শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অগ্নিকাণ্ডসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে -প্রধানমন্ত্রী 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

স্টাফ রিপোর্টার: অগ্নিকাণ্ড, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সবসময় সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সবাইকে নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কী কী করতে হবে সেগুলো প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় তিনি এ নির্দেশনা ও আহ্বান জানান। সভায় শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোথায় কাজ করেন, কী করেন, সেখানে নিরাপত্তা কতটুকু নিজের ভেতরে সেই সচেতনতা আছে কি না- এ ব্যাপারে নিজেদেরও প্রস্তুতি থাকতে হবে।

দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী কী করণীয় সেগুলোর প্রচার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান করবে। কোনো দুর্যোগ এলে জাতীয়ভাবে আমাদের করণীয় কী? যে নির্দেশনাগুলো আছে সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডার, দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছুদিন আগে একটা বহুতল ভবনে আগুন লাগল, সেখানে যে বিষয়টা লক্ষণীয় ছিল, সেখানে যারা কর্মরত ছিল, তাদের মধ্যে কোনো সচেতনতা ছিল না। এমনকি সেখানে যে ফায়ার এক্সিট আছে সেটাও তারা জানে না।

তিনি বলেন, অনেক ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমন পথে ইন্টেরিয়র সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অথবা সেখানে খালি জায়গায় যত মালামাল আছে সব ফেলে রাখা হয়। দুর্যোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর (ভবন) সঙ্গে সেখানে যারা কাজ করছেন তাদের মধ্যে সচেতনতা থাকা প্রয়োজন। এ সচেতনতা সৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন দুর্ঘটনা মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ৮০০ বছরের বেশি পুরনো মধ্যযুগীয় স্থাপত্য নটর ডেম ক্যাথেড্রাল ধ্বংস হওয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের ঘনবসতির কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অত্যন্ত ঘনবসতির দেশ। সেটা মাথায় রেখে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্যোগ-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কি কি করণীয় সেগুলোর প্রচার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান করবে। আর জাতীয়ভাবে যেকোনো দুর্যোগ এলে আমাদের করণীয় কী, সেই বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। সেগুলোও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে।’

বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডারসহ দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটা বহুতল ভবনে আগুন লাগলো। সেখানে যে বিষয়টা লক্ষ্যণীয় ছিল তা হলো, ওইখানে যারা কর্মরত ছিল তাদের মধ্যে কোনো সচেতনতা ছিল না। এমনকি সেখানে যে ফায়ার এক্সিট আছে সেটাও তারা জানে না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেজন্য সবাইকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া বন্যা এবং অন্যান্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের ভোগান্তি ন্যূনতম পর্যায়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ এসময় দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

ব্যক্তিগত পর্যায়েও নিরাপত্তা সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ কোথায় কাজ করেন, কি করেন, সেখানে নিরাপত্তা কতটুকু নিজের ভেতরে সেই সচেতনতা আছে কিনা, এ ব্যাপারেও প্রস্তুতি থাকতে হবে। এখানেও সচেতনতা সৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলার জন্য সরকারের উদ্যোগ পর্যালোচনা এবং করণীয় বিষয় নির্ধারণ করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে যথাসময় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে।’ এসময় তিনি জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে জাতীয়, প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তিপর্যায় থেকে যথাসময়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি রাজধানীর এফআর টাওয়ার এবং চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে অনেক মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ব্যাপক অবকাঠামোর উন্নয়ন যেমন হয়েছে, তেমনি অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনাও বাড়ছে। যখনই কোনো দুর্ঘটনার খবর আসে, সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সাড়া দেয়। পূর্ববর্তী সরকারগুলো থেকে এই উদ্যোগ ব্যতিক্রমী।

১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর বিএনপি সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকার উপকূলীয় অঞ্চলকে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষায় ‘মুজিব কিল্লা’ নামে ১ হাজার সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

জনগণকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিকায়ন আমাদের অনেক আরাম দিয়েছে। তবে এতে ঝুঁকিও কম নয়। এজন্য ঝুঁকি এড়াতে আমাদের সতর্ক হতে হবে।’ জনগণকে সবসময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি ও কর্মস্থলসহ যেকোনো জায়গা দুর্যোগ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলারও পরামর্শ দেন তিনি।

অগ্নিকা-ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ৮০০ বছরের বেশি পুরনো মধ্যযুগীয় স্থাপত্য নটরডেম ক্যাথিড্রাল ধ্বংস হওয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুর্ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ