মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

একটি ধৃষ্টতা

এক সময়ের অভিনেত্রী শমি কায়সার সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের অতি ন্যক্কারজনকভাবে অসম্মানিত করেছেন। গত বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার নিজের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান চলাকালে কেক কাটার জন্য তিনি মঞ্চ থেকে নেমে আসার পর তার দুটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। হারিয়ে যাওয়া দুটিই ছিল বেশ দামী স্মার্ট ফোন। দিশেহারা অভিনেত্রী মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং কান্ডজ্ঞান হারিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম কর্মীদের ‘চুরির’ জন্য দায়ী করতে থাকেন। তার নির্দেশে সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেস ক্লাবের ওই কক্ষের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি ‘আদেশ’ দেন যাতে ফোন দুটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোনো গণমাধ্যম কর্মী বেরিয়ে যেতে না পারেন। 

এখানেও ঘটনার শেষ হয়নি। শমি কায়সারের নির্দেশে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা গণমাধ্যম কর্মীদের শরীরে তল্লাশি চালায় এবং নির্বিচারে সকলকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন ও অপমান করতে থাকে। ক্ষিপ্ত ও মারমুখী শমি কায়সার নিজেও দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যান। তিনিও গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে যথেচ্ছভাবে রূঢ় ব্যবহার করেছেন। অসম্মানিত গণমাধ্যম কর্মীরা প্রতিবাদ জানালেও কোনো লাভ হয়নি। এমনকি যাদের দেহ তল্লাশি করা হয়েছে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার ‘অনুমতি’ দেয়ার অনুরোধেও সাড়া দেননি শমি কায়সার এবং তার পেটোয়া নিরাপত্তারক্ষীরা। 

এভাবেই পার হয়ে গেছে আধা ঘণ্টারও বেশি সময়। কিন্তু কোনো গণমাধ্যম কর্মীর কাছেই হারিয়ে যাওয়া ফোন দুটি পাওয়া যায়নি। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন শমি কায়সার। তার বেপরোয়া নিরাপত্তারক্ষীদের আচরণও দ্রুত অসভ্যতার সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত একজন গণমাধ্যম কর্মীর ক্যামেরায় ওঠানো ভিডিও ফুটেজে চুরির দৃশ্য বেরিয়ে এসেছে। কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম কর্মী নন, অনুষ্ঠানের জন্য কেক নিয়ে আসা একজন কর্মচারীকে ফোন দুটি চুরি করতে দেখা গেছে। এরপর শমি কায়সার অবশ্য দুঃখ প্রকাশ করার অভিনয়ের চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, মোবাইল ফোনে যেহেতু তার ব্যক্তিগত ‘বহুকিছু’ রয়েছে সেহেতু তিনি নাকি স্বাভাবিক থাকতে পারেননি! এজন্যই নাকি গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে ‘ভুলক্রমে’ অসৌজন্যমূলক আচরণ হয়ে গেছে! অনভিপ্রেত এ ঘটনার জন্য তিনি যে ‘আন্তরিকভাবে দুঃখিত’ অনেকাংশে অনুগ্রহ করার ঢঙে সে কথাও জানিয়েছেন ওই অভিনেত্রী। তাই বলে তিনি কিন্তু ক্ষমা চাননি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকসহ  গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে শমি কায়সার এবং তার নিরাপত্তারক্ষীরা যে আচরণ করেছে তা শুধু অনভিপ্রেত ও অসৌজন্যমূলক ছিল না, সকল বিচারে ছিল চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণও। একে তাই ‘ক্ষমাসুন্দর’ দৃষ্টিতে দেখার প্রশ্নই উঠতে পারে না। স্মার্ট বা অন্য যে কোনো ফোনই হোক না কেন, মোবাইল ফোনকে সব সময় নিজের হাতে বা সঙ্গে রাখতে হয়। অন্যদিকে শমি কায়সার দুটি ফোনকেই উন্মুক্ত টেবিলে রেখে কেক কাটতে গিয়েছিলেন। নিজের নিরাপত্তারক্ষীদেরকেও তিনি আস্থায় নিতে পারেননি। পারলে তাদের দায়িত্বেই ফোন দুটিকে রেখে যেতেন এবং সেটাই তার উচিত ছিল। নিজের ভুলে হারিয়ে গেলেও ঢালাওভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর দোষ চাপানো, তাদের ‘চোর’ সম্বোধন করা এবং সকলের দেহ তল্লাশি করানোর পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত অসম্মানজনক। এসবের কোনো একটিকেই সমর্থন বা গ্রহণযোগ্য মনে করা যায় না। 

আমরা আশা করতে চাই, রাজনৈতিক বা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পরিবর্তে বিষয়টিকে গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ