বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

খাল ভাঙ্গনের কবলে উত্তর রাঙ্গুনিয়া

রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার উত্তরে পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দ নগর গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত খালের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত বর্ষাতে এই এলাকায় ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে দেড় শতাধিক পরিবার। বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় আছে হাজার পরিবার, তার মধ্যে মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান। আর মাত্র ২০ ফুট জায়গার মাটি সরে পড়লে বিলীন হবে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ মাধ্যম ডিসি সড়ক ও এর উপরে নির্মিত লাটি ছড়াব্রীজ। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, পারুয়া এলাকার সৈয়দ নগরসহ বিভিন্ন স্থানে ইছামতি নদী ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সৈয়দ নগর থেকে পারুয়া লাবারড্যাম পর্যন্ত দুই কিলোমিটার নদীর ভাঙ্গনে দুই শতাধিক ঘর বাড়ী, ফসলি জমি, স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে ভাঙ্গনে ঝুঁকিতে আছে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ডিসি সড়ক। এই এলাকা দিয়ে মাত্র বিশ ফুট ভাঙ্গলে নদীতে তলিয়ে যাবে উপজেলার উত্তর- দক্ষিণের পাচঁ ইউনিয়নের যোগাযোগ পথ পারুয়া ইউনিয়নের ডিসি সড়কটি। এছাড়া সড়কের উপরে নির্মীত লাঠিছড়া ব্রিজটিও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। আব্দুর গফুর নামে শতের কাছাকাছি বয়সের এক বৃদ্ধের সাথে কথা বললে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার পাচঁটি ইউনিয়নের মানুষ ইছামতি নদীর ভাঙ্গনে কবলে পড়ে আছে। ভাঙ্গন রোধে গত বছর স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. হাসান মাহমুদের সুপারিশ সংবলিত একটি আবেদন পত্র পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে করা হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভাঙ্গনের ব্যাপারে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ইছামতি নদী তীরবর্তী অবস্থতি নিয়াজী বাড়ী রাঙ্গুনিয়া মানবাধিকার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার বলেন. ইছামতি ভাঙ্গনে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা।
যখন বৃষ্টি হয় সামান্য পানিতে ভরে উঠে অথৈয় জল। প্লাবিত হওয়া পানিতে সাধারণ বসতিদের হয়ে উঠে অসহনীয় যন্ত্রনা। নদী থেকে কিছু দূরত্ব থাকলেও নদীর ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে এই এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সৈয়দ নগর এলাকায় দাখিল মাদ্রাসা, এতিমখানা, হেফজখানা, তৈয়্যবিয়া একাডেমী, তালুকদার বাড়ী সড়ক, আলী সিকদার সড়কসহ ১২টি মসজিদ উল্লেখযোগ্য। ভাঙ্গনের কবলে পড়া প্রতিষ্ঠানের জৈনিক মো: আনোয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, পারুয়া ডিসি সড়ক ও অবস্থতি লাঠিছড়া ব্রীজ নদীতে তলিয়ে যাবে। এতে পাচঁ ইউনিয়নের মানুষ যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়বে। এছাড়া উপরে উল্লেখিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পারুয়া ডিসি সড়কসহ বিভিন্ন নদী ভাঙ্গনের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে তা রক্ষার ব্যাপারে প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ