শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ঘরোয়া ক্রিকেটে সৌম্য সরকারের ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। গতকাল ঢাকা প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগের শেষ ম্যাচে শেখ জামালের বিপক্ষে খেলতে নেমে বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিসহ বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন সৌম্য সরকার। আবাহনীর হয়ে আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন  সৌম্য।  বিকেএসপিতে শেখ জামাল ধানমন্ডির বিপক্ষে হার না মানা ২০৮ রানের ইনিংস খেলে শুধু  রেকর্ডই গড়লেন না তিনি, একই সঙ্গে নিশ্চিত করেন আবাহনীর প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। সবমিলিয়ে সৌম্যর ইনিংসটি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৯তম ডাবল সেঞ্চুরির ঘটনা। এর আগে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল রকিবুল হাসানের। এই ব্যাটসম্যান ১৯০ রানের ইনিংস খেলে একটুর জন্য মিস করেছিলেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার সুযোগ। তবে সৌম্য সেই সুযোগটা নষ্ট করেননি। রকিবুলকে ছাড়িয়ে গিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে শুধু বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিকই হলেন না, একই সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে পূরণ করলেন ডাবল সেঞ্চুরিও। গতকাল সৌম্যর শুরুটা ছিল ধীরগতির। হাফসেঞ্চুরি করতে তার লাগে ৫২ বল। তবে ফিফটির পরই গর্জে ওঠে তার ব্যাট। ৭৮ বলেই পূরণ করে ফেলেন  সেঞ্চুরি। এরপর ১০৪ বলে ১৫০ পূরণ করা এই বাঁহাতি ওপেনার বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০ ওভারের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করতে খেলেন ১৪৯ বল। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও সৌম্যর ডাবল সেঞ্চুরির নজির আছে। ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে কুয়ালালামপুরে কাতারের বিপক্ষে ১৩৫ বলে ২০৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ১৫৩ বলের হার না মানা ঝড়ো ইনিংসটি সৌম্য সাজিয়েছেন ১৪ চার ও ১৬ ছক্কায়। বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে ছক্কার সংখ্যাতেও সৌম্য গড়েছেন নতুন রেকর্ড। ভেঙেছেন সাইফ হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে  যৌথভাবে নিজের গড়া ১১ ছক্কার রেকর্ড। সৌম্যর ১৬ ছক্কা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ। সৌম্যর ওপেনিং পার্টনার জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন সেঞ্চুরি। ১০০ রানে তার আউট হওয়ার আগে তাদের উদ্বোধনী জুটি থেকে আবাহনী পায় ৩১২ রান, যা বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ও প্রথম ৩০০ ছাড়ানো ওপেনিং জুটি। ২০০৭ সালে যে কোনও উইকেটে আগের সর্বোচ্চ ২৯০ রানের জুটির রেকর্ড ছিল চট্টগ্রাম বিভাগের মাহবুবুল করিম ও ধীমান ঘোষের। আর প্রথম উইকেটে আগের সর্বোচ্চ ২৩৬ রানের জুটির রেকর্ডটি ছিল আবাহনীর এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল  হোসেন শান্তর। ২০১৮ প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগে তারা গড়েছিলেন রেকর্ডটি। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দূর্লভ কৃতিত্বের অধিকারি হলেন সাতক্ষীরার ২৬ বছর বয়সী এ অসামান্য ব্যাটিং প্রতিভা। কাকতালীয়ভাবে দুই বছর আগে এই বিকেএসপির ঠিক পাশের মাঠে (বিকেএসপি চার নম্বর মাঠ) ডাবল সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় গিয়েও পারেননি এবারের লিগে মোহামেডানের হয়ে দারুণ খেলা রকিবুল হাসান। ২০১৭ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সৌম্যর বর্তমান দল আবাহনীর বিপক্ষে ১৯০ রানে আউট হয়েছিলেন রকিবুল। দুই চির প্রতিদ্বন্ধী মহা দ্বৈরথটি ছিল বিগ স্কোরিং। ওই ম্যাচে প্রথম ব্যাট করা আবাহনী ৩৬৭ রানের জবাবে মোহামেডান হেরেছিল খুব কাছাকাছি গিয়ে। ১৯০ রানের অসাধারন ইনিংস খেলে আউট হয়েছিলেন রকিবুল। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ডাবলিনে ১৮২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুমিনুল হক। রকিবুলের সেই ১৯০ রানের ইনিংসের দুই বছর পর আজ, ঠিক তার পাশের মাঠটি সৌম্যর ডাবল  সেঞ্চুরির দূর্দান্ত কৃতিত্বের সাক্ষী হয়ে থাকলো।  শেষ পর্যন্ত ১৫৩ বলে ২০৮ রানে অপরাজিত থাকলেন  সৌম্য সরকার। শেখ জামালের ৩১৭ রানের বিশাল পাহাড় টপকাতে নেমে জহুরুল ইসলাম অমিকে নিয়ে ৩১২ রানের অবিশ্বাস্য জুটি গড়ে ফেলেন সৌম্য। ১২৮ বলে ১০০ রান করে জুহুরুল ইসলাম অমি আউট হয়ে  গেলেও সৌম্য থাকেন অপরাজিত। এমনকি ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে তাইজুলকে ছক্কা মেরে আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন করে  দেন তিনি। শেখ জামালের বোলারদের ওপর প্রথম থেকে কতটা খড়গহস্ত ছিলেন সৌম্য, সেটা তার ইনিংসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। 

শুরুতে খেলেছিলেন রয়ে-সয়ে। ৫২ বলে পূরণ করেন হাফ সেঞ্চুরি। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কা দিয়ে। এরপর সেঞ্চুরি পূরণ করেন ৭৮ বলে। ৮টি বাউন্ডারি আর ৮টি ছক্কায়। অর্থ্যাৎ, দ্বিতীয় পঞ্চাস আসে তার মাত্র ২৬ বলে। শেষ পর্যন্ত ১৪৯ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন ১৪ বাউন্ডারি এবং ১৫ ছক্কায়। ম্যাচ শেষে অপরাজিত থাকলেন ১৬ ছক্কায়। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ওয়ানডে কিংবা লিস্ট এ ক্রিকেটে  যে কোনো ব্যাটসম্যানের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ