শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিজিএমইএ ভবন থেকে মালপত্র সরানোর সুযোগ পেল ব্যবসায়ীরা

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিজিএমইএ ভবন থেকে মালপত্র সরিয়ে নিতে বুধবার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রাজউকে আবেদন করে। তার ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে মালপত্র সরাতে ভবনের ফটকের তালা খুলে দেয় রাজউক কর্তৃপক্ষ। তারপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ করা শ্রমিকেরা বিভিন্ন ফ্লোর থেকে মালপত্র নামাতে শুরু করে।

জানতে চাইলে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন খন্দকার) অলিউর রহমান বেলা দুইটার দিকে বলেন,  বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা মালপত্র সরানোর সুযোগ দেব। পরে আবার তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। পরে প্রয়োজন হলে আবারও মালপত্র সরানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বিজিএমইএ ভবনের চারটি তলা ব্যবহার করত ডিবিএল গ্রুপ। নিজেদের মালপত্র সরিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০০ শ্রমিক নিয়োগ করেছে। মালপত্র সরানোর কাজ তদারক করছেন গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ।

জানতে চাইলে আবদুল ওয়াহেদ বলেন, মালপত্র সরিয়ে নিতে আমরা রাজউকের কাছে সাত দিন সময় চেয়েছি। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৬৫-৭০ শতাংশ মালপত্র সরাতে পেরেছি। আরও ২-৩ দিন লাগতে পারে। আশা করছি, রাজউক আমাদের সেই সময় দেবে।

জমির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করায় হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভেঙে ফেলতে হবে। সে জন্য ভবনটি ছাড়তে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে সময় দিয়েছিলেন আদালত। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ তাদের দপ্তর উত্তরায় নির্মাণাধীন নতুন ভবনে স্থানান্তর করে। সোমবার থেকে সেখানে দাপ্তরিক কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার সারা দিন মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় দিয়ে সন্ধ্যায় ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।  বুধবার সারা দিন তালা ঝোলানোই ছিল।

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে ওই ভবনকে হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। 

এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস ও পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আদালত নমনীয় হবে না : হাতিরঝিলের বিষফোঁড়া খ্যাত বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে আদালত নমনীয় হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইনকর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে সময় চেয়ে করা আবেদন আদালত অবমাননা হবে কি-না এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ ধরনের কোনো আবেদন করা হলে তা আদালতে যাবে এবং সেটা আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর আগে গত বুধবার বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য এক বছর সময় চেয়ে আপিল বিভাগে করা আবেদন তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার চেয়ে বিজিএমইএ সভাপতিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সময় চেয়ে করা আবেদন যদি প্রত্যাহার না করে তাহলে প্রতিষ্ঠাটির সভাপতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রেজিস্ট্রি ডাক যোগে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত বছর ২ এপ্রিল ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না উল্লেখ করে বিজিএমইএর দেয়া অঙ্গীকার আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ ভবন সরাতে ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেন। আর কোনো সময় চাওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার দেয়ার পরে যে সময় বৃদ্ধি করা হয় তা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়েছে। কিন্তু একজন এডভোকেট অন রেকর্ডের মাধ্যমে ভবনটি সরাতে আরও এক বছর সময় বাড়াতে একটি আবেদন করেছেন। যেটা গত বছরের ২৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের দেয়া আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন। আপনার কার্যক্রম আপিল বিভাগের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন যেটা আদালত অবমাননার শামিল। এ অবস্থায় সময় চেয়ে করা আবেদন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে ওই ভবনকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগও এ আদেশ বহাল রাখেন। এ ব্যাপারে বার বার সময় আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ এক বছর সময় দেয়া হয়। যা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়। এরপরও ভবন সরিয়ে না নেয়ায় গত মঙ্গলবার রাজউক ভবনটি সিলগালা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ