মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

আশ্বাসে শেষ হলো শরবত খাওয়ানো কর্মসূচি

সেই পানি কোনোভাবেই খাওয়ার উপযোগী নয়। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ কে এম সহিদ উদ্দিন বলেন, ওয়াসা সুপেয় পানিই সরবরাহ করে। তারপরও কিছু সমস্যা থাকতে পারে। সেগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সমাধানের পর সবাইকে জানানো হবে।
তবে ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়’ উল্লেখ করে ওয়াসার এমডি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন সংস্থাটির এই পরিচালক। তিনি বলেন, ওয়াসার পক্ষ থেকে খারাপ পানি সরবরাহ করা হয় না। তবে লাইনে সমস্যা থাকতে পারে। সে কারণে পানিতে দুর্গন্ধ থাকতে পারে বা অপরিষ্কার হতে পারে।
এসময় এমডি না থাকায় তাকেই জুরাইন-রামপুরা থেকে আনা পানি খেতে বলা হলে এ কে এম সহিদ উদ্দিন বলেন, এটা ওয়াসার পানি নাকি পুকুরের পানি, তা নিশ্চিত নয়। তাই এই পানি খাব না। যেসব সমস্যার কথা বললেন, আগে সেগুলো সমাধান করি। এরপর প্রয়োজনে গিয়ে পানি খেয়ে আসব।
পরে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, উনারা আশ্বাস দিয়েছেন, পানি সরবরাহের লাইনে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান করবেন। আমরা আপাতত ফিরে যাচ্ছি। তবে তাদের কথামতো সমাধান না হলে জুরাইনবাসীকে নিয়ে বড় আন্দোলন গড়ে তুলব।
এর আগে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ঘোষিত ‘সুপেয়’ পানিতে তৈরি শরবত এমডিকে পান করাতে ওয়াসা ভবনে হাজির হয়েছিলেন রাজধানীবাসী। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের উল্টো দিকের বিএফডিসি ভবনের নিচে অবস্থান নেন  রাজধানীর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা। সঙ্গে করে তারা নিয়ে এসেছেন ওয়াসার ‘সুপেয়’ পানিতে তৈরি শরবত। হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। কর্মসূচি পালন করতে আসা রাজধানীবাসী বলছেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এ কর্মসূচির কথা ছড়িয়ে পড়ার কারণেই তারা কেউ অফিসে আসেনি। তবে ওয়াসার এমডিকে শরবত খাওয়াতে আশায় রাজধানীবাসী বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন।
ওয়াসার এমডিকে শরবত পান করানোর এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন রাজধানীর জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান। স্ত্রী শামীম হাশেম খুকি ও তাদের মেয়েকে নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন ওয়াসা ভবনের সামনে। এছাড়া একই এলাকা থেকে এসেছেন মতিয়ার রহমান। পূর্ব রামপুরা থেকে এসেছেন মনিরুল ইসলাম। ওয়াসা ভবনের উল্টোদিকে এসেই তারা ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত তৈরি করেন। লেবু-চিনির সেই শরবতই ওয়াসার এমডিকে পান করাতে চেয়েছেন তারা।
২০১২ সালে জুরাইনবাসীর পক্ষ থেকে সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার গণসাক্ষর সংগ্রহ করে বর্তমান এমডির হাতে দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, সে সময় আমরা যে প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে দেখা করি, তাদের সঙ্গে তিনি খুব তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কথা বলেন। জানান, টাকা নেই। তিনি আমাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন। এ কারণে উনার বক্তব্য অনুযায়ী সুপেয় পানি নিয়ে আমরা এসছি উনাকে খাওয়াতে এবং এই পানি সরবরাহের বিষয়ে কৈফিয়ত চাইতে।
এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের উপস্থিতি ছিল। এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই কর্মসূচির কারণেই আমাদের ডাকা হয়েছে। আমরা প্রবেশপথে নিরাপত্তা দিয়েছি। এছাড়া এমডি’র দফতরের সামনেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা ছিলেন।
শরবত পান করার বিষয়ে জানতে চাইলে টেলিফোনে প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, আমি তো খাব আমার পানি। আমি কোনটা খাব, না-খাব, সেটা তো আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। পানি ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ বলে দাবি করলেও সেই পানি দিয়ে অন্যের বানানো শরবত খেতে আপত্তি আছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমি তো কারো পানিতেই... কারোই তো খাব না। আমি তো খাব আমার পানি। আমি কোনটা খাব, না-খাব; সেটা তো আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে প্রশ্ন করা হয়- ওয়াসার পানি যেহেতু সুপেয়, মিজানুরের বানানো ওই শরবত তিনি খাবেন কি না? জবাবে তাকসিম এ খান বলেন, অন্য কারো হাতে বানানো শরবত তিনি খাবেন না। মিজানুরের নিয়ে আসা শরবত খাওয়ারও কোনো প্রশ্ন আসে না। তিনি বলেন, তাদের পানিতে যদি ময়লার অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে পারে। মিজানুর শরবত দিয়ে ওয়াসা ভবনের সিঁড়িতে বসে আছেন। এখন সেখানে যাবেন কি না জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, যাব তো বটেই। আমার তো ৪টার সময় মিটিং আছে একটা।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে দুই দিন আগেই ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান দাবি করেছিলেন, ওয়াসার পানি ‘শতভাগ সুপেয়’। সেই ‘সুপেয়’ পানিতে তৈরি শরবত এমডিকে পান করাতেই মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ওয়াসা ভবনে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে হাজির হন জুরাইনের মিজানুর রহমান। এছাড়া একই এলাকা থেকে আসেন মতিয়ার রহমান। পূর্ব রামপুরা থেকে আসেন মনিরুল ইসলাম। তবে শেষ পর্যন্ত এমডি’র দেখা আর তারা পাননি। এর আগে, গত ২০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে ‘শতভাগ সুপেয়’ বলে দাবি করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষ ফুটিয়ে নয়, সরাসরি ওয়াসার ট্যাপের পানি পান করেন। আর ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়।
ঢাকা ওয়াসার সার্বিক মান নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ওয়াসার পানি সুপেয় নয়। তাদের সরবরাহ করা পানি ফুটিয়ে পানযোগ্য করতে বছরে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস খরচ করতে হয় রাজধানীবাসী। একই প্রতিবেদনে টিআইবি আরও বলেন, দুর্নীতি নেইÍ ঢাকা ওয়াসায় এমন জায়গা খুঁজে পায়নি টিআইবি!
এ প্রতিবেদনের জবাবে ওয়াসার এমডি বলেন, প্রতিবেদনটি একেবারেই গবেষণামূলক নয়, এটি একপেশে ও ধারণামূলক। আমরা ২৪৩টি জায়গা থেকে ওয়াসার পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছি। কোথাও কোনো ধরনের জীবাণু পাওয়া যায়নি। ঢাকা ওয়াসা ৯৮ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ