মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

গডফাদারদেরও বিচার হোক

সমাজের চিহ্নিত অপরাধীরাই কেবল অপরাধ করে না। অপরাধীর পেছনেও বড় বড় অপরাধী থাকে। এদের বলা হয় ‘গডফাদার’। এদের ইন্ধন বা আশকারা না থাকলে বড় অপরাধ সহজে সংঘটিত হয় না। অপরাধীদের গডফাদাররা নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ে। উৎসাহ দেয়। সাহস জোগায়। ফলে মারাত্মক অপরাধকর্ম সহজেই ঘটিয়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। যারা অপরাধকর্মটি সরাসরি ঘটায় তারাই কেবল অপরাধী নয়। যারা নেপথ্যে থাকে তারাও অপরাধী। এদেরও বিচারের সম্মুখীন করা জরুরি। কিন্তু নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের অনেক সময়ই বাইরে এনে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয় না। বলতে দ্বিধা নেই, সোনাগাজির মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারবার পেছনেও গডফাদারদের কালো হাত রয়েছে। শক্তিধর এই গডফাদাররা সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বারবার উৎসাহিত করেছে। এর নির্মম অনিবার্যতাই নুসরাত জাহানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ত্বরান্বিত করে। আবার এই গডফাদাররাসহ অভিযুক্ত পুলিশের কর্মকর্তাও নুসরাতের হত্যাকা-কে আত্মহত্যা বলে চালাতে চেয়েছিলেন এমন রিপোর্টও পাওয়া গেছে।
সোনাগাজি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাতকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শুরু থেকেই অপরাধ ধামাচাপা দিতে এবং জড়িতদের রক্ষায় গডফাদাররা মাঠে ছিল।  মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার হাতে নির্যাতনের পর নুসরাত মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদকে বিষয়টি অবহিত করান। কিন্তু পর্ষদের কোনও কোনও সদস্য নানাভাবে কটূক্তি করে মেয়েটিকে তাড়িয়ে দেন। এ অবস্থায়ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অবিচল ছিলেন মেধাবী ছাত্রী নুসরাত। অভিযোগ দায়ের করতে তিনি শেষমেশ থানায় যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইনের সহায়তা চাইতে গিয়ে মেয়েটি হেনস্তার শিকার হন সোনাগাজি থানার প্রত্যাহারকৃত সাবেক ওসির কাছেও।
উল্লেখ্য, অপরাধীরা যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পায় সেজন্য জোর অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে পিবিআইসহ সকল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে গডফাদারদের তালিকা এসে গেছে। ইতোমধ্যে নুসরাতের মা-বাবা-ভাইকে গণভবনে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। শোকাচ্ছন্ন পরিবারটিকে সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কাজেই আশা করা যায়, অপরাধীরা যে-দলেরই হোক না কেন; তাদের রেহাই পাবার উপায় নেই বলে আমরা মনে করতে পারি। ইতোমধ্যে  অভিযুক্তদের কয়েকজন অপরাধ স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত অধ্যক্ষই মেয়েটিকে পুড়িয়ে মারবার মূল হুকুমদাতা বলে জানিয়েছে আটককৃতরা। তিন নারীসহ অভিযুক্তদের ১৭ জন ধরা পড়েছে ইতোমধ্যে। কাজেই নুসরাত হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টরাসহ নেপথ্যের প্রভাবশালী গডফাদারদেরও গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা সহজ হবে। আর এটা সম্ভব হলে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নিশ্চয়ই আরও বাড়বে। আইনজীবীরাও অভিযুক্তদের পক্ষে লড়বেন না বলে জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ