রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পাঁচ দাবি আদায়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নীলক্ষেত মোড় অবরোধ

দ্রুত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, সেশনজট বন্ধসহ ৫ দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচ দাবি আদায়ে ঢাকার নীলক্ষেত মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের পর আজ বুধবার আবার একই সময়ে বসার ঘোষণা দিয়ে সরে যান তারা। নিলক্ষেত মোড় অবরোধের আগে শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন।
কমসূচিতে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র নাসির আহমেদ বলেন, “২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত, তারা এখন তৃতীয় বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা দিচ্ছে। “কিন্তু আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত তার এখনও দ্বিতীয় বষের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারিনি। এছাড়া  প্রথম বর্ষের ফলাফলেও দেখা গেছে গড়ে সবাই ফেল করেছে।” তিনি বলেন, “আমরা চাই যথাসময়ে পরীক্ষা হোক এবং যথাভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হোক। আর শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ হোক।”
দুপুর দুইটা পর্যন্ত অবরোধের পর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু বক্কর দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন । “আজ (বুধবার) সকাল ১১টায় আবার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে,” বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হল- পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল  প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করা; ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স সকল বর্ষের ফলাফলে গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ  প্রকাশসহ খাতা পুনঃমূল্যায়ন; সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র  প্রশাসনিক ভবন;  প্রতি মাসে  প্রত্যেকটি বিভাগে  প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবি শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে এবং সেশনজট নিরসনের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডার  প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালে তাঁদের পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল  প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। হঠাৎ করে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পর তাঁরা ভেবেছিলেন সেশনজট কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানও বাড়বে। এর কিছুই হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আরও বেশি সেশনজটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ফলাফলও তারা ৯০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে পারছে না। ত্রুটিযুক্ত ফলাফলও তারা  প্রকাশ করছে। এসবের সমাধান চান তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এর আগেও তাদের অনেক আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এর কোনো বাস্তবায়ন তাঁরা দেখেননি। তাঁর অফিসে গিয়েও অনেকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, এতে কোনো কাজ হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের অধীনে পরিচালিত যেসব সেশন শুরু হয়েছে, এতে কোন জট নেই। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালে যেসব সেশন আমাদের অধীনে দেওয়া হয়েছে, লোকবল কম থাকায় তা পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে অচিরেই তা কেটে যাবে।’
অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ছাত্ররা না বুঝে আন্দোলন করলেই হবে না, আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ