শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আবহাওয়া নিয়ে আমি চিন্তিত --------তামিম

স্পোর্টস রিপোর্টার : শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। তবে হঠাৎ করেই পড়েছে প্রচন্ড গরম। দিনের বেলায় তাপমাত্রা অনেক সময় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। এমন গরমে যে কারও হাস-ফাস করে ওঠার কথা। তবে এমন তাপমাত্রার আবহাওয়ায় অনুশীলন করাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। এই আবহাওয়ায় অনুশীলন করে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে পারার কারণে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো হবে বলে বিশ্বাস করেন তামিম। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় ইংল্যান্ডে থাকবে পুরোপুরি গ্রীষ্ম মৌসুম। তখন ইংল্যান্ডে থাকবে প্রচন্ড গরম। এই গরমকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবাল। 

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আবহাওয়া চ্যালেঞ্জ কি না জানতে চাইলে তামিম ইকবাল আবহাওয়া নিয়ে বলেন,‘টোটালি ডিফারেন্ট ওয়েদার হবে সম্ভবত। একটা যে জিনিস, আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, হার্ড ওয়ার্কটা আমরা এখানে করে নিচ্ছি। এরকম ওয়েদারে রানিং করা, ব্যাটিং করা, ফিল্ডিং করা, জিম করা- এটা খুব চ্যালেঞ্জিং। এই যে কষ্টটা আমরা এখানে করে নিচ্ছি, যখন আমরা ওই ধরণের ওয়েদারে যাবো, আমার কাছে মনে হয় যে এটলিস্ট ফিজিক্যাল ফিটনেসের দিক থেকে হেল্প করবে। সো, আমার কাছে মনে হয়, দিজ আর দ্য টাইমস হোয়্যার উই পুট দ্য হার্ড ওয়ার্ক। আর সবাই চেষ্টা করতেছে তাদের মতো করে। আরও দুই-তিন দিন প্র্যাকটিস আছে।’ বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। যেখানে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তামিমের কাছে জিজ্ঞাসা, আয়ারল্যান্ডে বড় চ্যালেঞ্জটা কি হবে? এ নিয়ে তামিম বলেন,‘আমার কাছে মনে হয় কন্ডিশনটা একটা চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ আয়ারল্যান্ড এমন একটা দেশ যেখানে আমরা খুব  বেশি খেলিনি। শেষ যে বার খেলেছিলাম, তখনও উইকেট খুব একটা সহজ ছিল না। ইট ওয়াজ ডিফিকাল্ট। তাই আমার কাছে মনে হয় আগের সাতটা দিন এবং প্রস্তুতি ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটা আমরা কিভাবে শুরু করি সেটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট হবে। কারণ, সেখানে আরও একটা প্রতিপক্ষ থাকবে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যারা এখন খুব ভালো ফর্মে আছে। সো ইটস ইম্পর্ট্যান্ট টু স্টার্ট দ্য ট্যুর ওয়েল, উইথ দ্য প্র্যাকটিস গেম অ্যান্ড দেন দ্য ফার্স্ট গেম।’ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলে অনেকটা আলোচনার জন্ম দিয়েই সুযোগ পেয়েছেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। কারণ ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল নিশ্চিত বাছাই হলেও তার সঙ্গী নিয়ে বরাবরই ভাবতে হয় নির্বাচকদের। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। লিটন আর সৌম্য দু’জনের একজনকে তামিমের সঙ্গী হিসেবে রাখা হয়েছে। দুজনের জন্যই এটি বড় চ্যালেঞ্জ। তামিম ইকবালও তাই মনে করেন। তার মতে, লিটন ও  সৌম্য যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন। এবার তাদের সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দেখাতে হবে। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তামিম ইকবালের একজন যোগ্য ওপেনিং সঙ্গী পাওয়া যায়নি। এটা তার নিজের জন্যও চিন্তার বিষয়। তামিম বলেন, ‘পার্টিকুলার ম্যাচে তো এমন কোনো সমস্যা করে না। কিন্তু যখনই আপনার একজন নিয়মিত ওপেনিং সঙ্গী থাকবে, তখন যেটা হয়, আমরা দু’জনই আমাদের খেলাটাকে ভালো বুঝতে পারি আর কি। অনেক সময় হয়তোবা এমন থাকে যে, আমার টাইমিং ভালো হচ্ছে না। হয়তো আমি মারছি, কিন্তু ফিল্ডারের কাছে চলে যাচ্ছে। তখন তাকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। একইভাবে ওর সাথে যদি এই জিনিসটা হয়, তবে আমার চান্স নিতে হয়। বাট, ইফ সামবডি ইজ নট সেটলড, ইটস ভেরি আনফেয়ার টু গো এন্ড টেল হিম-ভাই, তুমি চান্স নাও। কারণ, ওদেরও একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে আমি নিশ্চিত, লিটন অ্যান্ড সৌম্য যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে। আ’ম শিওর দিস ইজ দ্য রাইট টাইম টু শো দ্য ওয়ার্ল্ড হাউ গুড দে আর।’ লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৪৯ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য। সৌম্য শেষ পর্যন্ত ১৫৩ বলে ১৪টি চার ও ১৬ ছক্কায় ২০৮ রানে অপরাজিত থাকেন। এদিন সৌম্যর ১৬ ছক্কাও বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ওভার বাউন্ডারির রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ১১ ছক্কার। সৌম্যের এ ইনিংস নিয়ে তামিম বলেন, ‘এটা দারুণ অর্জন। বাংলাদেশি কেউ এই প্রথম ২০০ রান করেছে। যদিও আমরা খেলবো একেবারেই ভিন্ন একটা কন্ডিশনে, ভিন্ন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে, তবুও রান করাটা সবসময়ই ইতিবাচক। এটা আত্মবিশ্বাস যোগায়। সে  কোথায় রান করেছে এটা মুখ্য বিষয় নয়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে সে রান করেছে। যখন আপনি রান করেন, তখন আপনি এটা জানেন যে কিভাবে রান করতে হয়। যখন কারো ফর্ম খারাপ যায়, তখন সে ওইটা ভুলে যায় যে কিভাবে রান করতে হবে। তাই এটা তার জন্য খুব পজিটিভ যে সে আয়ারল্যান্ডে যাবার আগে দুটো বড় ইনিংস খেলেছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ