শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের  চক্রান্ত করে লাভ হবে না  -- রিজভী 

 

 স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সাকসেসফুল করার জন্য ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সূত্রবিহীন একটি খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন, এমনকি তারা তারিখও বলে দিচ্ছেন! কিন্তু বাস্তবতা হলো-বিএনপির কোনো সূত্র এমন কিছুই জানে না। অথচ সরকারপন্থী কয়েকটি মিডিয়া প্রতিদিন মনগড়া প্রোপাগা-া চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রোপাগান্ডাগুলোর সাথে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জড়িত বলে ব্যাপক গুঞ্জন আছে। দেশনেত্রী প্রচ- অসুস্থ তা নিয়ে এই মিডিয়াগুলো নীরব। গতকাল বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 

রিজভী  বলেন, প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সাকসেসফুল করার জন্য ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে খুবই বিপর্যন্ত। হাত-পা নাড়তে পারছেন না। আর্থ্রাইটিসের ব্যাথার কারণে পা নাড়াতে পারছেন না। তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলেছেন তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এই অবস্থায় দেশনেত্রী চাচ্ছেন তার পছন্দমতো বিশেষায়িত  হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এই অবৈধ সরকার তার জীবন হুমকীর মুখে ফেলে সুদুরপ্রসারী স্বার্থ সিদ্ধির ষড়যন্ত্র অব্যহত রেখেছে। আইনজীবীরা বলেছেন, তাকে যে মিথ্যা সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে তা সহজ জামিনযোগ্য। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তি চান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো-দেশনেত্রীকে নিয়ে মাইনাস ফরমুলা বন্ধ করুন। ওয়ান ইলেভেনের সরকার মাইনাস-টু ফরমুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণের প্রানপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন কঠোর ভূমিকায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তারা সফল হলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। 

তিনি বলেন, প্যারোলের নামে মাইনাসতত্ত্বের অশুভ চক্রান্ত করে লাভ হবে না। তার জামিনে আর বাধা দিবেন না। আদালতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের উপর থেকে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেই আমাদের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন আইনী প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসবেন। আইনকে তার নিজের গতিতে চলতে দিন। অপতৎপরতা বন্ধ না করলে আখেরে আপনাদেরকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। পরের জন্য গর্ত খুড়লে নিজেকেই সেই গর্তে পতিত হতে হয়-এটা কেবল প্রবাদ নয় বাস্তব। সুতরাং দেশনেত্রী ও বিএনপি-কে নিয়ে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। আপনাদের প্রতি দেশের জনগণ এমনিতেই চরম ক্ষিপ্ত। চক্রান্ত করলে জনগণ উপযুক্ত জবাব দিবে। আমি আবারও দৃঢ়কন্ঠে বলতে চাই-অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

মধ্যরাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের লাশের ওপর দেশ চালাচ্ছেন। তাই কোন কিছুই এখন যেন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। দেশে চলছে এক চরম নৈরাজ্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি। দেশে কোন সরকার আছে বলে অনুমিত হচ্ছেনা। খুন-ধর্ষণ-লুটপাটে মত্ত হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। পুলিশ প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা রাতের ভোটে ব্যালট বাক্স ভরে দিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তারাও বেপরোয়া হয়ে গেছেন। সরকারকে পরোয়া করছে না। নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। প্রতিদিন প্রাত্যহিক খবরের কাগজগুলোর পাতা ভরে থাকছে খুন ধর্ষন পাশবিক নিপীড়নসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক ঘটনায়। দেশে যেন ধর্ষণের উৎসব চলছে। নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিশু, কিশোরী কিংবা বয়স্ক নারী কেউ নিরাপদ নন। প্রতিদিনই শিশু, কিশোরী ও বয়স্ক মহিলারা বর্বরতার শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পাশবিক নির্যাতনের পর তাদের হত্যা করা হচ্ছে। গণপরিবহনে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিসে কিংবা বাসা-বাড়িতে, রাস্তাঘাটে সর্বত্রই নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছেন। 

রিজভী বলেন, তারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন বাসে, ট্রাকে, ট্রেনে, বাসা-বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে, কোথাও নারী-শিশু নিরাপদ নয়। তিন বছরের কন্যা শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী নারী, কেউই বাদ যাচ্ছে না। আর প্রতিটি ঘটনা ঘটাচ্ছে এই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। নাৎসীবাদের এই অবিস্মরণীয় মূর্তি এদেশে আর কখনোই দেখা যায়নি। এগুলি গণতন্ত্র হত্যার বিজয় অভিযানের বাই-প্রোডাক্ট।  যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। সেখানকার  অন্ধকারের ভোটের এমপি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ এবং পুলিশের সহযোগিতায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওলামালীগ নেতা সিরাজ উদ দৌলা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল দিনের পর দিন। অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের জ্ঞাতসারে পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের টাকায় ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদত হোসেন শামীম ও ছাত্রলীগ নেতা নুরুদ্দিনের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকারী দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। এরা কতটা বেপরোয়া এবং শক্তিশালী যে, খুনীর পক্ষে প্রকাশ্যে মিছিল করে হুমকি পর্যন্ত দেয়। পত্র পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যন একরামকে যার নির্দেশে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল সেই বিনাভোটের এমপি’র লোকজন নিয়ে নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে মামলা তোলার জন্য চাপ দিচ্ছে। এরপরেই নুসরাতের পরিবারকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী ধরিয়ে দিলেন একটি ব্যাংকের নিয়োগপত্র। জনমনে ধারণা, দলীয় নেতাকর্মীদের বাঁচানোর সনদই হচ্ছে এই নিয়োগ পত্র। যাতে করে পরিবারটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মামলার গতি বদল করা যায়। নয় দিন হলো নুসরাত মারা গেছেন। অথচ এই দুস্কর্মের সহযোগিতাকারী সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর নুসরাত জাহানকে ডেকে নিয়ে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে লাঞ্ছিত করে, সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেও তার কোন বিচার হচ্ছে না।

রিজভী উল্লেখ করেন, যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকার পুলিশ প্রশাসনের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পন করেছে । তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছে সরকার। কারন মিডনাইট নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে এখন রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে। এই সরকারের কর্মকান্ডে স্পষ্ট হচ্ছে এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। তারা জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য দোষীদের সাজা দেয়া হবে বলে অভিনয় করছে। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-দেশব্যাপী অনাচার বন্ধ করুন, দেশব্যাপী মারণযজ্ঞ বন্ধ করুন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন, চারিদিকের নৈরাজ্যে মানুষ নৈ:শব্দের অন্তর্লীন পদযাত্রায় ব্যস্ত থাকবে না, তারা জেগে উঠবেই। জনগণের স্মৃতির পর্দা ঝাপসা নয়, একদিন জনগণই সকল অপরাধের বিচার করবে।

সৈয়দপুর পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শামসুল আলম এবং ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আনারুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমি তাদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। 

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ