রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়াকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না

গতকাল মঙ্গলবার নয়া পল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতালে রাখা হলেও উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জোর করে বন্দী রেখে বিনা চিকিৎসায় প্রাণনাশের চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনার নির্দেশ মতোই তাকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। আমরা আবারো দাবি করছি, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে।
নুসরাত হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের জনরোষ থেকে বাঁচাতে সরকার ঘটনা ধামাচাপা দেয়া চেষ্টা করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে (নুসরাত জাহান রাফি) নিপীড়ন চালিয়ে তার মুখ বন্ধ করতে গায়ে আগুন দিয়ে বর্বর কায়দায় হত্যার ঘটনায় সেখানকার আওয়ামী লীগের মিডনাইট এমপি, আওয়ামী লীগের স্থানীয় সভাপতি থেকে শুরু করে বড় বড় নেতারা জড়িত। তাদের সাথে সহযোগিতা করেছে এসপি থেকে থানার ওসি পর্যন্ত। ফলে তাদের এমপি-নেতা ও পুলিশ প্রশাসনকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। সোনাগাজীর ঘটনার মতোই ক্ষমতাসীন দলের বেপরোয়া নেতা-কর্মীরা গোটা দেশকে ধর্ষণের উপত্যকায় পরিণত করেছে।
দেশের নারী নির্যাতনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ধর্ষন-নারী নির্যাতন-খুন-দখল ও গুমের উৎসবে মেতে উঠেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা এখন ইতিহাসে সর্বকালের সর্ব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নারী নিপীড়ন ও খুন তাদের (ক্ষমতাসীন দল) অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ১৯৭২-৭৫ এর চাইতেও এখন দেশের অবস্থা ভয়াবহ। প্রতিদিন একটির পর একটি লোম শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটলেও গণবিচ্ছিন্ন এই সরকারের কোনো বিকার নেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জোর করে বন্দি রেখে বিনা চিকিৎসায় প্রাণনাশের চেষ্টা চলছে। তাকে পিজি হাসপাতালে রাখাও হলেও উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। শেখ হাসিনার নির্দেশ মতোই তাকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। আমরা আবারো দাবি করছি, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। জামিনে প্রতিবন্ধতা করা চলবে না। তিনি মুক্তি পেয়ে নিজের পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা দেবেন। একদলীয় হানাদারি শাসনের অন্ধকার দূর করে আলোর প্রত্যাশায় দেশনেত্রীর মুক্তির প্রহর গুণছে এদেশের জনগণ।
কারাবন্দী দলের নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বারব গুরুতর অসুস্থ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ভীষন অস্স্থু। কয়েকদিন আগে তাকে চিকিসা জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও যথাযখ চিকিসা না দিয়ে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এটা অমানবিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি অবিলম্বে শারীরিকভাবে চরম অসুস্থ লুফুজ্জামান বাবরকে সুচিকিৎসা দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
একইভাবে গুরুতর অসুস্থ যুব দলের কারাবন্দি সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু‘র সুচিকিৎসাসহ বন্দি নেতা সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আসলাম চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, সোহরাব উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, শেখ রবিউল ইসলাম, শেখ মোহাম্মদ শামীম, হযরত আলী, মিয়া নুরউদ্দিন অপু, ইসহাক সরকারের মুক্তির দাবিও জানান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলন হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান, আবদুল বারী ড্যানি, রফিক হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ