শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভোটার হতে চার জেলার ৩২ উপজেলায় সনদ লাগবে 

 

স্টাফ রিপোর্টার: ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কোনো সদস্য যাতে ভোটার হতে না পারে, সে জন্য চার জেলার ৩২টি উপজেলায় শক্তিশালী কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ বা সনদ ছাড়া এসব উপজেলার কোনো ব্যক্তি ভোটার হতে পারবেন না। 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তার আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা উপলক্ষে কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ এপ্রিল থেকে এই হালনাগাদের কাজ শুরু হবে।

নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এই ব্রিফিং অনুষ্ঠানে সচিব জানান, ৩২টি উপজেলার প্রতিটিতে নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এএসআই) জনবল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

 হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, অতীতে রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় ঢুকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছে এবং দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করেছে। এবারও তারা যাতে একইভাবে ভোটার হতে না পারে, সে জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অনাপত্তি, সুপারিশ বা সনদ ছাড়া ওই সব এলাকার কোনো ব্যক্তি ভোটার হতে পারবেন না। 

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, এই ৩২টি উপজেলা হলো কক্সবাজারের সদর, চকরিয়া, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া। বান্দরবানের সদর, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি। রাঙামাটির সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল এবং চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কর্ণফুলী। এসব উপজেলা কিংবা তার আশপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের শরণার্থীশিবির রয়েছে।

ইসি সচিবালয় থেকে আরও জানা যায়, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪০ লাখ রোহিঙ্গার নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

 ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের উৎসাহী করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে হেলালুদ্দীন আহমদ জানান। তিনি বলেন, নারীরা যাতে ভোটার হন, সে জন্য মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কিছু এনজিওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক নারী ভোটার হতে গিয়ে ছবি তুলতে চান না বা ছবি তোলার ভয়ে ভোটার হতে চান না। এ বিষয়ে নারীদের উৎসাহী করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন মসজিদে প্রচার চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

সচিব আরও বলেন, এবারই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী ‘হিজড়া’ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এত দিন তাঁরা ‘নারী’ অথবা ‘পুরুষ’ হিসেবে ভোটার হয়েছেন। তাই আগের ভোটারদের কেউ নতুন করে ‘হিজড়া’ হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে তাঁদের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সনদ নিয়ে তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে হবে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী হিজড়ারা পৈতৃক সম্পত্তির মালিক কীভাবে হবেন, সে বিষয়টি আমরা কখনো খতিয়ে দেখিনি। এ বিষয়ে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ