বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

মৎস্য ভবন এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহত ২

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকার রমনার মৎস্য ভবন এলাকায় দুই বাসের সংঘর্ষের পর আরও চারটি বাহন দুর্ঘটনায় পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও দুইজন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মৎস্য ভবনের মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ) মুহাম্মদ মুরাদ আলী জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, ওই দুর্ঘটনার পর চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মধ্যে দুজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক বিশের কোঠায়, অন্যজন পঞ্চাশোর্ধ। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
উপ পুলিশ কমিশনার মুরাদ বলেন, স্বাধীন পরিবহনের একটি বাস শাহবাগ থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়ার সময়
মৎস্য ভবনে মোড়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি স্টাফ বাসকে ধাক্কা দেয়। “স্টাফ বাসটি তখন একজন রিকশা চালককে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণহীন বাস দুটো রাস্তায় থাকা আরও দুটো প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। মূলত দুই বাসের সংঘর্ষের ফলেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।”
সকালে ওই ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ওই মোড়ে কিছু সময় যানবাহন চলাচল বিঘিœত হয়। পরে রেকার এনে সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো রাস্তা থেকে সরানো হয়।
স্বাধীন পরিবহনের ওই বাসের চালককে পুলিশ আটক করেছে বলে রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির জানান।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে থাকা বাস দুটির একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বহনকারী বাস ও অপরটি স্বাধীন পরিবহনের বাস।
স্বাধীন পরিবহনের যাত্রী মনির হোসেন জানান, তিনি স্বাধীন বাসের পেছনের দিকে সিটে বসে ছিলেন। সংঘর্ষের পর তিনি দ্রুত নেমে দেখতে পান বাস, রিকশা ও প্রাইভেট কার এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। একজনকে বাসের নিচে, একজনকে বাসের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর ধারণা, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন রিকশাচালক হতে পারেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকেরা সকাল পৌনে আটটার দিকে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। আহত ব্যক্তিরা হলেন শরিফ (২০) ও নূরে আলম (৩০)।
পুলিশ বলছে, এ দুর্ঘটনার জন্য স্বাধীন পরিবহনের বাস চালকই দায়ী।
রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) বলেন, চালক দাবি করেছে যে ব্রেক ফেল হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা বলেছিল। কিন্তু এটার সত্যতা কতটুকু, তা যাচাই করা হচ্ছে। সে নিজেকে বাচানোর জন্য এ কথা বলতে পারে। আসলে সে দ্রুতগতিতে বাসটি চালিয়ে আসছিল। সম্পূর্ণ দুর্ঘটনার জন্য ওই বাসচালক দায়ী।
বাসের চালক নজরুল ইসলাম দাবি করেন, শাহবাগ মোড় থেকে ঘোরার সময় বাসটির ব্রেক কাজ করছিল না। এর পর গতি কমিয়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু মৎস্য ভবনের মোড় ঘুরতে গিয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। আটক করার পর রমনা থানা পুলিশকে এ কথা বলেন চালক নজরুল।
রমনা থানার ওসি ছুটিতে থাকায় তাঁর দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (অপারেশন) মো. জহিরুল ইসলাম শুরুতে এ কথা জানান। স্বাধীন পরিবহনের চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জহিরুল ইসলাম বলেন, মোড় ঘুরতে গিয়ে রিকশা, প্রাইভেট কার, বাসসহ সামনে থাকা মোট ছয়টি যানবাহনকে ধাক্কা দেয় স্বাধীন পরিবহনের বাসটি। ধাক্কায় একটি রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দুজন প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে মৎস্য ভবনের মোড় থেকে ঘুরে গুলিস্তানের দিকে যাওয়ার সময় বাসটি সামনে থাকা পরমাণু শক্তি কমিশনের আরেকটি বাসকে ধাক্কা দেয়। সেই বাসটি সামনে একটি রিকশাকে ধাক্কা দিলে আরোহী ও চালক গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরেক জনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তিনি মারা যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ