বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

আনোয়ারা বরকল বেইলি ব্রীজে মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে

এস,এম, সালাহ্ উদ্দীন আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও চন্দনাইশের সঙ্গে সেতুবন্ধনকারী বরকল বেইলি সেতুর সংযোগ স্থলে মাটি সরে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ১৯৯৪ সালে অস্থায়ী হিসেবে এই বেইলি সেতু তৈরি হলেও পার হয়ে গেছে প্রায় দুই যুগের বেশী সময়। এই দীর্ঘ সময় তৈরি হয়নি স্থায়ী কোন সেতু। অথচ চট্টগ্রাম থেকে চন্দনাইশ যাতায়াত ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিকল্প সড়কের জন্য এই সেতুটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্র জানায়, ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বৎসরে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল চন্দনাইশ উপজেলা ও আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সেতু নামে পরিচিত বরকল বেইলী ব্রীজটি। ৩৬৫ ফুট দীর্ঘ, ১২ ফুট চওড়া এ বেইলী ব্রীজের নির্মাণ কাজ ৯৪ সালে শেষ হয়ে ঐ সালের প্রথম দিকেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ব্রীজটিতে ৩টি স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ব্রীজ নির্মাণ করার জন্য এ বেইলী ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বরকলের এ বেইলী ব্রীজটি নির্মাণের ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও ব্রীজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রীজে রূপ নেয়নি। চন্দনাইশ ও আনোয়ারা উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এ ব্রীজটি। কোন কারণে ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে আনোয়ারার সাথে চন্দনাইশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অথচ এ ব্রীজ দিয়ে চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী, বরমা, বরকলের অর্ধ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, শত শত সিএনজি টেক্সী, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের সারভর্তি ট্রাক ঝুকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে দীর্ঘদিন থেকে। বরকল বেইলী ব্রীজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে জানা যায়, এ ধরনের বেইলী ব্রীজগুলি এক থেকে দেড় বছরের জন্য অস্থায়ীভবে নির্মাণ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ ব্রীজ না হওয়া পর্যন্ত। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে এ ধরনের বেইলী ব্রীজগুলি করা হয় বলে তারা জানান। স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩টি স্প্যানের সংযোগ স্থানে স্প্যানগুলি সরে গিয়ে মধ্যখানের লোহার বারটি ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে গাড়ী চলাচলের সময় গাড়ীর টায়ার সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবী করেছেন গাড়ীর চালকেরা। এ ধরনের ব্রীজের উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ টন ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে ব্রীজটির উপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এর চেয়েও অধিক ওজনের মালামালবাহী ট্রাক চলাচল করছে অবাধে। তাই যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এলাকাবাসীর দাবী চন্দনাইশ ও আনোয়ারা উপজেলার সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র এ বরকল ব্রীজটি অতি দ্রুত স্থায়ী সেতু হিসাবে বাস্তবায়ন হোক। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের শাসন আমলে এ বেইলী ব্রীজটি নির্মাণ হয়েছিল পূর্ণাঙ্গ ব্রীজে রূপ দেয়ার জন্য। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর আ’লীগ ক্ষমতায় আসে। পরবর্তীতে তত্ত্ববধায় সরকার তিন বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন তৎকালীন শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের বাড়ি এই এলাকায় হলেও স্থায়ী সেতু বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে মহাজোট সরকারের ৯ বছরের শাসন আমলে এ বেইলী ব্রীজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রীজে রূপ দেয়ার দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি গাছবাড়ীয়া-বরকল সড়ককে শহীদ মুরিদুল আলমের নামে ফলক উন্মোচনের সময় সরজমিনে পরিদর্শন করেন বেইলী ব্রীজটি। সে সময় স্থানীয়দের দাবীতে ব্রীজটি পূর্ণাঙ্গ ব্রীজে রূপ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকাবাসী অনেকটা হতাশ। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাহসিনা বিনতে ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আনোয়ারা বড়কল ও চন্দনাইশের মধ্যবর্তী বেইলি ব্রিজটির জন্য মন্ত্রাণালয় থেকে ত্রিশ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই নতুনভাবে ব্রীজটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ