শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঘিওরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ৪ বছর  ধরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

 

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ ভয়ভীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ৪ বছর ধরে এক নারীকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন (৪০)। শুধু তাই নয়, ওই নেতার লালসার কু-দৃষ্টি পড়েছে ওই নারীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দিকেও। মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করতে দিলে ওই নারীর সঙ্গে তার গোপন সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়া হচ্ছে। মেয়ের সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ওই নারী মঙ্গলবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। এ ছাড়া বুধবার ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফর রহমান।

নির্যাতিত ওই নারীর অভিযোগ, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন ভয়ভীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে তার ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এছাড়া সে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেও বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে দিয়ে বিভিন্ন এনজিও থেকে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ উঠিয়ে নিয়েছে আলী হোসেন।

এখন তার কুনজর পড়েছে (ওই নারীর) স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দিকে। মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করতে দিলে এ বিষয়ে বিদেশে থাকা তার স্বামীকে জানাবে এবং তার গোপন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ও দেখাচ্ছে। প্রথমে মান-সম্মানের ভয়ে কাউকে কিছু না বললেও, সে তার মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে মঙ্গলবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় উল্লেখ করেছেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই নারীকে তার মেয়েসহ জেলার সদর উপজেলার উত্তর সেওতা এলাকার মনিরা বেগম মনোয়ারার ৪ তলাবিশিষ্ট বাসার চিলেকোঠার কক্ষে যেতে বলে। না গেলে কিস্তির ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ফেরত না দেয়ার হুমকি দেয়। প্রাণনাশের হুমকিসহ ইন্টারনেটে তার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় সে।

উপায়ান্তর না দেখে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ওই বাড়ির চিলেকোঠার কক্ষে যায়। প্রথমে ওই ব্যক্তি (আলী হোসেন) ওই নারীকে ধর্ষণ করে এবং পড়ে অন্য কক্ষ থেকে তার মেয়েকে এনে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়। কিন্তু মাঝে মধ্যেই অপরিচিত পুরুষরা নারী নিয়ে ওই বাড়িতে আসে এমন সন্দেহের ভিত্তিতে কয়েকজন স্থানীয় লোক উক্ত সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আলী হোসেন তার ব্যবহৃত স্মার্ট মোবাইল ফোনটি ফেলেই পালিয়ে যায়। ওই নারীকে সেখানে পেয়ে স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করতেই এই লোমহর্ষক ঘটনা জানা যায়। অভিযুক্ত মো. আলী হোসেন (৪০) ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দরবেশ ব্যাপারীর ছেলে।

নালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক দিলসাদ খান দেলোয়ার জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে আলী হোসেনের নারীঘটিত সমস্যা আছে, এটা সত্য।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে মো. আলী হোসেন এবং তার এই অপকর্মে সহায়তা করার জন্য ওই বাড়ির মালিক মনিরা বেগম মনোয়ারার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামীদের ধরার চেষ্টাও চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ