রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

নতুন বেতন কাঠামোতে পোশাক শ্রমিকদের বেতন কমেছে ২৬ ভাগ -টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার : মালিক ও ক্রেতার শুভঙ্করের ফাঁকির ফাঁদে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকেরা। নতুন কাঠামোতে বেতন বাড়েনি বরং মজুরি গড়ে ২৬ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, নতুন কাঠামোয় শ্রমিকদের মজুরি যতটা বাড়ার কথা বাস্তবে তা বাড়েনি। তৈরি পোশাক খাতে সুশাসনের  অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক ঘাটতি দেখছে টিআইবি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির পক্ষে এ দাবি করা হয়। টিআইবির প্রতিবেদন তুলে ধরেন টিআইবির গবেষক নাজমুল হূদা মিনা।
রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক খাতের সুশাসন নিয়ে প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করছে টিআইবি। সংস্থার এবারের প্রতিবেদন বলছে, খাতের উন্নয়নে নেয়া উদ্যোগগুলোর ৩৯ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে, ৪৯ ভাগের  অগ্রগতি চলমান আর ১১ ভাগ উদ্যোগ থমকে আছে।
দেশের জিডিপিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান প্রায় ১১ ভাগ। রপ্তানি আয়ের ৮৩ ভাগই আসে এ খাত থেকে। শ্রমঘন এ শিল্পে কাজ করছেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক।
জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাচ্ছেন শ্রমিকেরা। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি ২৩ ভাগ বেড়েছে দাবি করলেও টিআইবি বলছে কাক্সিক্ষত হারের চেয়ে বেতন কমেছে ২৬ শতাংশ। মজুরি নির্ধারণে বছরে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় না নেয়ার তথ্য দিচ্ছে টিআইবি। সংস্থার হিসাবে, মজুরি বাড়ানোর আন্দোলনের কারণে মামলায় জড়িয়েছেন পাঁচ হাজার শ্রমিক। চাকরি হারিয়েছেন দশ হাজার।
টিআইবির হিসাবে, সংস্কারসহ নানা কারণে বন্ধ হয়েছে সাড়ে বারশ কারখানা। এতে পাঁচ বছরে চাকরি হারিয়েছেন চার লাখ শ্রমিক। এসব শ্রমিকের মাত্র কয়েক হাজার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। গবেষণা বলছে, মাত্র তিন শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন থাকলেও তা চলছে মালিকের নিয়ন্ত্রণে।সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একক কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি টিআইবির। এছাড়া রানাপ্লাজা ধসসহ সব দুর্ঘটনার দ্রত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দাবিও করছে টিআইবি।
তিনি বলেন, নতুন মজুরি কাঠামোতে মালিকপক্ষের মূল মজুরি ২৩ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি করলেও প্রকৃত হিসাবে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে তা প্রায় ২৬ শতাংশ কম।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন কাঠামোতে আগের তুলনায় ২৬ শতাংশ মজুরি কমে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ২৬ থেকে ৩২ শতাংশও। মজুরি তো বাড়েই-নি, বরং যারা আন্দোলন করেছে তাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। চাকরীচ্যুত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পোশাক খাতে অনেক অগ্রগতি হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি পর্যাপ্ত দৃষ্টি পাচ্ছে না। নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধির মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়ে গেছে। বাস্তবে মজুরি কমে গেছে বলে ধারণা করা হতো। আমাদের প্রতিবেদনেও তা উঠে এসেছে।
মজুর অগ্রগতির বিষয়ে টিআইবি বলছে, ২০১৩ সালে ৭৬ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করে নূন্যতম ৫৩০০ টাকা এবং ২০১৮ সালে ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬টি গ্রেডে ফের মূল মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর অধিকাংশ কমপ্লায়েন্ট কারখানায় সরকার নির্ধারিত মজুরি দেয়া খাতটির অন্যতম অগ্রগতি। আর পোশাক খাতের উন্নয়নে ১২টি সুপারিশ জানায় টিআইবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ