বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সৌম্য সরকারের রেকর্ড গড়া ম্যাচে লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগের শিরোপা ধরে রাখল আবাহনী লি:। গতকাল বিকেএসপিতে শেখ জামালকে ৯ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। সৌম্য সরকারের রেকর্ড গড়া ইনিংসেই ঢাকা লিগ শিরোপা জিতেছে আবাহনী। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য সরকার। আর এতেই শিরোপা জয় করা সহজ হয়ে যায় আবাহনীর। আগে ব্যাট করতে নেমে তানভীর হায়দারের সেঞ্চুরিসহ ১৩২ রানের অপরাজিত ইনিংসে শেখ জামাল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে করে ৩১৭ রান। ফলে জয়ের জন্য ৩১৮ রানে কঠিন টার্গেট পায় আবাহনী।

 তবে কঠিন এই টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারের হার না মানা ডাবল সেঞ্চুরিতে ১ উইকেট হারিয়ে ১৭ বল আগেই টার্গেট রানে পৌছে আবাহনী। আর সুপার লিগের শেষ রাউন্ডে শেখ জামালকে উড়িয়ে তারা নিশ্চিত করেছে শিরোপা। অবশ্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারের প্রিমিয়ার লিগ শুরু করেছিল আবাহনী। কিন্তু প্রথম পর্বে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের দাপটে শিরোপার আশা ফিকে হয়ে আসে তাদের। তবে সুপার লিগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিজেদের কাছেই শ্রেষ্ঠত্ব রেখে দিলো আবাহনী। শেষ রাউন্ড শেষে আবাহনী আর লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের ছিল সমান ২৬ পয়েন্ট করে। কবে রান রেটে এগিয়ে থেকে শিরোপা জিতে আবাহনী। ১৬ খেলায় আবাহনীর পয়েন্ট ২৬ (+০.৮৬৬)। সমান খেলায় রূপগঞ্জের পয়েন্টও ২৬ (+০.৫১৭)। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় শিরোপা জেতার উল্লাসে মাতে আবাহনী। আর শেষ ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ৮৮ রানে জিতলেও হতাশায় ডুুবেছে রূপগঞ্জ। দিনের অন্য খেলায় জিততে পারেনি মোহামেডান। প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে হেরেছে তারা মাত্র ৩ রানে। ৩১৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর জহুরুল ইসলাম গড়লেন ৩১২ রানের জুটি। যে জুটিতে ভর করেই ১৭ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে আবাহনী। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) শিরোপাও হাতে তুলেছে আকাশি-হলুদরা। আবাহনীর দুই ওপেনার যেমন ব্যাটিং করেছেন, তার জবাব দেয়ার উপায় আসলে ছিল না শেখ জামালের বোলারদের। আলাদা করে বলতে হয় সৌম্যর কথা। বিশ্বকাপ দলে থাকা এই ব্যাটসম্যানের অফফর্ম নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। সেই সমালোচনা মাথায় নিয়েই গত ম্যাচে তুলে নেন ঝড়ো এক সেঞ্চুরি। এবার আর সেঞ্চুরিতে থামা নয়, সৌম্যর উইলো থেকে বেরিয়ে এলো অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি। যেটি আবার বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের লিস্ট 'এ' ক্রিকেটের রেকর্ড। এই সৌম্যকে শেষ পর্যন্ত আর আউট করতে পারেননি শেখ জামালের বোলাররা। বিজয়ীর বেশে মাঠ ছেড়েছেন সৌম্য। ১৫৩ বলে তিনি অপরাজিত থাকেন ২০৮ রানে, যে ইনিংসে চারের চেয়ে ছক্কা বেশি। ১৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে বাঁহাতি এই ব্যাটিং জিনিয়াস ছক্কা হাঁকান ১৬টি! সেঞ্চুরি পান তার সঙ্গী জহুরুলও। আবাহনীর জয় তখন নিশ্চিত হয়ে গেছে, ৬ রান বাকি। ১০০ রান করে জহুরুল ফেরেন ইমতিয়াজ হোসেনের শিকার হয়ে। তারপর তাইজুল ইসলামকে এক্সট্রা কাভারের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন সৌম্যই। এর আগে তানবীর হায়দারের ১৩২ রানের হার না মানা ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেটে ৩১৭ রান তুলেছিল শেখ জামাল। এছাড়া ইলিয়াস সানী ৪৫ আর মেহরাব হোসেন করেন ৪৪ রান। আবাহনীর পক্ষে ৫৬ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। শেষ পর্যন্ত তারা ৩১৭ রানের বড় স্কোর গড়লেও সৌম্যর ইতিহাস গড়ার দিনে কোনও কিছুই কাজে আসেনি। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এই ওপেনারের দানবীয় ইনিংসের আগে বল হাতে আবাহনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিশ্বকাপের উদ্দেশে আয়ারল্যান্ড যাত্রার আগে ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে এই পেসারের শিকার ৪ উইকেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ