মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

খেলাপি ঋণ আদায় নয়, ঋণখেলাপি কমাতে নানা কৌশল

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : যারা ব্যাংক থেকে ধার করে শোধ করেননি, তাদের ‘ঋণ খেলাপি’ তকমা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে ঋণ খেলাপির সংখ্যা (ডিসেম্বর ২০১৮) দুই লাখ ৬৬ হাজার ১১৮ জন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। খেলাপিদের প্রথমে মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৭ শতাংশ সুদে ১২ বছরে ওই টাকা পরিশোধের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়। বর্তমানে ৭ পার্সেন্টের পরিবর্তে এখন ফাইনালি ৯ পার্সেন্ট করা হয়েছে। এই সুযোগ নিয়ে যারা ঋণ শোধ করতে না পারার ‘যৌক্তিক’ কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবেন, তাদেরকে মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১২ বছরে ওই টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে। নয় শতাংশ সরল সুদে খেলাপি ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ সরকার দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা অনেকে তার সমালোচনা করেছেন। ঋণ কমানোর পন্থা আদায়ে নয়, কূটকৌশল করে জনগণের আইওয়াশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। শীর্ষ ঋণ খেলাপিরা এখনও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক মন্ত্রী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
জানা গেছে, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর খেলাপি ঋণ কমানো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার অংশ হিসাবে প্রথমে যারা ঋণ শোধ করতে না পারার ‘যৌক্তিক’ কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবেন, তাদেরকে মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৭ শতাংশ সুদে ১২ বছরে ওই টাকা পরিশোধের সুযোগ পাবেন বলে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ১ মে থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ঋণ নেওয়ার সময় সুদের হার যাই থাকুক না কেন, এই সুযোগ নিয়ে খেলাপি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ হারেই সুদপ্রযোজ্য হবে। পরবর্তীতে চলতি মাসে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বর্তমানে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ৯ শতাংশকে বেঞ্চমার্ক ধরে তিনি বলেন, এই সুযোগ নিয়ে যারা ঋণ শোধ করতে না পারার ‘যৌক্তিক’ কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবেন, তাদেরকে মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১২ বছরে ওই টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা ভাল ঋণ গ্রহীতা, চেষ্টা করছেন দেওয়ার জন্য, তাদেরকে আমরা রিলিফ দিচ্ছি। রিলিফটি হল তারা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আর সরল সুদে নয় শতাংশ হারে এই টাকার সুদ দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি এবার সবাই লাভবান হবে। ব্যাংকও লাভবান হবে, ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড যা আছে সেটাও রিকভার করতে পারবে। আর যারা টাকা দিচ্ছেন, টাকা তারও সুন্দরভাবে দিতে পারবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ অবলোপন-সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রকাশ করে। ওই নীতিমালায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অর্থঋণ আদালতে মামলা না করেই অবলোপন করার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে এই অঙ্ক ছিল ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া যেসব ঋণ নিকট ভবিষ্যতে আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, সেসব ঋণ তিন বছর ধরে মন্দমানে খেলাপি অবস্থায় থাকলে সেই ঋণগুলো অবলোপন করার সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুয়ায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৩৮ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ ছিল ৩৯ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ কমাতে গিয়ে এমন সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেননি অর্থনীতিবিদরা। আবার নয় শতাংশ সরল সুদে খেলাপি ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ সরকার দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা অনেকে তার সমালোচনা করেছেন। ঋণ কমানোর পন্থা আদায়ে নয়, কূটকৌশল করে জনগণের আইওয়াশ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। শীর্ষ ঋণ খেলাপিরা এখনও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক মন্ত্রী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
নয় শতাংশ সরল সুদে খেলাপি ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ সরকার দিয়েছে, তার সমালোচনা করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। শীর্ষ ঋণ খেলাপিরা এখনও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই শাসনামলে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খেলাপি ঋণের ব্যাপারে আমরা এরশাদ আমলে খুব সোচ্চার ছিলাম। যারা তখন খেলাপি ঋণের শীর্ষে ছিলেন এখনও এই সরকারে তারা শীর্ষ স্থানে রয়েছেন। অনেক বড় বড় কর্তাব্যক্তি তারা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর বাইরে দীর্ঘদিন আদায় করতে না পারা যেসব ঋণ ব্যাংকগুলো অবলোপন করেছে, তার পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপন করা এ মন্দ ঋণ যুক্ত করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর বেশিরভাগটাই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।
মেনন বলেন, খেলাপি ঋণের ভারে সমস্ত ব্যাংক নূয়ে পড়েছে। আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিপূর্ণ  নৈরাজ্যের মধ্যে চলে গেছে। তারল্য সঙ্কট রয়েছে, বিনিয়োগের অর্থ ব্যাংকগুলোর নেই।  এই যখন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তখন আমাদের অর্থমন্ত্রী খেলাপি ঋণের রাহু থেকে মুক্তির জন্য ব্যবস্থাপপত্র ঘোষণা করলেন। ব্যবস্থাপত্রটি হচ্ছে, বড় বড় ঋণ খেলাপি যারা, তাদেরকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এবং ৯ শতাংশ সুদ ধরে ১২ বছরের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যে কতবার রিশিডিউল হবে সেটা তিনি বলেননি। এই ব্যবস্থাপত্রটা বিশেষ করে যারা বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ী, তাদের জন্য। তিনি বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ী বা মানুষ যখন ঋণের রিশিডিউল করতে চান তখন কিন্তু তাকে ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়। আর এমনি ঋণ নিয়ে একজনকে সুদ দিতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ।   তাহলে সোজা কথা আমি ব্যাংক থেকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে যাব। খেলাপি হয়ে গেলেই তো আমার সুবিধা, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১২ বছরে ৯ শাতংশ হারে সুদ দেব। নিয়মিত সুদ দিলে তো ১৩ শতাংশ দিতে হবে। তাহলে এ অর্থনীতি কার জন্য- প্রশ্ন রেখে তিনি মেনন বলেন, যারা কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সেই ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না এবং ঋণের টাকা বিদেশে পাচার করছেন, এই রাষ্ট্রটা তাদের জন্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর বাইরে দীর্ঘদিন আদায় করতে না পারা যেসব ঋণ ব্যাংকগুলো অবলোপন করেছে, তার পরিমাণপ্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপন করা এ মন্দ ঋণ যুক্ত করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে খেলাপি ঋণ কম দেখাতে ‘রাইট অফ’ নীতিমালা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো এখন মাত্র তিন বছরের মন্দ মানের খেলাপি ঋণ ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দিতে পারবে। এতে খেলাপি ঋণ আদায় না হলেও তা কাগজ-কলমে কমবে। খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পর প্রথম পদক্ষেপে ব্যাংকগুলোর ঋণ অবলোপন নীতিমালা শিথিল করা হয়। এখন ঋণ খেলাপিদের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হল।
এদিকে দেশে শীর্ষ ১০০ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ইলিয়াস ব্রাদার্স, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম, রেমিক্স ফুটওয়ার, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস, রুবিয়া ভেজিটেবল ইন্ডাস্ট্রিজ, রাইজিং স্টিল, ঢাকা ট্রেডিং হাউস, বেনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ারা স্পিনিং, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্ট, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী নিটওয়্যার, সিদ্দিক ট্রেডার্স, রূপালী কম্পোজিট লেদারওয়্যার, অলপা কম্পোজিট টাওয়েলস, হলমার্ক ফ্যাশন, মুন্নু ফেব্রিকস, ফেয়ার ইয়ার্নপ্রসেসিং, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিকস, সাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েলস, মার্ক ইন্টারন্যাশনাল, সুরুজ মিয়া জুট স্পিনিং মিলস, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম, সালেহ কার্পেট মিলস, পদ্মা পলি কটন নিট ফ্রব্রিকস, এস কে স্টিল, হেলপলাইন রিসোর্সেস, এইচ স্টিল রিরোলিং, অটবি, বিসমিল্লাহ টাওয়েলস, তাইপে বাংলা ফেব্রিকস, ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট, তানিয়া এন্টার-াইজ ইউনিট-২, সিক্স সিজন অ্যাপার্টমেন্ট, ইসলাম ট্রেডিং কনসোরটিয়াম, রহমান স্পিনিং মিলস, জাপান-বিডি সেক -িন্টিং অ্যান্ড পেপারস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিনান্স কোম্পানি, সেমাটসিটি জেনারেল ট্রডিং, এম কে শিপ বিল্ডার্স, কটন করপোরেশন, ন্যাশনাল স্টিল, এম বি এম গার্মেন্ট অ্যান্ড টেক্সটাইল, সোনালী জুট মিলস, এক্সপার টেক লিমিটেড, ওয়ালমার্ট ফ্যাশন, সাদ মুসা ফেব্রিকস, চিটাগং ইস্পাত, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, হিমালয়া পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস, আমাদের বাড়ি লি., ইমদাদুল হক ভুইয়া, চৌধুরী টাওয়েল, চৌধুরী লেদার, আর্থ অ্যাগ্রো ফার্ম, নদার্ন পাওয়ার সলুশন, ম্যাক শিপ বিল্ডার্স, দি আরব কনট্রাকটরস, ওয়ান ডেনিম মিলস, লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যার, বিশ্বাস গার্মেন্ট, মাস্টার্ড ট্রেডিং, হিনদুল ওয়ালী ট্রেডিং, সগির অ্যান্ড ব্রাদার্স, গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, অরনেট সার্ভিসেস, জালাল অ্যান্ড সন্স, করোলা করপোরেশন, সাইদ ফুড, অ্যাপেক্স নিট কম্পোজিট, এস এ অয়েল রিফাইনারি, আলী পেপার মিলস, ড্রেজ বাংলা লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ডাইয়িং, অর্জন কার্পেট অ্যান্ড জুট, ইন্ট্রাকো সিএনজি, ফুরচুন স্টিল, ফাইবার শাইন লি., দোয়েল অ্যাপারেলস, জাহিন এন্টার-াইজ, মজিবর রহমান খান, কেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটাল, জয়নাব ট্রেডিং, তাবাসসুম এন্টার-াইজ, অ্যাপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, রিসোর্স ডেভেলপমেন্টে ফাউন্ডেশন, দি ওয়েল টেক্স, ডেলটা সিস্টেম, টেলিবার্তা, এম আর সোয়েটার কম্পোজিট, রেপকো ফার্মসিউটিক্যালস, মাবিয়া শিপ ব্রেকিং, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, নদার্ন ডিস্টিলারিজ, নিউ রাখি টেক্সটাইলস, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শফিস স্টিল, জারিস কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রিজ ও হিলফুল ফুজুল সমাজকল্যাণ সংস্থা। এছাড়া খেলাপি ঋণের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮৮টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ