রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

কিশোররা বেপরোয়া ‘গ্যাং কালচারে’

কুমিল্লা অফিস: গ্যাং কালচারের নামে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোরদের একটি অংশ। কুমিল্লা নগরীর   নজরুল এভিনিউ রোডে কিশোররা গড়ে তুলেছে কয়েকটি গ্যাং গ্রুপ। যাদের কোনটির নাম ‘র‌্যাক্স’, ‘এক্স সিএমএইচএস’, ‘এলআরএন’, ‘মডার্ণ স্কুল ওয়ান’ ও ‘মডার্ণ স্কুল টু’। এই গ্রুপ গুলোর কাজ মূলত বখাটেপনা, হর্ণ বাজিয়ে মোটর সাইকেল চালানো, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পরা। যার সর্বশেষ শিকার হয়েছে কুমিল্লা  মডার্ণ হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মোস্তাইন ইসলাম মিরন।।
মিরন ‘মডার্ণ স্কুল ওয়ান’ এর ছাত্র আর তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় যে পল্টু ও আমিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা ‘মডার্ণ স্কুল টু’ এর ছাত্র। জানা গেছে, এসব গ্যাং গ্রুপের সদস্য কিশোরদের বিষয়ে তাদের পরিবার যেমন উদাসীন তেমনি উদাসীন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও। যে কারণে তারা প্রায়াই বেপরোয়া আচরণ করেই যাচ্ছে। জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় নজরুল এভিনিউ রোডের কর ভবন, মডার্ণ হাই স্কুলের সামনে, আড়ং য়ের সামনে এবং লিপি ডিজিটালের সামনে এসব গ্যাং গ্রুপের আড্ডা। স্কুল শুরু সময় থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং বিকাল থেকে রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত এই গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা আড্ডা মারে। প্রতি  গ্রুপে ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য রয়েছে। এই গ্রুপগুলোর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। এদের বেশির ভাগই স্কুলের ছাত্র। কোন কোনটির নেতা আবার স্কুল ছেড়ে যাওয়া বড় ভাই।
স্থানীয় লোকজন জানান, এ সব গ্রুপগুলোর সদস্যরা প্রায়ই হর্ণ বাজিয়ে মোটর সাইকেল চালায়। নানা অজুহাতে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে, মেয়েদের ইভটিজিং করে। সর্বশেষ মডার্ণ স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে ‘মডার্ণ স্কুল ওয়ান’ ও ‘মডার্ণ স্কুল টু’ বিরোধে জড়ায়। শবে বরাতের রাতে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় সহপাঠীদের ছুরিকাঘাতে মোস্তাাহিন ইসলাম মিরন নামে অষ্টম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে মডার্ণ স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে মিরনের সঙ্গে সহপাঠীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে এ নিয়ে তাকে কয়েকবার হুমকি দেয়া হয়। রবিবার রাতে শবে বরাতের নামাজ পড়তে মিরন বাসার বাইরে গেলে নগরীর ঠাকুরপাড়া রোডের মদিনা মসজিদ এলাকায় তার সহপাঠীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মিরনের লাশ ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত থাকা প্রতিবেশী চাচা কামরুল হাসান জানান, কিছু দিন আগে মডার্ণ স্কুলের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে মিরণের সহপাঠী আবিরের সাথে ৭ম শ্রেণির পল্টুর বিরোধ সৃষ্টি হয়।
রবিবার রাতে শবে বরাতের নামাজ পড়তে মিরণ ও তার বন্ধু আবির নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার মদিনা মসজিদে যায়। সেখান থেকে ঠাকুরপাড়া এলাকায় গোলাম মোস্তফা সড়কের আলিফ টাওয়ারের সামনে যায়। সেখানেই দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১২টার দিকে সে মারা যায়। মিরনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিরনে বন্ধু আবিরের সাথে সপ্তম শ্রেণীতে পড়–য়া পল্টু নামে একজনের বিরোধ ছিলো। শবে বরাতের রাতে পল্টুর বন্ধু আমিন এবং মিরনের বন্ধু আবিরের মধ্যে বাকবিতন্ডা থামাতে মিরন আলিফ টাওয়ারের সামনে যায়।
নিহত মিরণ কোন গ্রুপের সদস্য ছিল এবং তাকে যারা হত্যা করেছে তারাও কোন গ্রুপের সদস্য তা জানা যায় নি। অপর দিকে এই গ্যাং গ্রুপের সংঘর্ষে গত ১৮ এপ্রিল অপর এক কিশোর ছুরিকাহত হয়।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছালাম মিয়া জানান, মিরন হত্যার বিষয়ে গ্যাং গ্রুপের কিছু নেই। তারা উভয় গ্রুপ মসজিদে নামাজ পড়তে যায় সেখানে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং স্থানীয়রা তা মিটিয়েও দেন। পরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, মডার্ণ স্কুলের এক অনুষ্ঠানে নিহত মিরন ভেলেন্টিয়ার ছিল। সে সময় সে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র পল্টুকে বসার জন্য বলে ‘তুই বস’। তুই করে বলায় সে মাইন্ড করে। এ নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ