মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মধ্য শাবানের রাত

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাতকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এছাড়া তারা ফজিলতময় কিছু রাতকেও বিশেষ মর্যাদার চোখে দেখে থাকেন। এ প্রসঙ্গে শবে বরাত ও শবে কদরের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আমাদের এই উপমহাদেশে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে শবে বরাত পালিত হয়ে থাকে। শবে বরাতকে ভাগ্য-রজনী কিংবা মুক্তির রজনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শবে বরাত রাতকে অনেকেই বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালন করে থাকেন। তবে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগের সাথে সঠিক জ্ঞানযুক্ত না থাকলে মানুষ কিছু ভুল কাজও করে ফেলতে পারেন। এ প্রসঙ্গে শবে বরাত রাতে আলোকসজ্জা, পটকা ফুটানো, হালুয়া-রুটির উৎসব এবং দলবেঁধে মসজিদ ও কবরস্থানে ঘুরে বেড়ানোর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইসলামে ইবাদত এবং সামাজিক রীতি-নীতি বা প্রচলন এক বিষয় নয়। ইসলামে কোন বিষয়কে ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত করতে হলে প্রথমেই জানতে হবে মহান আল্লাহ সেই কাজটি করতে বলেছেন কিনা এবং রাসূল (স.) কোন্ পদ্ধতিতে সে কাজটি করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশনা এবং রাসূল (স.)-এর মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির যোগফলই হলো ইবাদত। তাই কোনো বিষয়কে ইবাদত হিসেবে মেনে নিতে হলে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সহী দলিল প্রয়োজন। প্রসঙ্গত এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইবাদতের ক্ষেত্রে কোন্ বিষয়কে আমরা কতটা গুরুত্ব দেব তাও রাসূল (স.) এর কর্মপদ্ধতি থেকেই আমাদের জেনে নিতে হবে। কোন্ ইবাদত ফরয, কোনটি সুন্নাত, কোনটি নফল তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকলে ইবাদতের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বিনষ্ট হতে পারে। আমরা জানি যে, নফল ইবাদত কখনও ফরজ ইবাদতের সমতুল্য হতে পারে না। অথচ আমরা শবে-বরাতের রাতে অনেককেই দেখি রাত জেগে নফল ইবাদতে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে ফজরের ফরজ সালাত আদায়ে ব্যর্থ হন। এটি ইবাদতের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হতে পারে না। বিষয়টি আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। অর্থাৎ যথা বিষয়কে যথাস্থানে রাখতে ব্যর্থ হলে ইবাদতের ক্ষেত্রেও আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ