সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রয়ে আগ্রহ কমেছে ডিলারদের

খুলনা অফিস : খুলনাঞ্চলে ডিলারদের মধ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রির আগ্রহ কমেছে। ফলে নিবন্ধিত লাইসেন্সধারী ডিলারদের নবায়নে সাড়া নেই। এদিকে টিসিবির নির্ধারিত পণ্য বিক্রি না করায় গত তিন বছরে ২৮ ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে ডিলারদের দাবি, লাভ কমে যাওয়া এবং চাহিদামত পণ্য সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ে আগ্রহ কমে গেছে। খুলনার ১০ জেলাসহ পার্শ¦বর্তী গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি ও পিরোজপুর জেলায় আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে রমজান উপলক্ষে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হচ্ছে। তবে চিনি, সয়াবিন তেল, ছোলা, ডাল ও খেজুরের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

এদিকে টিসিবি’র দৈনন্দিন বিক্রয় কেন্দ্রেও আশানুরূপ নয়। বাজার মূল্য থেকে চিনি, ডাল ও সয়াবিন তেলের মূল্য তুলনামূলক কম হলেও গ্রাহকদের মধ্যে সাড়া নেই। বর্তমানে নগরীর শিববাড়ি মোড়ের টিসিবির দৈনন্দিন বিক্রয় কেন্দ্রে প্রতি কেজি চিনি ৪৭ টাকা, মুসুরির ডাল ৪৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল ৪২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে টিসিবি’র পণ্য নিয়ে নানা বির্তক থাকা এবং বিক্রিয়ের স্থল সাধারণ ক্রেতারা না জানায় দৈনন্দিন বিক্রি আশানুরূপ নয় বলে জানা গেছে। 

টিসিবি’র খুলনা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে এ অঞ্চলের ১৪টি জেলায় রমজান মাসে ৫শ’ মেট্রিক টন চিনি, আড়াই লাখ লিটার সয়াবিন তেল, ৩৩০ মেট্রিক টন ছোলা, ২০০ মেট্রিক টন ডাল এবং ১০ মেট্রিক টন খেজুর বিক্রি করেছে। চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে রমজান মাসের টিসিবির পণ্য বিক্রি করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে নির্ধারিত মূল্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নগরীতে ৫টি ট্রাকে করে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে। এর পাশাপাশি ১৩টি জেলায় ২টি করে মোট ২৬টি ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি হবে। এছাড়া টিসিবির নিবন্ধিত ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ীও পণ্য প্রস্তুত থাকবে। চলতি বছরে রমযান মাসের চাহিদা অনুযায়ী ইতোমধ্যে নগরীর চরের হাট টিসিবির গুদামে পণ্য আসা শুরু করেছে। নির্দেশনা পাওয়ার পরই বিক্রি শুরু হবে।

একাধিক ডিলারদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বছরে ১/২ বার পণ্য বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের খরচ ওঠে না। এছাড়া পণ্য বিক্রির কমিশনও তুলনামূলক খুবই কম। সবথেকে বড় সমস্যা হল খুলনা বিভাগসহ আশেপাশের ৪টি জেলার টিসিবির ডিলারদের পণ্য নগরীর চরের হাটে টিসিবির ভাড়া করা গুদাম থেকে নিয়ে যেতে হয়। যার ফলে ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা লাভ করতে পারেন না। যার কারণে ধীরে ধীরে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। 

এদিকে নগরীর একাধিক বাসিন্দারা জানান, টিসিবির দৈনন্দিন বিক্রয়যোগ্য পণ্য শিববাড়ি মোড়ে বিক্রি করা হয়। তবে কখন এবং কি দামে বিক্রি হয় সেটা অনেকেই জানেন না। এছাড়া নির্দিষ্ট জায়গা থেকে পণ্য কিনে আনতে অনেকেই আগ্রহী হারিয়ে ফেলেছেন। 

টিসিবি’র খুলনার অফিস প্রধান মো. রবিউল মোর্শেদ বলেন, অনেক ডিলার টিসিবির পণ্য অসৎ উপায়ে বিক্রি করার ফলে বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ ধরণের অভিযোগে ২০১৬ সালে ২ জন, ২০১৭ সালে ২১ জন এবং ২০১৮ সালে ৫ জনের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। এ বছর নগরীতে দু’টি ট্রাকের টিসিবির পণ্য বিক্রি তদারকির জন্য একজন নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি বলেন, দূরবর্তী ডিলাররা অনেকেই নবায়ন করেন না। তবে তাদের চাহিদামত যথেষ্ট পণ্য আমাদের সংরক্ষিত থাকে। বর্তমানে ৪৫৬ জন ডিলার রয়েছেন। গত রমযানে এর প্রায় অর্ধেকই নবায়ন করেনি। তিনি আরও বলেন, আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে রমযান মাস উপলক্ষে টিসিবির চিনি, তেল, ছোলা, ডাল ও খেজুর দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এবার পণ্যের দাম পরিবর্তনের সম্ভবনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ