সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খানাখন্দে ভরা সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের কথা মনে উঠলে খানাখন্দ, ভাঙাচোরা, ধূলাবালি আর ব্যবসায়ীদের দখলের দৃশ্য চোখের সামনে ভাসে। বৃষ্টি হলে আর রক্ষা নেই। পরিণত হয় মরণফাঁদে। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে জয়বাংলার মোড় উঠতে বিশেষ সুবিধার জন্য এই সড়ক করা হয়। কিন্তু সুবিধার জন্য করা সড়কে এখন অসুবিধার মাত্রা তীব্রতর। যা বলতে বলতে নাকি হাঁপিয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।

 সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়ক বা এমএ বারি লিংক রোড় যে নামেই বলা হোক না কেন, সমস্যা সমস্যই রয়ে গেছে। বালি, ইটের খোয়া, খানাখন্দ, ভাঙাচোরা, ধূলাবালি আর ব্যবসায়ীদের দখলে একাকার এ সড়ক। অল্প বৃষ্টি হলেই এ সড়কে আর চলাচলের জো থাকে না। এ সড়কে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ে। কাদা, পানি, বালি, ইটের খোয়া মিলে এ সড়কে এক অন্যরকম রঙের আস্তরণ তৈরি করে। প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এখানে। বাস টার্মিনাল থেকে ময়ূর ব্রিজ পর্যন্ত একই অবস্থা। ব্রিজ পার হলে এ সড়কে চলে ইট পাথরের ছোটাছুটি। খানাখন্দ, ধূলাবালির সাথে চলতে হয় এখানে। এ সড়কের সমস্যার কারণে অনেক যাত্রী সোনাডাঙ্গা থেকে বাসে না উঠে গল্লামারি জিরোপয়েন্ট থেকে উঠে থাকে বলে জানান বাস হেলপার মো. রাশেদুল ইসলাম। তিনি জানান, মাত্র ১ কিলোর রাস্তায় পার হতে পারলে মনে হয়, আজকের মতো বেঁচে গেছি। এ সড়কে চলার সময় বাঙ্কারের ব্যাগ, মালপাতি যাত্রীদের মাথায় পড়ে। যতো আস্তে গাড়ি চলুক না কেন। বাসের গ্লাস আটকে চলতে হয়। এ সড়কে সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া আর কবে লাগবে জানি না।

বাস ড্রাইভার মো. আশেক জানান, এর থেকে কাঁচা রাস্তায় গাড়ি চালানো অনেক ভাল। নগরীতে ঢুকতে এবং বের হতে এযেন এক মহা আপদ। পুরো রাস্তায় বড় বড় খানা। বালি, ইট, খোয়া, পাথর। তারপরও আবার রাস্তার দু’পাশের ব্যবসায়ীরা দখল করে ব্যবসা করছে। একটু বৃষ্টি হলেই আর রক্ষা নেই। কোথায় খানা আর কোথায় উচু, বোঝার কায়দা নেই। এই রাস্তা মালিক আর ড্রাইভারদের জন্য অভিশাপ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন সোহেল জানান, এ রাস্তার পায়ে হেঁটে, রিক্সায়, বাসে কোনোভাবেই চলাচল করা যায় না। প্রায় সময় গাড়ির চেসিজ ভেঙে যায়। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু চালকের জন্য হয় না। রাস্তার জন্যেও হয়। জনগণের স্বার্থে এ ভাঙাচোরা রাস্তা বাদ দিয়ে যদি গল্লামারি হয়ে গাড়ি চলে তাহলে প্রশাসন চালক, গাড়ি আটক করে। তাহলে আমরা কোথায় যাব। আমরা আশা করবো জনগণের সমস্যার কথা চিন্তা করে অনতিবিলম্বে কর্তৃপক্ষ এ রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে সংস্কার করবে।

চুকনগরের সুধাংশু মার্টিন দাস জানান, আমরা সোনাডাঙ্গা থেকে ইজিবাইকে উঠে গল্লামারি জিরোপয়েন্টে যাচ্ছি। ওখান থেকে বাসে উঠবো। এই বাইপাস রোডের যে অবস্থা। ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আর চলা যায় না।

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্টেট অফিসার মো. নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, এই রাস্তাটি আগে কেডিএ’র ছিল। কেসিসি এখন এটিকে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। খুব শিগগিরই এটি সংস্কার করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ