই সময়টাতে বিশেষত খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ যারা রোদে পুড়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। মনে রাখতে হবে- এই হিটস্ট্রোক একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের অতি অল্প সময়ে মৃত্যুও ঘটায়।

এদিকে গেল প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিরও কোনও দেখা নেই। আকাশে মেঘেরও কোনও আনাগোনাও নেই। প্রচ- উত্তাপ ছড়াচ্ছে সূর্য। তেজ বাড়ছে রোদের। আজ শুক্রবার থেকে সূর্যের উত্তাপ আরও বাড়তে পারে। 

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল দুপুরে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনায় ছিল সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবার দেশের ওপর দিয়ে মৃদু দাবদাহ বয়ে যেতে পারে। যা পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরে দেয়া তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার দুপুরে আড়াইটা নাগাদ ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাদারীপুরে- ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

একইসময়ে ময়মনসিংহে ৩৭ দশমিক ২, চট্টগ্রামের রাঙামাটি, কুমিল্লা ও ফেনীতে ৩৮ দশমিক ৪, সিলেটে ৩৮ দশমিক ৩, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৮ দশমিক ৫, রংপুর বিভাগের মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৬ দশমিক ৭ এবং বরিশালে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা লক্ষ্য করা গেছে খুলনা বিভাগে। যেখানে সাতক্ষীরায় ৩৯, যশোরে ৩৯ দশমিক ৩, চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ দশমিক ৮ ও কুষ্টিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসের উষ্ণ আবহাওয়ায় কালবৈশাখি, বজ্রঝড়ের অনুকূল পরিবেশ থাকে। বিশেষ করে উত্তর-উত্তর পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কালবৈশাখির প্রাবল্য দেখা যায়। এই সময়টাতে যেকোনও সময় বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের আশঙ্কা বাড়ে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল গত পাঁচ দশকের মধ্যে রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠে। ওইদিন ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ